📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 কুর্দি আন্দোলন

📄 কুর্দি আন্দোলন


আতাতুর্ক তুর্কি জাতীয়তাবাদের ডাক দেয়। তার আহ্বানের প্রেক্ষিতে কুর্দিরা বিদ্রোহ শুরু করে। স্বতন্ত্র রাষ্ট্র কায়েমের দাবি জানায় তারা। যে শাসনব্যবস্থা ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলোর বিরোধিতা করে, ঔপনিবেশিকরা তার বিরুদ্ধে কুর্দিদেরকে টাইমবোমা হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে কুর্দিস্তান ছিন্নভিন্ন হয়ে তুরস্ক, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও আর্মেনিয়ার মাঝে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কুর্দিদের কোনো স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হয়নি; যাতে ঔপনিবেশিকরা 'কুর্দি কার্ড' দিয়ে এসব রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং তাদের কথামতো চালাতে পারে। নাহলে তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী কুর্দিদেরকে অনেক আগেই সাহায্য করত।
সারাবিশ্বে কুর্দিদের সংখ্যা ত্রিশ মিলিয়নেরও বেশি, যাদের অধিকাংশই মুসলমান। শক্তি ও সাহসে কুর্দিরা সবার থেকে ভিন্ন। সংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে তুরস্ককে মনে করা হয় কুর্দিদের সবচেয়ে বড় মিলনস্থল। কিন্তু আতাতুর্ক কুর্দিদের সব ধরনের আন্দোলন ইস্পাত-কঠিন হাতে দমন করে। আতাতুর্কের শাসনব্যবস্থার সমর্থনকারী যেসব ব্যক্তি তুরস্কের শাসন নিয়ন্ত্রণ করত, তারাও এ ক্ষেত্রে আতাতুর্কের অনুসরণ করে। একদিকে তুরস্কে মিত্রপক্ষের চিন্তাচেতনা ও মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য; অন্যদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে বিরোধ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আতাতুর্ককে মিত্রশক্তি অব্যাহতভাবে সাহায্য করে যেতে থাকে। তুর্কিজাতির কাছে তাকে বীর হিসেবে তুলে ধরার জন্য সিরিয়ানদের বিরোধিতা সত্ত্বেও ফ্রান্স সানজাক-ই-আলেকজান্দ্রিয়া থেকে সরে আসে। পাঠ্যক্রম ও মিডিয়ায় তাকে মহান ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হতে থাকে, যাতে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে ওঠে, যারা আতাতুর্ককে আদর্শ মনে করে।
১৩৫৭ হিজরিতে এই স্বৈরাচারী মারা যায়। তারপর আতাতুর্কের ডান হাত ইসমত ইনোনু ক্ষমতা গ্রহণ করে। আতাতুর্কের আমলে ইনোনু প্রধানমন্ত্রী ছিল। ইসলামবিরোধিতার ক্ষেত্রে ইসমত ইনোনুও আতাতুর্কের পথে চলে। তার আমলে জাতীয় রাজনীতি পাশ্চাত্যের; বিশেষত ইংল্যান্ডের কক্ষপথে চলতে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জনগণের অসম্মতি সত্ত্বেও মৈত্রীশক্তিকে খুশি করার জন্য তুরস্ক নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে। খিলাফত বাতিলকরণ ও মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ বিভক্ত করার পেছনে এরাই ছিল নাটের গুরু ও মূল চালক।
মাহমুদ জালাল বায়ার (ইনোনুর পূর্বে যিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ইনোনু যাকে ক্ষমতাচ্যুত করে) কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্ব দেওয়া ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির বিপরীতে ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিষ্ঠা করে।
তুর্কি জনগণের প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও তুর্কি সরকার ফিলিস্তিনের মাঝে গড়ে ওঠা ইহুদিরাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। তুমুল জনরোষের শিকার হয় তুর্কি সরকার। এরপর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মাহমুদ জালাল বায়ারের নেতৃত্বে ডেমোক্রেটিক পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। সংসদ নির্বাচনের পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মাহমুদ জালাল বায়ার বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। ডেমোক্রেটিক পার্টি কিংবা রিপাবলিকান পিপলস পার্টি নামে ভিন্ন হলেও উভয় দলের মূলনীতি ছিল সেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা। ডেমোক্রেটিক পার্টির ক্ষমতাগ্রহণের মধ্য দিয়ে তুরস্কে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটে। সংসদীয় সরকারের গোড়াপত্তন ঘটে; অর্থাৎ একাধিক পার্টি সংসদে অংশগ্রহণ করে এবং ক্ষমতা লাভের প্রতিযোগিতা শুরু করে।
মাহমুদ জালাল বায়ারের শাসনামলে ১৩৭০ হিজরিতে (১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে) তুরস্ক ন্যাটোতে যোগ দেয়। ১৩৭৪ হিজরিতে (১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে) গ্রিস ও যুগোস্লাভিয়ার সাথে বলকান চুক্তিতে অংশগ্রহণ করে তুরস্ক। রাশিয়াবেষ্টিত রাষ্ট্রসমূহে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে তুরস্ক পূর্বে বাগদাদ চুক্তিতে অংশ নেয়। ইরাক এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে এলে ১৩৭৭ হিজরিতে (১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে) কেন্দ্রীয় চুক্তি নামে এর নামকরণ করা হয়。

টিকা:
৬৬. কুর্দি : মেসোপটেমিয়ান সমতলভূমি ও পাহাড়ি অঞ্চলের একটি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী এই কুর্দিরা। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক, উত্তর-পূর্ব সিরিয়া, উত্তর ইরাক, উত্তর-পশ্চিম ইরান এবং দক্ষিণ-পশ্চিম আর্মেনিয়া অঞ্চলে তারা ছড়িয়ে রয়েছে। -সম্পাদক

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 একে পার্টি

📄 একে পার্টি


২০০২ খ্রিষ্টাব্দের শেষদিকে ভার্চু পার্টির কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে একে পার্টি গঠিত হয়। এর কিছুদিন পরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তুর্কি পার্লামেন্ট নির্বাচনে সদ্যগঠিত এই দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ে সবাই অবাক হয়ে যায়। এই মহাবিজয়ের কারণে জাস্টিস পার্টি ও ন্যাশনাল পার্টি ব্যতীত সব দল শূন্য হাতে পার্লামেন্ট থেকে বের হয়ে যায়। আবদুল্লাহ গুলের রাষ্ট্রপতিত্বে সরকার গঠিত হয়। তারপর রজব তাইয়েব এরদোগান একে পার্টির চেয়ারম্যান হন। আর আবদুল্লাহ গুল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00