📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আব্বাস

📄 আব্বাস


আব্বাসের এক অদ্ভুত ধারণা ছিল। সে মনে করত, জ্ঞানবিজ্ঞানে জনগণের অগ্রগতি আব্বাসের ক্ষমতার জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই সে প্রগতি ও উন্নতির সব নিদর্শন নিশ্চিহ্ন করে দেয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান সে বন্ধ করে দেয়। তুরস্কের সাথে মিলে শাসনব্যবস্থাও পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করে, যাতে কেবল তার বংশধরদের মাঝেই মিশরের শাসনক্ষমতা সীমাবদ্ধ থাকে এবং (পূর্বের নিয়ম অনুসারে) মুহাম্মাদ আলির পরিবারের সবচেয়ে বড় সদস্য যেন ক্ষমতায় আরোহণ করতে না পারে। কিন্তু তার এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এই চেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় সে তার প্রাসাদে নিহত হয়। সে কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ার মাঝে রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছিল।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সাইদ

📄 সাইদ


সাইদ হলো মুহাম্মাদ আলির ছেলে। তার ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মধ্য হতে অন্যতম হলো, সে মিশরের স্বৈরশাসন হালকা করে। ভূমির মালিকানা লাভের অধিকার প্রদান করে। এরপর অনেক মিশরীয় জনগণ জমি কিনতে শুরু করে। বড় বড় চাকরি নিতে শুরু করে। সাইদ সুশীল, কৃষক ও নগরপতির সন্তানের মধ্য হতে সমান হারে সৈন্য সংগ্রহের নিয়ম চালু করে। ইতিপূর্বে শুধু কৃষকদের সন্তানদেরকেই সেনাবাহিনীতে নেওয়া হতো। আলেকজান্দ্রিয়া ও কায়রোর মধ্যকার রেললাইনের কাজও সে সমাপ্ত করে।

তার নেতিবাচক কাজগুলো হলো, তার আমলে 'নেপোলিয়নের সাথে মৈত্রী'-এর কারণে মিশরীয় সেনাবাহিনী মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ফ্রান্সকে সাহায্য করে। বহিরাগতদের সে বড় ধরনের সুবিধা প্রদান করে। সুয়েজ খাল খননে সতেরো মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে, যা সামগ্রিকভাবে আঠারো মিলিয়নে গিয়ে দাঁড়ায়। জনগণকেও খাল খননে বাধ্য করে। এতকিছুর পরও সাইদ সুয়েজ খালের মাত্র ১৫% লাভ গ্রহণ করে বাকি অংশ ইউরোপকে দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়। এমনকি ৯৯ বছরের জন্য সে ইউরোপকে এই সুযোগ দান করে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ইসমাইল

📄 ইসমাইল


ইসমাইল বিন ইবরাহিমের শাসনামলে ধর্মীয় বিষয়ে অবহেলা, পাশ্চাত্যের অনুকরণ, ঋণের আধিক্য ও বিলাসিতার দিক থেকে মিশর এক কদর্য রূপ ধারণ করে। তবে রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তার বেশকিছু সাফল্য রয়েছে। নীলনদের উৎস ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে নীলনদের মোহনা ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পৌঁছে যায় ইসমাইলের আফ্রিকান বিজয়াভিযান। আবিসিনিয়ার বহু অঞ্চল সে মিশরের অন্তর্ভুক্ত করে। সোমালিয়াতেও যুদ্ধ পরিচালনা করে উত্তরাঞ্চল দখল করে। সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সে মিশর ও সুদানে অনেক বিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। সভ্যতার ক্ষেত্রে নগর নির্মাণ, সংস্কার ও হাসপাতাল নির্মাণে গুরুত্বারোপ করে।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সে মুহাম্মাদ আলি পরিবারের সবচেয়ে বড় সদস্যকে ক্ষমতা প্রদানের পরিবর্তে তার পরিবারের বড় সদস্যকে ক্ষমতা অর্পণ করার নিয়ম করে। সাইদও এই পরিবর্তন করতে চেয়েছিল, কিন্তু ইসমাইল তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়। ইসমাইলের শাসনামলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ সেনাসংখ্যার নিয়ম থেকে বেরিয়ে এসে মিশর সেনাসংখ্যা বৃদ্ধির অধিকার লাভ করে। সাইদের আমলে সুয়েজ খাল খননে বিনা পারিশ্রমিকে জোরপূর্বক শ্রম দেওয়ার যে নিয়ম করা হয়েছিল, তা রহিত করে ইসমাইল। জনগণকে কাজে লাগানোর পরিবর্তে সুয়েজ খাল সংস্থাকে তিন মিলিয়ন উনিশ হাজার পাউন্ড প্রদানের ব্যাপারে ঐকমত্য প্রকাশ করে সে। বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে মিশরও দাসমুক্তি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়া ইসমাইল তার জন্য এবং তার অনুসারীদের জন্য 'খেদিভ' (ডেপুটি সুলতান) উপাধি চালু করে। এর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে সে।

তার নেতিবাচক দিকগুলো হলো, তার শাসনামলে বিলাসিতা ও ঋণ বেড়ে যায়। সুয়েজ খাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পেছনেই তার কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়ে যায়। সেই অনুষ্ঠানে ইউরোপের রাজা-বাদশাহদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। উপস্থিতদের প্রদর্শনের জন্য অপেরা হাউজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। অভ্যর্থনার জন্য বিভিন্ন প্রাসাদ ও পার্ক নির্মাণ করা হয়। এসব করতে গিয়ে সে চড়া সুদের বিনিময়ে ঋণ গ্রহণ করে এবং সুয়েজ খালের মিশরীয় অংশ ইংল্যান্ডের কাছে বিক্রি করে দেয়। এর কারণে মিশরের ওপর ইংল্যান্ডের শক্তিশালী প্রভাব পড়ে। ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রগুলো তাদের ঋণ চাইতে শুরু করে। ঋণ পরিশোধে খেদিভের অক্ষমতা দেখে মিশরের রাষ্ট্রীয় কোষাগার রক্ষণাবেক্ষণ ও ঋণ আদায়ের জন্য ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক কমিটি নির্ধারণ করে। এই কমিটি মিশরের সমস্ত বিষয়; এমনকি মন্ত্রী নির্ধারণ ও বরখাস্তকরণেও নাক গলাতে শুরু করে।

ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রগুলো আফ্রিকায় ইসমাইলের প্রভাব দেখে আশঙ্কা করতে শুরু করে, আফ্রিকান কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে ইসমাইল তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। তাই উসমানি খলিফা কর্তৃক ইসমাইলকে ক্ষমতাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়। মুহাম্মাদ আলির মতো পরিণতি বরণ করার আশঙ্কায় ইসমাইল এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করতে পারে না।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তাওফিক ও মিশরে ইংরেজ উপনিবেশ

📄 তাওফিক ও মিশরে ইংরেজ উপনিবেশ


তাওফিক ছিল দুর্বল। সে ইউরোপের সাথে গভীর সম্পর্ক রাখত। মনে করা হয়, তাকে ক্ষমতায় আনার ক্ষেত্রে ইউরোপের বড় ধরনের ভূমিকা ছিল। তার শাসনকালে ১২৯৮ হিজরিতে (১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে) অত্যাচারী কর্মকর্তাদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য দুইবার আরাবিয়া বিদ্রোহ হয়। খেদিভ আরাবিয়া বিদ্রোহে আনুগত্য প্রকাশ করে এবং ক্রমশ দুর্বল হতে থাকা প্রধান কার্যালয় হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করতে থাকে।

ইংরেজরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিশরে ঢুকে প্রধান কার্যালয় রক্ষা করার প্রস্তাব পেশ করে। তাওফিক প্রস্তাব মেনে নেয়। অবশেষে ইংরেজরা মিশরে ঢুকতে শুরু করে। আহমাদ আরাবি ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। কিন্তু তিনি তিল্ল আল-কাবিরের যুদ্ধে পরাজিত হন। মিশর ইংরেজ কর্তৃত্বের অধীনে চলে আসে। খেদিভ তাওফিকই এই কর্তৃত্বকে সমর্থন করত। সে মনে করত, ইংরেজরা তার ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখবে। আরবি ও তার সঙ্গীদেরকে শ্রীলঙ্কায় নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তাওফিকের শাসনামলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল সুদানের মাহদিয়া বিদ্রোহ। ইংরেজদের পরিকল্পনা ছিল, মিশর সুদান ত্যাগ করবে। তারপর ইংরেজরা এসে সুদান দখল করে নেবে। একপর্যায়ে ইংরেজরা সুদান থেকে সেনাপ্রত্যাহার করার জন্য মিশরকে চাপ দিতে শুরু করে। ফলে মাহদিয়া বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এই বিদ্রোহ মিশরীয় কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে নানামুখী বিজয় এনে দেয় এবং মিশরীয় সেনাবাহিনী সুদান ত্যাগ করে। ইংল্যান্ডের সামনে সুযোগ চলে আসে। ইংল্যান্ড আগে থেকেই চাইত, সুদানে মিশরের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনবে। ইংল্যান্ড মাহদিয়ার বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে সুদানে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে সুদানকে মিশরের অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়। অথবা আরও সঠিক অর্থে বলা যায়, ইংরেজ কর্তৃত্বের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। একে বলা যায় ইংরেজ-মিশরীয় দ্বিপাক্ষিক শাসন।

তাওফিক ১৩১০ হিজরিতে (১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে) ইনতেকাল করে। তার ছেলে আব্বাস হিলমি তার স্থলাভিষিক্ত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00