📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তৃতীয় সৌদি সাম্রাজ্য (১৩১৯ হি./১৯০১ খ্রি.)

📄 তৃতীয় সৌদি সাম্রাজ্য (১৩১৯ হি./১৯০১ খ্রি.)


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দ্বিতীয় আবদুল আজিজ

📄 দ্বিতীয় আবদুল আজিজ


সৌদি আমির দ্বিতীয় আবদুল আজিজ পুনরায় সৌদি কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনার সংকল্প করেন। সে সময় জাজিরাতুল আরবের কর্তৃত্ব ছিল উসমানি ও ইংরেজদের হাতে। ইংরেজরা কুয়েত, বাহরাইন ও আরব সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণ করত। আর ইয়ামেন, হিজায ও নাজদ পরিচালিত হতো উসমানিদের আদেশে।

ইংরেজরা সৌদিদের সাহায্য করতে শুরু করে। এর বেশকিছু কারণ ছিল। তার মধ্যে একটি কারণ হলো, বিন রশিদ পরিবার—যারা ইতিপূর্বে সৌদিদের অধিকাংশ রাষ্ট্র দখল করে নিয়েছিল—উসমানি সালতানাতের আনুগত্য করত। আর সাবাহ-পরিবার আনুগত্য করত ইংরেজদের। এই সাবাহ-পরিবারের কাছেই সৌদিরা আশ্রয় গ্রহণ করেছিল এবং সাবাহ-পরিবার সৌদিদের সাহায্য করেছিল।

দ্বিতীয় আবদুল আজিজ রিয়াদে আক্রমণ করেন এবং বিন রশিদ পরিবারের হাত থেকে রিয়াদ ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হন। সবকিছু বিন্যস্ত করে তিনি ১৩৩২ হিজরিতে (১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে) আল-আহসা(২) পর্যন্ত সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত করেন। এরপর হাইলে(৩) বসবাসরত বিন রশিদ পরিবার ও তাদের সহযোগী উসমানিদের সাথে জোটবদ্ধ হয়।

এরই মাঝে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোল বেজে ওঠে। উসমানিরা আবরদেশ ত্যাগ করে। ফলে বিন রশিদ পরিবার দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৩৪০ হিজরিতে দ্বিতীয় আবদুল আজিজ হাইলকে সৌদি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেন। সেই সাথে ইদরিসি ও গাইজ পরিবার কর্তৃক শাসিত আসিরসহ (৪) অন্যান্য অঞ্চল দখল করতে সক্ষম হন।

১৩৪৯ হিজরিতে ইদরিসিদের আমির বাদশাহ আবদুল আজিজের কাছে সৌদি সাম্রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন জানায়। সৌদি বাহিনী গাইজ পরিবারের শাসনাধীন অঞ্চলগুলোকেও সৌদি সাম্রাজ্যের অধীন করে নেয়। এ সময় হিজাযের শাসকশ্রেণি ও সৌদিদের মাঝে প্রচণ্ড দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। উসমানি খিলাফতের পতনের পর হিজাযের শরিফ হুসাইন নিজেকে খলিফাতুল মুসলিমিন দাবি করে। প্রথমে তার সাথে ইংরেজদের ভালো সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের সুবাদে শরিফ হুসাইন তার ছেলে আবদুল্লাহকে পূর্ব জর্দানের শাসক ও ফয়সালকে ইরাকের বাদশাহ বানাতে পেরেছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তার সাথে ইংরেজদের বিরোধ দেখা দেয়। অতঃপর সে আবদুল আজিজ আলে সউদকে তার হাতে বাইআত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠায়। এতে তার ও সৌদিদের মাঝে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সৌদিদের বিজয় ও সৌদি সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়। ১৩৫১ হিজরিতে রাজকীয় সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাদশাহ আবদুল আজিজ তার শাসনামলে ইখওয়ানকেন্দ্রিক (৫) সমস্যার মুখোমুখি হন। ইখওয়ান ছিল তার বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী একটি দল, যারা কট্টরপন্থা অবলম্বন করত। এই দলটি শহরের; এমনকি গ্রামেরও অনেক মুসলিমকে কাফের বলত এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত। তারা আধুনিক সবকিছু; এমনকি আল্লাহ যা হারাম করেননি, সেসব জিনিসকেও প্রত্যাখ্যান করত। বাদশাহ আবদুল আজিজ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, তাদের সব শক্তি গুঁড়িয়ে দেন। তারপর থেকে এই দলটি সৌদি আরবের নিয়মিত সীমান্তরক্ষী হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে।

বাদশাহ আবদুল আজিজ ১৩৭৩ হিজরিতে (১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে) ইনতেকাল করেন। ইনতিকালের পর তার ছেলে বাদশাহ সউদ বিন আবদুল আজিজ ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

টিকাঃ
২. আহসা : সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় একটি জেলা শহর। রাজধানী রিয়াদ থেকে দূরত্ব ৩২৮ কিলোমিটার। -সম্পাদক
৩. হাইল : নজদের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সৌদি আরবের একটি শহর। -সম্পাদক
৪. আসির প্রদেশ : সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রদেশ। -সম্পাদক
৫. এই ইখওয়ান রাজনৈতিক দল 'ইখওয়ানুল মুসলিমিন' নয়। -সম্পাদক

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সউদ বিন আবদুল আজিজ

📄 সউদ বিন আবদুল আজিজ


সউদ বিন আবদুল আজিজের শাসনামলে তার ভাই ফয়সাল বিন আবদুল আজিজের উত্থান ঘটে। ফয়সাল বিন আবদুল আজিজকে কয়েকবার মন্ত্রিপরিষদ গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি তার ভাই বাদশাহ সউদের চেয়েও দক্ষ প্রমাণিত হন। একপর্যায়ে উলামায়ে কেরাম ও সউদ পরিবারের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বাদশাহ সউদ বিন আবদুল আজিজকে পদচ্যুত করে তার ভাই বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

বাদশাহ সউদের শাসনামলেই আরবলিগ প্রতিষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবকে আরবলিগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ

📄 বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ


বাদশাহ ফয়সালের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। পেট্রোলই যেন সৌদি আরবের অর্থোপার্জনের একমাত্র উৎস না হয়, সেজন্য তিনি শিল্পায়নের প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন। তিনি শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নতি সাধনেও কাজ করেছেন। অনেক স্কুল ও ভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত আরব-ইসরাইল যুদ্ধে বাদশাহ ফয়সাল বড় ধরনের অবদান রাখেন। বিশেষত যখন তিনি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি পশ্চিমাদেরকে পেট্রোল না দেওয়ার আহ্বান জানান তখন ইরান ও পাশ্চাত্যের প্রভাবাধীন দেশ ব্যতীত, সবাই তার এই আহ্বানে সাড়া দেয়। আরব-ইসরাইল যুদ্ধ ও ইসরাইল কর্তৃক আরব ভূখণ্ড দখলের কারণে পাশ্চাত্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

১৩৯৫ হিজরিতে (১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) বাদশাহ ফয়সাল তার ভাতিজা ফয়সাল বিন মুসাইদ বিন আবদুল আজিজের হাতে নিহত হন। তার মৃত্যুতে সমগ্র মুসলিমবিশ্বে শোকের ছায়া নেমে আসে। সে বছরই বাদশাহ ফয়সালের হত্যাকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00