📄 বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ
বাদশাহ ফয়সালের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। পেট্রোলই যেন সৌদি আরবের অর্থোপার্জনের একমাত্র উৎস না হয়, সেজন্য তিনি শিল্পায়নের প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন। তিনি শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নতি সাধনেও কাজ করেছেন। অনেক স্কুল ও ভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত আরব-ইসরাইল যুদ্ধে বাদশাহ ফয়সাল বড় ধরনের অবদান রাখেন। বিশেষত যখন তিনি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি পশ্চিমাদেরকে পেট্রোল না দেওয়ার আহ্বান জানান তখন ইরান ও পাশ্চাত্যের প্রভাবাধীন দেশ ব্যতীত, সবাই তার এই আহ্বানে সাড়া দেয়। আরব-ইসরাইল যুদ্ধ ও ইসরাইল কর্তৃক আরব ভূখণ্ড দখলের কারণে পাশ্চাত্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
১৩৯৫ হিজরিতে (১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) বাদশাহ ফয়সাল তার ভাতিজা ফয়সাল বিন মুসাইদ বিন আবদুল আজিজের হাতে নিহত হন। তার মৃত্যুতে সমগ্র মুসলিমবিশ্বে শোকের ছায়া নেমে আসে। সে বছরই বাদশাহ ফয়সালের হত্যাকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
📄 বাদশাহ খালিদ বিন আবদুল আজিজ
১৩৯৫ হিজরিতে (১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) ফয়সাল বিন আবদুল আজিজের মৃত্যুর পর তার ভাই খালিদ বিন আবদুল আজিজ রাজ-ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি বেশিদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ১৪০২ হিজরিতে (১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে) অসুস্থ হওয়ার পরই তিনি ইনতেকাল করেন।
📄 বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ
১৪০২ হিজরিতে (১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে) বাদশাহ খালিদ বিন আবদুল আজিজের মৃত্যুর পর তার ভাই ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। বাদশাহ ফাহাদ ক্ষমতায় আসার পর আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজকে ক্রাউন যুবরাজ ঘোষণা করা হয়। বাদশাহ ফাহাদই প্রথম 'সাহিবুল জালালাহ' বা 'মহামান্য বাদশাহ'-এর পরিবর্তে 'খাদিমুল হারামাইন শারিফাইন' বা দুই সম্মানিত স্থানের সেবক উপাধি গ্রহণ করেন। তিনি দেশের নানা স্থানে নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটান এবং হারামাইন শারিফাইনের সীমানা বৃদ্ধি করেন।