📄 মোলদাভিয়া
মোল্দাভিয়া মূলত সার্বিয়ার ভূখণ্ড ছিল। পরে রাশিয়া উসমানিদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। তারপর রোমানিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর রাশিয়া পুনরায় মোলদাভিয়া দখল করে এবং রোমানিয়ার জন্য শুধু দুবরুজা ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়। মোলদাভিয়ায় অনেক মুসলিম বাস করত। মুসলিমদের ঐক্য ধ্বংস করার জন্য এবং মুসলিম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যকে দুর্বল করার জন্য রাশিয়া মোলদাভিয়াকে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করে। এক অংশ দেয় ইউক্রেনকে, আরেক অংশ রোমানিয়ার দখলে রয়ে যায়। আর বাকি অংশ নিয়ে গঠিত হয় মোলদাভিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রজাতন্ত্র।
১৪১১ হিজরি (১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত মোলদাভিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীন থাকে। তারপর স্বাধীনতা অর্জন করে। মোলদাভিয়ার মুসলিমদের ব্যাপারে আমাদের অবগতি খুবই কম। কারণ, সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসনামলে এবং স্বাধীনতার পরও কম্যুনিস্টরা মোলদাভিয়ার মুসলিমদের তথ্য গোপন রেখেছে। তাই তাদের সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়।
📄 হাঙ্গেরি
ভলগা নদীর অববাহিকা হয়ে মোঙ্গল বংশোদ্ভূত বাশকিরের কিছু মুসলিম গোত্রের হিজরতের মাধ্যমে হাঙ্গেরিতে ইসলাম প্রবেশ করেছে। হাঙ্গেরির চারপাশে খ্রিষ্টানদের বসবাস থাকা সত্ত্বেও হাঙ্গেরিয়ান মুসলিমরা ইসলামকে আঁকড়ে ধরে থাকে। তারপর ইউরোপ ক্রুসেড যুদ্ধের পরিকল্পনা করে। হাঙ্গেরির বাদশাহ লাদিপ্লাউস ছিল ক্রুসেডের সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থক। হাঙ্গেরিয়ান মুসলিমদেরকে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করতে কিংবা দেশত্যাগ করতে বাধ্য করে তারা।
আন্দালুস ও মরক্কো থেকে অনেক দাঈ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে হাঙ্গেরিতে আগমন করেছিলেন। খলিফা সুলাইমান কানুনির আমলে ৯৩৩ হিজরিতে (১৫২৭ খ্রিষ্টাব্দে) যখন হাঙ্গেরিতে উসমানি বিজয় সংঘটিত হয়, তখন হাঙ্গেরিতে মুসলিমদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল আড়াই লাখের অধিক। বুদাপেস্টে তিরাশিটিরও অধিক মসজিদ ছিল। অনেক ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্রও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
কিন্তু ১১১১ হিজরিতে (১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে) উসমানিরা হাঙ্গেরি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। তখন মুসলিমদের ওপর চালানো হয় নির্যাতনের স্টিমরোলার। অধিকাংশ মুসলিম হিজরত করে। বেশিরভাগ মসজিদ ধ্বংস করা হয়। যেগুলো ধ্বংসের হাত থেকে মুক্ত ছিল, সেগুলো গির্জায় পরিণত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া হাঙ্গেরিকে ওয়ারশ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। তারপর ১৪০৯ হিজরিতে (১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে) ওয়ারশ চুক্তি ভঙ্গ হয়ে যায়। হাঙ্গেরিতে এখনো হাজারো মুসলিম বাস করে। ১৪১৯ হিজরিতে (১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে) হাঙ্গেরি ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পথে এগিয়ে যায়।
📄 স্লোভাকিয়া
স্লোভাকিয়া বোহেমিয়া (চেক প্রজাতন্ত্র) সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। তারপর আহমাদ কোপরিলির নেতৃত্বে উসমানিরা স্লোভাকিয়া জয় করে নেয়। বেশকিছু উসমানি পরিবার স্লোভাকিয়ায় আবাস গড়ে তোলে। স্লোভাকিয়াবাসীদের কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর ১১১১ হিজরিতে (১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে) যখন ভলেন্ডের রাজা সুবেস্কি উসমানিদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে, তখন উসমানিরা স্লোভাকিয়া ত্যাগ করতে বাধ্য হয় এবং স্লোভাকিয়া অস্ট্রিয়ার অধীনে চলে যায়। অস্ট্রিয়া মুসলিমদের ওপর ক্রুসেডীয় বিদ্বেষ ঢেলে দেয়। তখন মুসলিমরা হিজরত করে। অনেককে হত্যা করা হয়।
অস্ট্রিয়া বোহেমিয়া তথা চেককে পদানত করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর চেকোস্লোভাকিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান চেকোস্লোভাকিয়া দখল করে নেয়। তারপর রাশিয়ান বাহিনী চেকোস্লোভাকিয়ায় প্রবেশ করে এবং ওয়ারশ চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করে নেয়।
কম্যুনিস্টরা চেকোস্লোভাকিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ১৪০৯ হিজরিতে (১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে) কম্যুনিজমের পতন ঘটে। চেক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে স্লোভাকিয়া থেকে আলাদা হয়ে যায়। চেক ও স্লোভাকিয়া দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ব্রাতিস্নাভা স্লোভাকিয়ার রাজধানী।
📄 অস্ট্রিয়া
উসমানিদের সাথে অস্ট্রিয়ার যুদ্ধ লেগেই থাকত। উসমানিরা ইউরোপে অস্ট্রিয়ার অনেক ভূখণ্ড দখল করে নেয়। এমনকি অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করে উসমানিরা দুবার ভিয়েনা অবরোধ করে। একবার খলিফা সুলাইমান কানুনির যুগে, আরেকবার খলিফা চতুর্থ মুহাম্মাদের যুগে। কিন্তু তারা অস্ট্রিয়া বিজয় করতে পারেনি। যখন উসমানিরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অস্ট্রিয়া উসমানি সাম্রাজ্যের থেকে শেষ অংশ পর্যন্ত টুকরো করে ফেলে, তখন মুসলিমরা অস্ট্রিয়ার অধিকৃত অঞ্চলগুলো থেকে অস্ট্রিয়ার মূল অংশে হিজরত করে। এই মুসলিমদের অধিকাংশই ছিল বসনিয়ান।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় উসমানি ও অস্ট্রিয়ার মাঝে ঐক্য সৃষ্টি হয়। বিশ্বযুদ্ধে উভয়ের পরাজয়ের মাধ্যমে এই ঐক্য শেষ হয়ে যায় এবং অনেক ভূখণ্ড তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। জার্মানি অস্ট্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। তারপর যখন জার্মানি পরাজিত হয়, তখন রাশিয়া প্রবেশ করে অস্ট্রিয়াতে। কিন্তু রাশিয়ানরাও অস্ট্রিয়া ত্যাগ করে। এরপর অস্ট্রিয়া প্রাচ্য কিংবা পাশ্চাত্যের কোনো সামরিক বাহিনীর সাথে যোগ দেয়নি।
পূর্বের তুলনায় অস্ট্রিয়ার আয়তন অনেক হ্রাস পায়। অস্ট্রিয়ায় মুসলিমরা সংখ্যালঘু। তাদের সংখ্যা পঞ্চাশ হাজারের বেশি।