📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়ামেনের দক্ষিণাঞ্চল

📄 ইয়ামেনের দক্ষিণাঞ্চল


তিনটি অঞ্চল তথা এডেন, পশ্চিম প্রদেশ ও পূর্ব প্রদেশ মিলে দক্ষিণ ইয়ামেন। একসময় দক্ষিণ ইয়ামেন ব্রিটিশ শাসনাধীন ছিল। পরবর্তী সময়ে যখন উত্তর ইয়ামেন উসমানিদের সাম্রাজ্যভুক্ত হয়, তখন এডেনও দখল করে নেয় উসমানিরা। কিন্তু উসমানিদের অবস্থান শক্ত হওয়ার আগেই ইংরেজরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাম করে এডেন দখল করে নেয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল ইংরেজদের এডেন দখলের সবচেয়ে ক্ষুদ্র অজুহাত। এডেন দখলের পর ইংরেজরা দক্ষিণ ইয়ামেনের গোত্রগুলোর মাঝে বিশৃঙ্খলা উসকে দেয়। তারপর ধীরে ধীরে দক্ষিণ ইয়ামেনের পূর্ব ও পশ্চিম প্রদেশ পর্যন্ত কর্তৃত্ব বিস্তার করে ইংরেজরা।

একটি অবিভক্ত উপনিবেশ (ইউনাইটেড কলোনি) গড়ে তোলার জন্য ইংল্যান্ড দক্ষিণ ইয়ামেনের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশকিছু প্রদেশ এক করে ফেলে। এই উপনিবেশ শুরুতে পরিচালিত হতো এডেন থেকে। পরবর্তী সময়ে ভারতের ইংরেজ শাসকের অধীনে পরিচালিত হতে থাকে। তারপর ইংল্যান্ড থেকে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের মনোভাব লক্ষ করে ১২৫৬ হিজরিতে (১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে) রয়েল কলোনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। তারপর ১৩৭৮ হিজরিতে (১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে) দক্ষিণ ইয়ামেনে ইংল্যান্ডের অধীনে সম্মিলিত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। কিন্তু ইয়ামেনিরা এই শাসনব্যবস্থা মেনে নিতে পারেনি। উত্তর ইয়ামেনে সংঘটিত ১৩৮২ হিজরির (১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের) বিদ্রোহ ও জামাল আবদুন নাসেরের পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্তি ইয়ামেনিদেরকে সম্মিলিত শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করতে সাহস জোগায়।

১৩৮৭ হিজরিতে (১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে) ইংরেজ দক্ষিণ ইয়ামেনকে স্বাধীনতা দেয়। আবদুল কাবি-মুকাবি এর প্রেসিডেন্ট হন। তারপর সালিম রাবির আগমন ঘটে। এই সালিম রাবিই উত্তর ইয়ামেনের শাসক হত্যায় জড়িত ছিল। ১৩৯৮ হিজরিতে (১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে) পুনরায় বিদ্রোহ হয় এবং বিদ্রোহে সালিম রাবি ক্ষমতাচ্যুত হয়। বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী আবদুল ফাত্তাহ ইসমাইল শাসন-ক্ষমতা গ্রহণ করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন তার ক্ষমতা গ্রহণে সহায়তা করে এবং রাশিয়ান বিমান তার অবস্থানকে শক্তিশালী করে তোলে।

তারপর ইয়ামেনে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। অভ্যুত্থানে আবদুল ফাত্তাহ ইসমাইল ক্ষমতাচ্যুত হন। আলি নাসির তার স্থলাভিষিক্ত হন। এভাবে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটতে থাকে ইয়ামেনে। অবশেষে ১৪০৬ হিজরিতে (১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে) আবু বকর আস-সাক্কাফ ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়ামেনের ঐক্য

📄 ইয়ামেনের ঐক্য


দক্ষিণ ইয়ামেন স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকেই উত্তর ইয়ামেনের সাথে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। স্বয়ং উত্তর ইয়ামেনও এই আগ্রহ প্রকাশ করে। ১৩৯২ হিজরিতে (১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে) উত্তর ও দক্ষিণ ইয়ামেনকে সংযুক্ত করার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়, কিন্তু উভয় দেশের নেতৃবৃন্দ একমত হতে পারেন না। তারপর ১৪১০ হিজরিতে (১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে) উভয় দেশ এক হয়ে যায় এবং সানাকে নতুন রাষ্ট্রের রাজধানী করা হয়। আলি আবদুল্লাহ সালিহ রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন আর আবু বকর আস-সাক্কাফ প্রধানমন্ত্রী হন। তারপর আবু বকর আস-সাক্কাফ পুনরায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে চান। তারপর বিচ্ছিন্নতার দাবিকারী (যাদের নেতৃত্বে ছিলেন আবু বকর আস-সাক্কাফ) এবং বিচ্ছিন্নতা প্রত্যাখ্যানকারী রাষ্ট্রপতি আলি আবদুল্লাহ সালেহের মাঝে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। আলি আবদুল্লাহ সালেহের বাহিনী জয় লাভ করে এডেনে ঢুকে পড়ে। তখন থেকে আজ পর্যন্ত ইয়ামেন সংযুক্ত হয়ে আছে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 হাবিশ দ্বীপপুঞ্জকেন্দ্রিক জটিলতা

📄 হাবিশ দ্বীপপুঞ্জকেন্দ্রিক জটিলতা


ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর আরব ভূখণ্ড ও আফ্রিকার স্থিতিশীলতা ধ্বংস করার জন্য ইসরাইল ও পাশ্চাত্য ইরিত্রিয়াকে সাহায্য করে। একদিকে তারা সুদানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহযোগিতা করতে থাকে, অন্যদিকে লোহিত সাগরে তাদের কর্তৃত্ব বিস্তার করার পরিকল্পনা করে। অর্থাৎ, ইরিত্রিয়াকে যেসব রাষ্ট্র নিজেদের প্রতিনিধি মনে করে, সেসব রাষ্ট্রের প্রভাব বৃদ্ধি করাই ছিল এর আসল উদ্দেশ্য। ইহুদি পরিকল্পনা, ইহুদি ও আমেরিকার অস্ত্র, ইহুদি সেনাবাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণে ইরিত্রিয়া হানিশের সবচেয়ে বড় দ্বীপটি দখল করে নেয়। বাবুল মান্দিব প্রণালি হয়ে ইরিত্রিয়া আরও কয়েকটি দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়, যে দ্বীপগুলো ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী ইয়ামেনের অন্তর্ভুক্ত।

বাবুল মান্দিব দখলের ঘটনায় সারাবিশ্ব মুখে কুলুপ এঁটে ছিল, যেন সবাই ইয়ামেনের ওপর ইরিত্রিয়ার এই আগ্রাসনের সমর্থন করছে। আমেরিকা ও ইসরাইল আন্তর্জাতিক সমঝোতাকারী হিসেবে বাবুল মান্দিব প্রণালীর দ্বীপগুলোর ব্যাপারে ইরিত্রিয়ার পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আদালত রায় প্রদান করে ইয়ামেনের পক্ষে।

টিকাঃ
৮. হানিশ দ্বীপপুঞ্জ : ইয়ামেনের অন্তর্গত একটি দ্বীপপুঞ্জ। -সম্পাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00