📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মুহাম্মাদ আনোয়ার সাদাত

📄 মুহাম্মাদ আনোয়ার সাদাত


ইসরাইল কর্তৃক দখলীকৃত ভূমি থেকে সেনা প্রত্যাহার না করায় আনোয়ার সাদাত ইসরাইলের সাথে শান্তিচুক্তির প্রস্তুতি গ্রহণ করার কথা ঘোষণা করে। দখলীকৃত ভূমি থেকে ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহার করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত শান্তিচুক্তির চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আরব বুঝতে পারে, তাদের কলঙ্কের দাগ মুছতে এবং হারানো ভূমি ফিরিয়ে আনতে যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই। ফলে ১৩৯৩ হিজরিতে (১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে) রমজান মাসে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে আবর জয় লাভ করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ছয়দিনের যুদ্ধে দখলীকৃত ভূমি থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আরবকে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করাতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। আনোয়ার সাদাত শান্তিচুক্তি করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। এ উদ্দেশ্যে সে ফিলিস্তিনের দখলীকৃত ভূখণ্ডে সফর করে। তার এই সফরে আরব ও মুসলিমবিশ্ব ভীষণভাবে আহত হয়। কারণ, সে সময়ে ইসরাইল লেবাননে এবং দখলীকৃত অঞ্চলে আরব ও ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বরতা ও নৃশংসতার সবরকম পদ্ধতির চর্চা চালাচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সাদাতের এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে মিশরের সাথে আলোচনা করতে আগ্রহী হয়। মুসলিমবিশ্ব ও মিশরের মাঝে শত্রুতা ও বিচ্ছেদ বহাল থাকে। আরববিশ্বের মাঝে সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি অর্জনের জন্য ১৩৯৯ হিজরিতে (১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে) শান্তিচুক্তি সংঘটিত হয়। এই শান্তিচুক্তির মাধ্যমে মিশর ইসরাইল কর্তৃক দখলীকৃত ভূমি ফিরে পায়। আরববিশ্ব মিশরের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে। ইসলামকেন্দ্রিক বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। সাদাত এই বিদ্রোহের ক্ষেত্রে দমন-রাজনীতির অনুসরণ করে। ১৪০১ হিজরিতে (১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে) অক্টোবরের বিজয় স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আততায়ীর হাতে নিহন হয় আনোয়ার সাদাত। তারপর প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ হুসনি মুবারক ক্ষমতা গ্রহণ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00