📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সিরিয়া

📄 সিরিয়া


আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, সিরিয়ার বাকি অঞ্চল থেকে লেবানন ও আলেকজান্দ্রিয়া আলাদা হওয়ার পর ফরাসিরা সিরিয়াকে কয়েকটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করে ফেলে। কিন্তু এসব রাষ্ট্রের শাসকগণ এই বিভক্তিকে অস্বীকার করে। নিজেদের ইচ্ছাতেই একরাষ্ট্র হওয়ার ঘোষণা দেয় তারা।

১৩৬৬ হিজরিতে (১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে) সিরিয়া ফরাসিদের দখল থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। সিরিয়াকে মনে করা হয় শামের উত্তরাধিকার, আর অন্যান্য রাষ্ট্রকে শামের হারানো সম্পদের অংশ বলে বিবেচনা করা হয়। স্বাধীন সিরিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিল শুকরি আল-কুয়াইতলি। তারপর ১৩৬৮-১৩৬৯ হিজরির (১৯৪৯-১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের) মাঝে সিরিয়ায় তিনটি অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। প্রথমে হুসনি আল-জাইমের অভ্যুত্থান, তারপর সামি আন-নাদি এবং আদিব আশ-শিশাকলির অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। তারপর ১৩৭৩ হিজরিতে (১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে) সাংবিধানিক জীবনাচার ও নির্বাচন ফিরিয়ে আনতে ফয়সাল আল-আতাসির নেতৃত্বে সংঘটিত হয় সামরিক অভ্যুত্থান। অভ্যুত্থানের পর প্রথমে হাশিম আল-আতাসি গণপ্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। এরপর ১৩৭৫ হিজরিতে (১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে শুকরি আল-কুয়াইতলি পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়।

১৩৭৫ হিজরিতে (১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে) মিশর ও সিরিয়ার মাঝে আরব ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এই ঐক্যের মাধ্যমে জামাল আবদুন নাসেরের রাষ্ট্রপতিত্বে সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই সংযুক্ত প্রজাতন্ত্র মাত্র চার বছর টিকে থাকে। ১৩৮১ হিজরিতে (১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে) সিরিয়ায় আরেকটি অভ্যুত্থান হয় এবং অভ্যুত্থানে নাজিম আল-কুদসি রাষ্ট্রপতিত্ব লাভ করে। সিরিয়ায় এভাবে একের পর এক অভ্যুত্থান হতেই থাকে। ১৩৮১ হিজরির শেষদিকে আরও একটি অভ্যুত্থান হয়, কিন্তু নাজিম আল-কুদসি তার পদে বহাল থাকে। মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসে। পূর্ববর্তী অভ্যুত্থানের নেতাদেরকে দেশান্তর করা হয়। তারপর বিচ্ছিন্নবাদীদের নেতারা আবার দেশে ফিরে এসে ১৩৮২ হিজরিতে নতুন করে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তারপর ১৩৮২ হিজরির (১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের) শেষদিকে আরেকটি অভ্যুত্থান হয় এবং লুআই আতাসির নেতৃত্বে একটি বিপ্লব-পরিষদ গঠন করা হয়। লুআই আতাসি পুনরায় মিশরের সাথে ঐক্য স্থাপনের এবং ইরাককেও এই ঐক্যে আনার চেষ্টা করে।

কিন্তু কিছুদিন পর ১৩৮৩ হিজরিতেই (১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দেই) পিপলস পার্টির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা বিচ্ছিন্নবাদীদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। তাদের মধ্য হতে আমিন হাফিজ ক্ষমতা গ্রহণ করে। তারপর ১৩৮৬ হিজরির (১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের) বাথ পার্টির একটি শাখার মাধ্যমে আরেকটি অভ্যুত্থান হয় এবং নুরুদ্দিন আতাসি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি হয়। তারপর প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল-আসাদ ১৩৯০ থেকে ১৪২০ হিজরি (২০০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত এককভাবে কর্তৃত্ব করে। এরপর হাফিজ আল-আসাদের পুত্র বাশার আল-আসাদ তার স্থলবর্তী হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 লেবানন

📄 লেবানন


১৩৬৬ হিজরিতে (১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে) যখন লেবানন ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ করে, তখন বাশারা আল-খুরি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির পদ লাভ করে। ১৩৭১ হিজরি পর্যন্ত সে এই পদে বহাল থাকে। লেবাননের যে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তা হলো, লেবানন নানা ধর্মে বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি রাষ্ট্র। লেবাননের জনগণের মধ্যে শিয়া ২৮%, ম্যারোনাইট ২৪%, সুন্নি ১৯%, অর্থোডক্স ৯%, দরজি ৬%, ক্যাথলিক ৬% এবং আর্মেনিয়ান ৫%।

ফরাসিরা লেবানন সাম্রাজ্য তৈরি করেছিল কেবল খ্রিষ্টানদের কর্তৃত্ব করার জন্য। আরও নির্দিষ্ট করে বলা যায়, শুধু ম্যারোনাইটদের জন্য। ফরাসিরা লেবাননের রাজনীতির বিন্যাস করেছিল এভাবে যে, রাষ্ট্রপতি হবে ম্যারোনাইট, প্রধানমন্ত্রী সুন্নি, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার শিয়া, সুপ্রিম কমান্ডার ও গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হবে ম্যারোনাইট, আর চিফ অব স্টাফ হবে দরজি। পার্লামেন্ট ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদ বণ্টিত হয়েছিল বিভিন্ন মুসলিম ও খ্রিষ্টান গোত্রগুলোর মাঝে। কিন্তু যখন গণপ্রজাতন্ত্রী লেবানন প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন লেবানন একটা টাইমবোমাতে পরিণত হলো। যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

প্রতি ছয় বছর পর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নিয়ম করা হয়। ১৩৭১ হিজরিতে (১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে) কামিল শামউন লেবাননের রাষ্ট্রপতি নিবাচিত হয়। তার মেয়াদ শেষে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এই পদ্ধতি পরিবর্তনের চেষ্টা করে সে। এই কাজ করতে গিয়ে তাকে বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়। ১৩৭৮ হিজরিতে (১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে) যখন কামেল শামউন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাহায্য চায়, তখন গৃহযুদ্ধের আগুন জ্বলে ওঠার উপক্রম হয়। কিন্তু আল্লাহ সে সময় লেবাননকে রক্ষা করেন। যুক্তরাষ্ট্র লেবানন ত্যাগ করে চলে যায়।

১৩৭৮ হিজরিতে ফুয়াদ শিহাব নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়। তারপরই ১৩৮৪ হিজরিতে (১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে) রাষ্ট্রপতি চার্লস হোলু দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়। চার্লস হোলুর আমলেই ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ৬৭-এর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ইহুদিদের দখলীকৃত অঞ্চল থেকে বিতাড়িত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে লেবাননে। তারপর ১৩৮৯ হিজরিতে (১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে) লেবাননের প্রধানমন্ত্রী রশিদ কারামি প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুন নাসেরের সাথে 'কায়রো এরেজমেন্ট' চুক্তি করে। কায়রো এরেজমেন্ট চুক্তিতে লেবাননে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য শরণার্থী শিবির তৈরি করার কথা উল্লেখ করা হয়।

তারপর ১৩৯০ হিজরিতে (১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে) সুলাইমান ফ্রেইঙ্গ রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করে। তার শাসনামলে লেবাননে ফিলিস্তিনি মুভমেন্ট এবং সীমান্তে ইহুদিদের ওপর আত্মঘাতী হামলা বেড়ে যায়। লেবাননে ফিলিস্তিনি শক্তি বাড়তে থাকে। এমনকি বলা হতে থাকে, লেবাননই ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র ছিল। লেবানিজ সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অক্ষম হয়ে পড়ে। ইসরাইল লেবাননে গেরিলা হামলা চালাতে শুরু করে। ইসরাইলি গোয়েন্দা বাহিনী ‘পিএলও’ বা প্যালেস্টাইন মুক্তি সংস্থার নেতাদের ওপর গুপ্তহত্যা চালাতে থাকে। পুরো লেবানন অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

**লেবাননের গৃহযুদ্ধ (১৩৯৫ হিজরি/১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ)**

১৩৯৫ হিজরিতে লেবাননের বিভিন্ন দলের মাঝে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। খ্রিষ্টানরা লেবাননে ফিলিস্তিনিদের বড় ধরনের ক্ষমতা অনুভব করে, যা অন্য কেউ বুঝতে পারে না। এই সময়ে লেবাননের মুসলিমরা যেমন ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করতে থাকে, তেমনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল লেবাননে ফিলিস্তিনিদের অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ফিলিস্তিনিদের লেবাননে অবস্থান ইহুদিদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই লেবাননে গৃহযুদ্ধ লাগানোর পেছনে ইসরাইল ও পাশ্চাত্য দেশগুলো বড় ভূমিকা পালন করে।

লেবাননের গৃহযুদ্ধের সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য দামেশকে ১৩৯৬ হিজরিতে (১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে) আরবদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সিরিয়ান সেনাবাহিনীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য লেবাননে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ১৩৯৬ হিজরিতে ইলিয়াস সার্কেস লেবাননের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়। ১৩৯৭ হিজরিতে (১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে) অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইসরাইল হঠাৎ লেবাননে আক্রমণ করে দক্ষিণ লেবানন দখল করে নেয়। পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। প্রতিটি দলের মাঝে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে সিরিয়ান বাহিনী লেবাননে প্রবেশ করে ফিলিস্তিনি বিদ্রোহী ও বিদ্রোহীদের সাহায্যকারী বিভিন্ন মুসলিম দলকে দমন করার জন্য। সিরিয়ান বাহিনী তাদের মিশনে সফল হওয়ার পর ফিলিস্তিনিরা ও অন্যান্য মুসলিমরা সিরিয়াকে সাহায্য করার ঘোষণা দেয়। সিরিয়ান বাহিনী খ্রিষ্টান মিলিশিয়াদের দিকে অগ্রসর হয়।

খ্রিষ্টান মিলিশিয়ারা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাহায্য চায়, কিন্তু ইসরাইলের কাছে আশ্রয় নিতে বাধ্য করার জন্য ইউরোপ কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কিছুই করে না মিলিশিয়াদের জন্য। অবশেষে সত্যিসত্যিই খ্রিষ্টান মিলিশিয়ারা ইহুদিদের সাথে যুক্ত হয়। ইহুদিরা এটাকে লেবাননের অবস্থা আরও শোচনীয় করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। ইহুদিরা খ্রিষ্টান মিলিশিয়াদের প্রশিক্ষণ দেয়। সিরিয়ান সেনাবাহিনী, ফিলিস্তিনি ও লেবাননের মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তারা আধুনিক আমেরিকান অস্ত্র দিয়ে মিলিশিয়াকে সাহায্য করে।

লেবাননের পরিস্থিতি ক্রমেই শোচনীয় হয়ে পড়ে। ম্যারোনাইট ও খ্রিষ্টানরা লেবাননে তাদের কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে না পেরে ইসরাইলকে সরাসরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানায়। ইহুদিরা তাদের আহ্বানে সাড়া দেয়, যা তাদেরকে আরও বেশি ভূখণ্ড দখল ও মুসলিম নিধনে সাহায্য করে। ১৪০২ হিজরিতে (১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে) ইসরাইল লেবাননে আক্রমণ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ক্লাস্টার বোমা ও আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করে।

ইহুদিরা বৈরুত পর্যন্ত পৌঁছে যায়। বৈরুতকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। পূর্বাঞ্চল ছিল খ্রিষ্টানদের আর পশ্চিমাঞ্চল ছিল মুসলিমদের। ইহুদিরা বৈরুতে পৌঁছতেই খ্রিষ্টানরা পূর্বাঞ্চলের সব প্রবেশপথ উন্মুক্ত করে দেয়। ইহুদিরা পূর্ব-বৈরুতে ঢুকে পড়ে। কিন্তু মুসলিমরা পশ্চিম-বৈরুতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ইহুদিদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার জন্য মরণপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। সিরিয়ান বাহিনীর সাহায্যপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ মুসলিমদের সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয় ইসরাইলের। ইসরাইলরা আর এগিয়ে যেতে পারে না।

ইহুদিরা লেবানন ধ্বংস করার পর এবং তাদের আক্রমণাত্মক যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করার পর বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। ফিলিস্তিনিরা লেবানন ত্যাগ না করলে তাদেরকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় ইসরাইল। কিন্তু সর্বশেষ শক্তি থাকা পর্যন্ত ফিলিস্তিনিরা এই হুমকি প্রত্যাখ্যান করে। তখন এই দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আগমন ঘটে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে পা রাখতে না রাখতেই ফিরে যায়। সে সময় বশির আল-জামিল লেবাননের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। (বশির আল-জামিল ছিল খ্রিষ্টান কাটায়েব পার্টির একজন নেতা। এই পার্টি ইসরাইলকে লেবাননে আক্রমণ করার আহ্বান জানায়।) লেবানিজরা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ইসরাইল যে বছর লেবাননে আক্রমণ করে, সে বছরেই বশির আল-জামিল আততায়ীর হাতে নিহত হয়। এরপর বশির আল-জামিলের ভাই আমিন আল-জামিল রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করে।

ইসরাইল বশির আল-জামিলের হত্যাকাণ্ডকে কাজে লাগায়। পশ্চিম-বৈরুতের সাবরা ও শাতিলায় ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে গণহত্যায় খ্রিস্টান কাটায়েব পার্টি ইসরাইলকে সাহায্য করে। ইসরাইল কাটায়েব পার্টিকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে এবং সৈন্যদের পাহারা দেয়। কাটায়েব পার্টি সাবরা ও শাতিলার শরণার্থী শিবিরে ঢুকে হাজার হাজার নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। এরপরই ইসরাইল মুসলিম গণহত্যা চালায়। ১৩৯৪ হিজরিতে (১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে) আইনুল হালওয়ায় এই গণহত্যা সংঘটিত হয়।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আমিন আল-জামিল যুক্তরাষ্ট্রকে লেবাননের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য হস্তক্ষেপ করতে বলে। যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সহায়তায় এক বহুজাতিক বাহিনী গঠন করে লেবাননে প্রবেশ করে। কিন্তু আত্মঘাতী হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্র টিকতে পারে না। লেবাননে আমেরিকান সেনা ঘাঁটিতে একটি আত্মঘাতী হামলা হয়। সেই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র শত শত সৈন্য হারায়। ইসরাইল বুঝতে পারে, তারা নিজেদেরকে লেবাননের অথই জলে এনে ফেলেছে। তাই তারা লেবানন থেকে আংশিকভাবে চলে যেতে শুরু করে। ইসরাইল দক্ষিণ-লেবাননের বেকা ভ্যালি এবং ১৪০৫ হিজরিতে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে রাখা তাদের দখলীকৃত ও সুরক্ষিত অঞ্চল টিকিয়ে রাখে। লেবাননের পরিস্থিতি উত্তপ্তই রয়ে যায়। শিয়া মতাদর্শী হিজবুল্লাহর হাত ধরে লেবাননে ইরানি কর্তৃত্বের উদ্ভব ঘটে। ইসরাইলের প্রতিনিধিত্বকারী লেবানিজ সৈন্যদের মাঝে ইসরাইলি কর্তৃত্ব বিস্তার লাভ করে। সেই সৈন্যরা লেবাননে ইসরাইলকে শক্তিশালী করার জন্য ইহুদিদের সাথে যোগ দেয়।

লেবানিজ জনগণ বুঝতে পারে, লেবাননে যা কিছু ঘটেছে, তাতে শুধু ইসরাইল লাভবান হবে। তারা বুঝতে পারে, প্রকৃত শত্রু ও ইসরাইলের প্রতিনিধিদের (যাদের সংখ্যা ছিল লেবানিজ বাহিনীর মাত্র ৮%-এর মতো) মোকাবিলা করতে লেবনিজদের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। অবশেষে ১৪১০ হিজরিতে (১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে) তায়িফ চুক্তির মাধ্যমে লেবাননে গৃহযুদ্ধ শেষ হয়। কিন্তু ইসরাইল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নতুন করে গৃহযুদ্ধ বাধাতে চায়।

চেষ্টা করে। রাষ্ট্রপতির গাড়িতে মাইন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গাড়ি চলার মাঝে বোমা বিস্ফোরিত হয়ে রাষ্ট্রপতিসহ আরও দশজন নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়। কিন্তু লেবানিজ জনগণ গৃহযুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে।

এরপর ইলিয়াস হারাবি রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করে। পরবর্তী কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে এমিল লাহুদ রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রিত্ব দেওয়া হয় রফিক হারিরিকে। ২০০৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি (১৪২৬ হিজরিতে) বোমা হামলার শিকার হয় রফিক আল-হারিরির গাড়িবহর। সেই হামলায় তিনি নিহত হন। তার মৃত্যু লেবাননকে আবারও সেই পুরোনো সংঘাতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

**গৃহযুদ্ধের পর লেবানন**

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলতে থাকা গৃহযুদ্ধে লেবানন তার সব সম্পদ হারায়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর লেবানন তার ক্ষত সারিয়ে তোলার চেষ্টা করে। লেবানন সরকার সব দলের কাছ থেকে অস্ত্র জমা নেয়। শিয়া মতাদর্শী হিজবুল্লাহ ব্যতীত সব দল সরকারের সিদ্ধান্তের সাথে একমত হয়ে লেবানন সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে। যদিও এর ফলে লেবাননে নতুন করে দুর্ভাগ্যের বীজ বপন করা হয়, কিন্তু তারপরও দক্ষিণ-লেবাননে ইসরাইলি দখলের বিরুদ্ধে লেবানিজদের সহযোগিতা করে হিজবুল্লাহ যে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, তা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। ইসরাইলি শক্তি ও তার অনুগত বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত অনেক আত্মঘাতী হামলা ও উত্তর ইসরাইলে কাত্যুশা রকেট হামলায় হিজবুল্লাহ অংশগ্রহণ করে। ইসরাইল লেবানিজ সেনাছাউনি ও হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে লাগাতার আক্রমণ করে প্রতিরোধ শক্তি ধ্বংস করার চেষ্টা চালায়। এমনকি ইসরাইলি সরকারের সদস্যরা লেবাননে লাগাতার ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। ১৪১৬ হিজরিতে (১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে) সংঘটিত কানার গণহত্যা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। পেরিজ সরকার ইসরাইলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পূর্বে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই গণহত্যা চালায়। কিন্তু তুমুল প্রতিরোধের মুখে ইসরাইল দক্ষিণ লেবানন ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 জর্দানের হাশেমি সাম্রাজ্য

📄 জর্দানের হাশেমি সাম্রাজ্য


আমরা পূর্বেই জর্দানের হাশেমি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাস জেনেছি। আমরা জেনেছি যে, জর্দানের হাশেমি সাম্রাজ্য ছিল পূর্ব জর্দানের একটি প্রদেশ। বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন শরিফ হুসাইনকে যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ১৩৬৬ হিজরিতে (১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে) জর্দান ব্রিটেনের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৩৬৮ হিজরিতে (১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে) জর্দান আরবের সাথে ফিলিস্তিন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। যুদ্ধের পর বাদশাহ আবদুল্লাহ জর্দান নদীর পশ্চিম তীর দখল করে নেয় এবং গ্রেট সিরিয়া প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সিরিয়া, জর্দান, লেবানন ও ফিলিস্তিন আবদুল্লাহর শাসনাধীন হয়ে পড়ত। কিন্তু এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। ১৩৭১ হিজরিতে (১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে) বাদশাহ আবদুল্লাহ জেরুজালেমে আততায়ীর হাতে নিহত হয়। তারপর যুবরাজ তালাল ক্ষমতা লাভ করে। কিন্তু মানসিক অসুস্থতার অভিযোগে ১৩৭৩ হিজরিতে তাকে পদচ্যুত করা হয়। তালালের পর তার ছেলে বাদশাহ হুসাইন রাজক্ষমতা লাভ করে।

বাদশাহ হুসাইনের শাসনামলে ইরাকের সাথে জর্দানের ঐক্য সম্পাদিত হয়। তখন ইরাক শরিফ পরিবারের অধীনে ছিল। তারপর ইরাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হলে এই ঐক্য ভঙ্গ হয়ে যায়। তার শাসনকালেই ইতিহাসবিখ্যাত ৬৭-এর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। জর্দান এই যুদ্ধে জর্ডান নদীর পশ্চিমাঞ্চল ও ফিলিস্তিন সংলগ্ন একটি সরু উপত্যকা হারায়।

১৩৯৯ হিজরিতে (১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে) মিশরের সাথে আরববিশ্ব সম্পর্ক ছিন্ন করার পর জর্দানই প্রথম পুনরায় মিশরের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আরব দেশসমূহ ১৩৯৪ হিজরিতে (১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে) এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, ফিলিস্তিনের যে ভূখণ্ড স্বাধীন হবে, তা ফিলিস্তিনিদেরই থাকবে। জর্দান এই সিদ্ধান্তে ঐকমত্য প্রকাশ করে। ১৪১১ হিজরির (১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের) উপসাগরীয় যুদ্ধে শুরুর দিকে ইরাকের পক্ষ নেওয়া জর্দানের ব্যতিক্রমী অবস্থান ছিল। যুদ্ধের পর পরই জর্দান সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ১৪১৫ হিজরিতে (১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে) ইয়ারিব উপত্যকায় ইসরাইলের সাথে শান্তিচুক্তি করে। পরবর্তীকালে ইয়ারিব উপত্যকার নাম হয়ে যায় শান্তির উপত্যকা। শান্তিচুক্তির মাধ্যমে ৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল কর্তৃক দখলীকৃত সরু উপত্যকা ফিরে পায় জর্দান। কিন্তু এই চুক্তির কিছু পয়েন্ট ছিল অদ্ভুত। যেমন: জর্দানের দুটি বসতি ইসরাইলের সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, প্রিন্সিপাল ল্যান্ড ফর পিচ এর সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তারা ইসরাইলকে পঁচিশ বছর ভাড়া প্রদান করবে।

জর্দানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জর্দান স্বল্প সম্পদের দেশ হিসেবে পরিচিত। জর্দান মূলত পাশ্চাত্যের সাহায্যের ওপর নির্ভর করে। ১৩৮৭ হিজরিতে (১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে) পাশ্চাত্য থেকে অমুখাপেক্ষী করে তুলতে এবং বাজেট পূরণ করতে মিশর, সিরিয়া ও সৌদি আরব জর্দানকে ১২ মিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করে। কিন্তু পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের কারণে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ১৪১৯ হিজরিতে (১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে) বাদশাহ হুসাইন ইনতেকাল করে। তার ছেলে বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ তার স্থলাভিষিক্ত হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ফিলিস্তিন ও আরব-ইসরাইল সংঘর্ষ

📄 ফিলিস্তিন ও আরব-ইসরাইল সংঘর্ষ


**ফিলিস্তিন দখলের ইহুদিবাদী পরিকল্পনা**

আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, উসমানি শাসনামলে স্প্যানিশরা মুসলিম ও ইহুদিদের স্পেন থেকে বিতাড়িত করে। পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও ইহুদিদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায়। উসমানি সাম্রাজ্য ব্যতীত অন্য কোনো আশ্রয় খুঁজে পায় না ইহুদিরা। উসমানি সাম্রাজ্য দয়াপরবশ হয়ে মানবতার খাতিরে ইহুদিদেরকে বুকে টেনে নেয়। কিন্তু অকৃতজ্ঞতা ও খিলাফত ধ্বংসের মাধ্যমে ইহুদিরা এই সদ্ব্যবহারের প্রতিদান দেয়।

প্রখ্যাত জার্মান ইহুদি সাংবাদিক থিওডোর হার্টজেলের আবির্ভাব ঘটে দৃশ্যপটে। হার্টজেল ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা পেশ করে। ইহুদি রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনকে নির্বাচন করার কারণ ছিল, ইহুদিদের সাথে ফিলিস্তিনের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে। তা ছাড়া ইহুদিরা ফিলিস্তিনকে 'প্রতিশ্রুত ভূমি' বলে থাকে।

হার্টজেল খলিফা দ্বিতীয় আবদুল হামিদের সাথে ফিলিস্তিন নিয়ে দরাদরির চেষ্টা করে। খলিফা হার্টজেলের প্রস্তাব সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে ইহুদিদের জন্য ফিলিস্তিনে অভিবাসী হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ প্রেক্ষিতে ইহুদিরা উসমানি খিলাফত ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু করে এবং একাজে মিত্রদের সহযোগিতা করতে থাকে। উসমানি সাম্রাজ্যে আরব জাতীয়তাবাদ ও ফ্রিম্যাসনারি ধারণা প্রচার করে তারা। সেই সাথে 'কমিটি অব ইউনিয়ন এন্ড প্রগ্রেস'-এ যোগ দিতে থাকে।

দোনমে ইহুদিদের কথাও ভোলার মতো নয়। এদের অধিকাংশই ইসলাম গ্রহণ করেছে বলে ঘোষণা করে, কিন্তু মনে মনে ইহুদিই থেকে যায়। তারা ভেতর থেকে ইসলামকে ধ্বংস করতে থাকে এবং দেশে দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলা উসকে দিতে সফল হয়। মিত্রশক্তি ইহুদিদের 'কমিটি অব ইউনিয়ন এন্ড প্রগ্রেস'-এ যোগ দিতে সাহায্য করে। একপর্যায়ে কমিটি অব ইউনিয়ন এন্ড প্রগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য হয়ে যায় ইহুদিরা। এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় এবং উসমানি সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

**বেলফোর ঘোষণা (১৩৩৬ হিজরি)**

ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব আর্থার জেমস বেলফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিন ইংরেজদের অধীনে চলে যায়। সারা বিশ্ব থেকে অভিবাসী ইহুদিরা আসতে শুরু করে ফিলিস্তিনে এমনকি ইহুদিদের কেন্দ্র গ্রিস থেকেও। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, ফিলিস্তিনে ইহুদিদের আবাসভূমি প্রতিষ্ঠায় ইংরেজদের উদ্দেশ্য ছিল একদিকে আরবকে খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলা ও আরবের আফ্রিকান অংশকে এশীয় অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, যাতে আরববিশ্বের স্থিতিশীলতা চিরদিনের জন্য দাফন হয়ে যায় ও আবরদের ঐক্য দুর্বল করে দেওয়া যায়। অন্যদিকে যেন ফিলিস্তিনকে কিনে নেওয়ার জন্য ইহুদিদের সম্পদের ঢল নেমে আসে এবং এই রাষ্ট্রগুলো তাদের অর্থনৈতিক জীবনের মেরুদণ্ডের অধিকারী ইহুদি উপনিবেশ থেকে মুক্তি পায়।

আরববিশ্ব ফিলিস্তিনে ইহুদিদের আবাসভূমি গড়ে তোলার পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে। ১৩৫৫ থেকে ১৩৫৮ হিজরি (১৯৩৬-১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত ভয়াবহ বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। ইংরেজরা প্রথমবার ইহুদি ও আরবদের মাঝে ফিলিস্তিন ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করে। এই প্রস্তাব '১৯৩৭ সালের বিভক্তি' নামে পরিচিত। আরববিশ্ব এই প্রস্তাব সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে। ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসন বাড়তে থাকে। এরই মাঝে ইহুদিদের ওপর জার্মান নিপীড়ন নিয়ে হাজির হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ফিলিস্তিনের ইহুদি সংস্থা জার্মান নাজি সরকারের সম্মতিতে অনেক ইহুদিকে অভিবাসী হতে সাহায্য করে। ব্রিটিশ শক্তি দুর্বল হতে শুরু করে। আমেরিকান প্রভাব বেড়ে যায়। ইহুদিরা যুক্তরাষ্ট্র অভিমুখী হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি কিংবা অর্থনীতি, সব ক্ষেত্রে ইহুদিদের ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইহুদিদের সহযোগিতা করতে শুরু করে। ১৩৬২ হিজরিতে (১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে) বাল্টিমোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন ফিলিস্তিনে জায়োনিস্ট পরিকল্পনাকে সমর্থন করে এবং তাদেরকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

**৪৭-এর ফিলিস্তিন বিভক্তি (১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দ)**

ফিলিস্তিনের বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপিত হলে বিভক্তির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। আমেরিকা জাতিসংঘের সদস্য-রাষ্ট্রগুলোকে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইহুদিদের দেওয়া হয় ফিলিস্তিনের উর্বর ভূমিগুলো, আর ফিলিস্তিনিদের দেওয়া হয় সবচেয়ে অনুর্বর ভূমি। বাইতুল মুকাদ্দাস ও অন্যান্য পবিত্র স্থান আন্তর্জাতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ইংল্যান্ড ফিলিস্তিনে তাদের প্রতিনিধিত্ব সমাপ্তির ঘোষণা দেয়, যাতে এই সুযোগে ইহুদিরা তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিতে পারে। ইহুদিদেরকে দেওয়া অনেক অঞ্চল থেকে আরবদের সরিয়ে নেওয়ার পরে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

**৪৮-এর ফিলিস্তিন যুদ্ধ (১৩৬৭ হিজরি/১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ)**

ইহুদিরা ফিলিস্তিন ছাড়ার জন্য আরবদের চাপ দেয় এবং ভয় দেখায়। বড় কয়েকটি গ্রুপ ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণ করতে শুরু করে। ১৩৬৭ হিজরিতে (১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে) ‘দেইর ইয়াসিন’(১)-এ গণহত্যা সংঘটিত হয়। ইসরাইলি দখল থেকে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করতে যুদ্ধের বিকল্প কোনো পথ খুঁজে পায় না আরব ফিলিস্তিনিরা। এই প্রেক্ষিতে ১৩৬৮ হিজরিতে ৪৮-এর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মিশর, সিরিয়া, জর্দান ও ইরাক ফিলিস্তিনিদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। যুদ্ধের শুরুতে আরব মিত্রবাহিনী বিজয়ী হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের চাপের মুখে একমাস যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। যুদ্ধবিরতি চলাকালে আরব কিংবা ইহুদি কোনো দলই অস্ত্র নিতে পারবে না—এই মর্মে যুদ্ধবিরতি হয়।

আরব এই সিদ্ধান্ত রক্ষা করে। কিন্তু ইহুদিরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র নেয়; পশ্চিমা বিশ্ব এ ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে। তারপর আবার যুদ্ধ শুরু হলে মিশরীয় বাহিনীর কাছে ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের অস্ত্র-দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ পায়। যুদ্ধের মোড় পাল্টে যায় এবং আরব বাহিনী পরাজয় বরণ করে। ১৯৪৭-এর বিভক্তিতে ইসরাইল যে ভূখণ্ড পেয়েছিল, ইসরাইলি ভূখণ্ড তার চেয়ে আরও বিস্তৃতি লাভ করে। বর্তমানে ইসরাইলি দখলদারি এত বিস্তৃতি লাভ করেছে যে, ফিলিস্তিনিদের মানচিত্র যেন খুঁজেই পাওয়া যায় না! এদিকে অ্যাপল ও গুগলের বিশ্বমানচিত্রে ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব না থাকার বিষয়টি অনেক আলোচিত হয়েছে।

পশ্চিম তীর জর্দান শাসনের অধীনে আসে, আর গাজা ভূখণ্ড চলে যায় মিশরীয় শাসনের অধীনে।

**১৩৭৫ হিজরি/১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দ-এর যুদ্ধ (ত্রিমুখী আগ্রাসন)**

মিশরের সাথে ইসরাইল, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সম্মিলিত শত্রুতা সৃষ্টি হয়। মিশর সুয়েজ খাল খননের ঘোষণা দেয়, যা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ব্রিটিশ কর্তৃত্ব শেষ করে দেবে। এ ছাড়া মিশর আলজেরিয়ার বিদ্রোহে সহযোগিতা করে (ফরাসি উপনিবেশ প্রতিরোধ করার জন্য আলজেরিয়া কায়রোতে অস্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠা করে, যা ফ্রান্সের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়)। আর ঠিক এই সময়ে আরব ঐক্য ও ফিলিস্তিন থেকে ইহুদি উৎখাতের আহ্বান জানায় মিশর। ১৩৭৬ হিজরিতে (১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে) শত্রুত্রয় সিনাই উপদ্বীপে আক্রমণ করে সুয়েজ তীরবর্তী শহরগুলোতে বোমা হামলা শুরু করে। গণপ্রতিরোধ শুরু হয়। মিশর সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্য কামনা করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে যুক্তরাষ্ট্রও আক্রমণকারী রাষ্ট্রগুলোকে মিশর ত্যাগ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। চাপের মুখে অত্যাচারী শক্তি মিশর ত্যাগ করে।

**৬৭-এর যুদ্ধ (১৩৮৭ হিজরি)**

ইয়ামেন যুদ্ধে আরববিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী মিশরীয় সেনাদের ব্যস্ত থাকার সুযোগকে ইসরাইল কাজে লাগায়। মিশর, সিরিয়া ও জর্দানে আক্রমণ করে মিশরের কাছ থেকে গাজা ভূখণ্ড ও সিনাই উপদ্বীপ, সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি এবং জর্দানের কাছ থেকে পশ্চিম তীর দখল করে নেয়। ইসরাইল যুদ্ধে বিজয় লাভ করার পর জাতিসংঘ ২৪২ নং রেজুলেশন ঘোষণা করে, যাতে ইসরাইলকে ১৩৮৭ হিজরিতে দখলীকৃত অঞ্চল থেকে সেনাপ্রত্যাহার করতে বলা হয়। কিন্তু ইসরাইল এই রেজুলেশনকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। কারণ, ইসরাইল জানত, যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্য তাদের অবস্থানকে সমর্থন করবে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সমস্যা দেখা দেয়। লেবানন শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে সীমান্ত খুলে দেয়। ইসরাইল দখলীকৃত অঞ্চলে অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য আবাস গড়তে শুরু করে।

**১৯৭৩-এর যুদ্ধ (১৩৯৩ হিজরি)**

ইসরাইলের হাত থেকে দখলীকৃত ভূমি স্বাধীন করার জন্য আরব নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে শুরু করে। মুসলিমবিশ্ব আরবদের পাশে দাঁড়ায়। ইসরাইলের মদদদাতা পাশ্চাত্যের কাছে পেট্রোল রপ্তানি না করার সিদ্ধান্ত নেয় মুসলিমবিশ্ব। ছয় বছর আরব-ইসরাইল সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। ১৩৯৩ হিজরির ১০ রমজানে দখলীকৃত ভূমি স্বাধীন করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালায় আরব বাহিনী। আরব বাহিনী ইহুদিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে সুয়েজ অতিক্রম করে। বার লেভ (Bar Lev) লাইনের দেয়াল গুঁড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এগিয়ে আসে ইসরাইলকে উদ্ধার করার জন্য। যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ১৩৮৭ হিজরির (১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের) দখলীকৃত অঞ্চল থেকে ইসরাইলের প্রত্যাহার নিশ্চিত করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করে আমেরিকা।

কিন্তু অতি শীঘ্রই সে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ইসরাইল সুর পাল্টাতে শুরু করে। ইসরাইল বলে, যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছিল ১৩৮৭ হিজরিতে (১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে) দখলীকৃত কিছু অঞ্চল থেকে প্রত্যাহৃত হওয়ার শর্তে; পুরো অঞ্চল থেকে নয়। ইসরাইলি প্রতারণায় আরব রেগে যায়। এদিকে ১৩৯৭ হিজরিতে (১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে) মিশর ইসরাইলের সাথে শান্তিচুক্তির উদ্যোগ নেয়। প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত দখলীকৃত ফিলিস্তিন সফর করে। সফরকালে ইসরাইলি সংসদে বক্তব্য প্রদান করে।

১৩৯৮ হিজরিতে (১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে) যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের পরই ১৩৯৯ হিজরিতে (১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে) ইসরাইল ও মিশরের মাঝে শান্তিচুক্তি সংঘটিত হয়। চুক্তিতে ইসরাইলের সিনাই উপদ্বীপ ত্যাগ করার কথা উল্লেখ করা হয়। এতে আরবদেশ আরও রেগে যায়। তারা মনে করে, মিশর কেবল নিজের স্বার্থ চিন্তা করে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বদেশ স্বাধীন করার অধিকার খর্ব করেছে। এই প্রেক্ষিতে ১৩৯৯ হিজরিতে (১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে) বাগদাদে আরবদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আবরবিশ্ব মিশরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। ওমান, সুদান ও সোমালিয়া ব্যতীত সব আরব দেশই এ ব্যাপারে ঐকমত্য প্রকাশ করে। ১০ রমজান ১৩৯৩ হিজরির (৬ অক্টোবর ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের) যুদ্ধের পর ইসরাইলের সাথে মিশরীয়, জর্দান ও সিরিয়ান ফ্রন্টের যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়। এর স্থলে নতুন ফ্রন্ট খোলা হয়, যারা আত্মঘাতী হামলায় অংশগ্রহণ করতে থাকে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মধ্য হতে লেবাননে অনুপ্রবেশকারীরা দখলীকৃত ফিলিস্তিনে ১৩৯৫ হিজরি পর্যন্ত এসব আত্মঘাতী হামলা চালায়। ইসরাইল ও পাশ্চাত্য লেবাননে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেয়। ১৩৯৫ হিজরিতে (১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) লেবাননে আক্ষরিক অর্থেই গৃহযুদ্ধের আগুন জ্বলে ওঠে। ইসরাইল লেবানন ভূমিতে ঢুকে সংঘাত লাগিয়ে দেয়; যেমনটা আমরা পূর্বে 'লেবানন' অধ্যায়ে আলোচনা করেছি।

**ইরাকের পারমাণবিক চুল্লিতে আক্রমণ (১৪০১ হিজরি/১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ)**

১৪০১ হিজরিতে ইরাকের পারমাণবিক চুল্লিতে ইসরাইল বিমান হামলা চালায়। এই আক্রমণের কারণ ছিল, ইরাকের পারমাণবিক চুল্লি ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। তখন ইরাক-ইরান যুদ্ধ চলছিল। তাই ইরাক এই হামলার কোনো প্রতিউত্তর দিতে পারেনি।

এদিকে দখলীকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সংগ্রাম অব্যাহত থাকে। আত্মঘাতী হামলাও বাড়তে থাকে। ১৪০৭ হিজরিতে (১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে) ইসলামিক রেসিসটেন্স মুভমেন্ট হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা (আন্দোলন)-এর ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ইসরাইল কর্তৃক দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করা হয়।

আরব ও ইসরাইলের মাঝে আলোচনা শুরু হয়। এই উদ্দেশ্যে মাদ্রিদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ইহুদি ও ফিলিস্তিনিদের মাঝে গাজা-জেরিকো চুক্তি হয়। চুক্তিতে এই দুই ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পশ্চিম তীরে ও গাজায় পুনরায় ইসরাইলি শক্তি বিস্তারের কথা উল্লেখ করা হয়। ১৩৯৩ হিজরিতে (১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে) সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ইসহাক রাবিনের আমলে এই চুক্তি সংঘটিত হয়। ইসরাইলি লেবার পার্টি তখন ক্ষমতায় ছিল।

তারপর ১৪১৫ হিজরিতে (১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে) কট্টরপন্থী ইহুদি ইসহাক রাবিন (যে দখলীকৃত ফিলিস্তিনের এক বিঘত মাটিও ফিলিস্তিনিদের দিতে রাজি ছিল না) নিহত হয়। তারপর শিমন পেরেজ ইসরাইলি নির্বাচন চলাকালীন অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করে। সে শান্তি স্থাপনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে। পশ্চিম তীর ও গাজার পুনরায় ইসরাইলি শক্তি বিস্তারের মাধ্যমে গাজা-জেরিকো চুক্তির ধারাসমূহ বাস্তবায়ন করে। গোলান-সমস্যা সমাধানে আরব ও ইসরাইলের মাঝে আলোচনা হয়। তারপর লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের হাতে কানার গণহত্যা সংঘটিত হয়।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এতে লিকুড পার্টি বিজয় লাভ করে। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করে। নেতানিয়াহু শান্তিচুক্তির সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক মতামত প্রকাশ করার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে। সে অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়াতে থাকে। বসতি নির্মাণ বন্ধে সংঘটিত অসলো চুক্তির এবং গোলান থেকে সেনাপ্রত্যাহার ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা করে।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা এরিয়েল শ্যারন ইসরাইলি পুলিশের প্রহরায় বাইতুল মুকাদ্দাস পরিদর্শনে যায়। তার এই পরিদর্শন ফিলিস্তিনিদের মনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। দ্বিতীয় ইনতিফাদা (আকসা আন্দোলন) সংঘটিত হয়। এতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি জনগণ প্রাণ উৎসর্গ করে।

শ্যারন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ফিলিস্তিনি ভূমিগুলোর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ইসরাইলের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিভেদের দেয়াল গড়তে শুরু করে। সেই সাথে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধে শুরু করে গুপ্তহত্যার রাজনীতি। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের মার্চে আততায়ীর হাতে নিহত শাইখ আহমাদ ইয়াসিন ও কয়েক মাস পর নিহত হামাসের প্রসিদ্ধ নেতা ডক্টর আবদুল আজিজ রনতিসি এই গুপ্তহত্যার শিকার। (আল্লাহ তাদের দুজনের প্রতি এবং সকল শহিদের প্রতি রহম করুন, আমিন।)

টিকাঃ
১. দেইর ইয়াসিন: ফিলিস্তিনের অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম। এটি জেরুজালেম থেকে পশ্চিমে অবস্থিত। -সম্পাদক
১০. বার লেভ লাইন (Bar Lev Line): সুয়েজ খালের প্রান্তে পূর্ব তীরে ইসরাইল কর্তৃক নির্মিত সুরক্ষা প্রাচীর। -সম্পাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00