📄 ৫২-এর বিদ্রোহ (১৩৭২ হিজরি)
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 মুহাম্মাদ নাজিব
বাদশাহর আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থানের সুযোগে স্বাধীনতাকামী নেতারা ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের জুলাইয়ে বিদ্রোহ করে বসে। বাদশাহকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তার দুধছেলেকে মিশরের শাসক নির্ধারণ করে এবং ইখওয়ানের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন অর্জন করে। তারপর রাজতন্ত্র বাতিল করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্রোহ পরিচালনা বোর্ডের প্রধান মুহাম্মাদ নাজিব গণপ্রজাতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়।
স্বাধীনতাকামী নেতাদের অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর সেনাবাহিনীর প্রধান জামাল আবদুন নাসেরের আত্মপ্রকাশ ঘটে। জামাল আবদুন নাসের মুহাম্মাদ নাজিবকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। সে আরব ঐক্যের আহ্বান জানায় এবং আরববিশ্ব ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের উপনিবেশের সমালোচনা করে।
জামাল আবদুন নাসের একনায়কতান্ত্রিক শাসন পরিচালন করে এবং একটি সমাজতান্ত্রিক দলের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। অন্য কোনো মত প্রকাশের কিংবা ব্যক্তির উত্থানের সব সুযোগ বন্ধ করে দেয়। তার শাসনামলে মিশর ও সিরিয়া মিলে সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়। কিন্তু এই সংযুক্ত প্রজাতন্ত্র বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন পরই সিরিয়া এই প্রজাতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসে। মিশরীয় সেনাবাহিনীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ইয়ামেনের জলাভূমিতে। তারপর আরব ও মিশরীয় বাহিনীর কপালে কলঙ্কতিলক এঁকে দিতে সংঘটিত হয় ৬৭-এর ট্র্যাজেডি। ১৩৯০ হিজরিতে (১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে) জামাল আবদুন নাসের মৃত্যুবরণ করে।
📄 মুহাম্মাদ আনোয়ার সাদাত
ইসরাইল কর্তৃক দখলীকৃত ভূমি থেকে সেনা প্রত্যাহার না করায় আনোয়ার সাদাত ইসরাইলের সাথে শান্তিচুক্তির প্রস্তুতি গ্রহণ করার কথা ঘোষণা করে। দখলীকৃত ভূমি থেকে ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহার করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত শান্তিচুক্তির চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আরব বুঝতে পারে, তাদের কলঙ্কের দাগ মুছতে এবং হারানো ভূমি ফিরিয়ে আনতে যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই। ফলে ১৩৯৩ হিজরিতে (১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে) রমজান মাসে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে আবর জয় লাভ করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ছয়দিনের যুদ্ধে দখলীকৃত ভূমি থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আরবকে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করাতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। আনোয়ার সাদাত শান্তিচুক্তি করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। এ উদ্দেশ্যে সে ফিলিস্তিনের দখলীকৃত ভূখণ্ডে সফর করে। তার এই সফরে আরব ও মুসলিমবিশ্ব ভীষণভাবে আহত হয়। কারণ, সে সময়ে ইসরাইল লেবাননে এবং দখলীকৃত অঞ্চলে আরব ও ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বরতা ও নৃশংসতার সবরকম পদ্ধতির চর্চা চালাচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সাদাতের এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে মিশরের সাথে আলোচনা করতে আগ্রহী হয়। মুসলিমবিশ্ব ও মিশরের মাঝে শত্রুতা ও বিচ্ছেদ বহাল থাকে। আরববিশ্বের মাঝে সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি অর্জনের জন্য ১৩৯৯ হিজরিতে (১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে) শান্তিচুক্তি সংঘটিত হয়। এই শান্তিচুক্তির মাধ্যমে মিশর ইসরাইল কর্তৃক দখলীকৃত ভূমি ফিরে পায়। আরববিশ্ব মিশরের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে। ইসলামকেন্দ্রিক বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। সাদাত এই বিদ্রোহের ক্ষেত্রে দমন-রাজনীতির অনুসরণ করে। ১৪০১ হিজরিতে (১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে) অক্টোবরের বিজয় স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আততায়ীর হাতে নিহন হয় আনোয়ার সাদাত। তারপর প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ হুসনি মুবারক ক্ষমতা গ্রহণ করে।