📄 পোল্যান্ড
তাতাররা যুদ্ধ করতে করতে পোল্যান্ডে এসে পৌঁছে। ইউরোপ অভিযানে পোল্যান্ডে এসে তাতাররা থেমে যায়। তাতাররা ইসলাম গ্রহণের পর পোলিশরা জার্মানির বিরুদ্ধে তাতারদের সাহায্য গ্রহণ করে। তাই কিছু মুসলিম তাতার সৈন্য পোল্যান্ডে থেকে যায় এবং স্থায়ীভাবে জীবনযাপন করতে থাকে। অনেক মসজিদ-মাদরাসাও প্রতিষ্ঠা করে তারা। উসমানি শাসনামলে স্বল্প সময়ের জন্য পোল্যান্ড উসমানি নিয়ন্ত্রণের অধীনে আসে। উসমানিরা পোল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। তারপর রাশিয়া, অস্ট্রিয়া ও বেলারুশ পোল্যান্ডকে ভাগ করে নেয়। মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি কয়েকবার তো পোল্যান্ডের নামই হারিয়ে যায়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পুনরায় পোল্যান্ডের আত্মপ্রকাশ ঘটে। তখন পোল্যান্ডে এক লাখেরও বেশি মুসলিম অবস্থান করে। তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি পোল্যান্ড দখল করে নেয়। যুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হয়। তখন রাশিয়ান বাহিনী পোল্যান্ডে ঢুকে পোল্যান্ডকে ওয়ারশ চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। এই চুক্তির নামে পোল্যান্ডের রাজধানীর নামকরণ করা হয়। রাশিয়া পূর্ব পোল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ে নেয়, এর পরিবর্তে পোল্যান্ডকে পূর্ব জার্মানির কিছু অঞ্চল দেয়। পোল্যান্ডে মুসলিমদের সংখ্যা কমতে শুরু করে। একপর্যায়ে মুসলিমদের সংখ্যা পঁচিশ হাজারে এসে পৌঁছে। আমরা জানি না, বাকিরা কোথায় হারিয়ে গেছে। হয়তো তাদেরকে দেশান্তর করা হয়েছে অথবা নিধন করা হয়েছে কিংবা তাদের অনেকেই রাশিয়ার অধিকৃত অঞ্চলে রয়ে গেছে।
📄 সাইপ্রাস
খলিফা উসমান বিন আফফান রা.-এর যুগে মুসলিমরা সাইপ্রাস বিজয় করে। সে সময়েই সাইপ্রাসে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। আবদুল মালিক বিন মারওয়ানের শাসনামলে রোম পুনরায় সাইপ্রাস দখল করে নেয়। তারপর থেকে উসমানিদের শাসনামলের পূর্বে আর মুসলিমরা সেখানে থিতু হতে পারেনি।
খলিফা দ্বিতীয় সেলিমের শাসনকালে উসমানিরা পুনরায় সাইপ্রাস জয় করে। তারপর ৯৭৯-১২৯৬ হিজরি (১৫৭২-১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত তিন শতাব্দীকাল মুসলিমদের অধীনে পরিচালিত হয় সাইপ্রাস। সাইপ্রাসে মুসলিমদের সংখ্যা দাঁড়ায় খ্রিষ্টানদের তিনগুণ। ১২৯৬ হিজরিতে ইংল্যান্ড উসমানিরদেরকে এই মর্মে চুক্তিতে আবদ্ধ হতে বাধ্য করে—উসমানিরা ইংল্যান্ডের জন্য সাইপ্রাস ছেড়ে দেবে, আর এর বিনিময়ে ইংল্যান্ড উসমানিদের সব ধরনের বহিরাক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।
ইংল্যান্ডের স্বার্থ উদ্ধার হওয়ার সাথে সাথেই সাইপ্রাসের জনসংখ্যার অনুপাত পাল্টে ফেলতে শুরু করে। গ্রিকদেরকে সাইপ্রাসে অভিবাসী হতে আগ্রহী করে তোলে তারা। মুসলিমদেরকে দ্বীপ ত্যাগ করতে চাপ দেয়। তখন অনেক মুসলিম হিজরত করে। গ্রিসে কয়েকটি আন্দোলন হয়। এর মাঝে একটি আন্দোলনে গ্রিসের সাথে সাইপ্রাসকে মিলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আরেকটিতে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান করা হয়। মুসলিমদের উপর চাপ বৃদ্ধি পায়। মুসলিমরা গ্রিসের সাথে মিলতে ভয় পায়। কারণ, ক্রিট গ্রীসের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ক্রিটের মুসলিমদের ধ্বংস করা হয়েছিল।
তারপর ১৩৮০ হিজরিতে (১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে) ইংল্যান্ড সাইপ্রাসকে স্বাধীনতা দেয়। স্বাধীনতা দেওয়ার শর্ত ছিল, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট হবে গ্রিকবংশোদ্ভূত, ভাইস প্রেসিডেন্ট হবে তুর্কি বংশোদ্ভূত। সে সময়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাইপ্রাসের মুসলিমদের জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৯%, গ্রিকদের ৭৮% এবং ইহুদিদের ৩%।
**দ্রষ্টব্য**
১৩৯৪ হিজরিতে (১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট তৃতীয় ম্যাকারিয়ুসের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। তুরস্ক আশঙ্কা করে, সাইপ্রাস গ্রিসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। তাই তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীকে সাইপ্রাসে অবতরণ করার আদেশ দেওয়া হয়। তুর্কি বাহিনী সাইপ্রাসের মুসলিমদেরকে গ্রিসের ক্রুসেডীয় বিদ্বেষ থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সাইপ্রাসের ৩৮% ভূখণ্ডে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। সাইপ্রাসের মুসলিমরা তুর্কি বাহিনীকে স্বাগত জানায়। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বর্তমানেও সাইপ্রাসে এই অবস্থা বিরাজ করছে।