📄 মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক
স্মর্তব্য যে, আমাদের কামাল আতাতুর্ক সম্পর্কে পাঠকদের অবহিত করার প্রয়োজন রয়েছে। তাকে আতাতুর্ক বা তুর্কি জাতির পিতা উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এ লোকটি থেসালোনিকিতে জন্ম নেয়। উসমানি সাম্রাজ্যে দোনমে ইহুদিদের বড় একটি কলোনি এটি। এজন্য অনেকে তার দোনমে ইহুদিভুক্ত হওয়াকে প্রাধান্য দেন। তার নিকৃষ্ট কার্যকলাপ ও ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রামের কারণে তাকে ইহুদি মনে করা হয়।
সে ঐক্য ও উন্নয়ন পার্টির সদস্য এবং সিরিয়াতে উসমানি সেনাবাহিনীর একজন কমান্ডার ছিল। মিত্রবাহিনী হতে সে সবসময় পালিয়ে বেড়াত। কথিত আছে যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সে সিরিয়া হতে আনাতোলিয়া পর্যন্ত পালিয়ে বেড়িয়েছে।
ইসলামের শত্রুরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিটিকে খুঁজে পায়। এ লোকটিই মুসলমানদেরকে ধ্বংসের জায়গায় নিয়ে যায়। সে নিজেকে মুসলমান দাবি করে এরূপ কাজ করতে সক্ষম হয়। মিত্রবাহিনী তাকে উসমানি সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয় যাতে তার কাঁধেই উসমানি সাম্রাজ্যের বাকি অংশটুকুও কবজা করার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা যায়। এজন্য চটজলদি সকলে সিওয়াসে সমবেত হয় দেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে সম্মেলনে যোগ দিতে। সভায় আতাতুর্ককে সভাপতি নিয়োজিত করা হয়। সম্মেলন শেষে আতাতুর্ক আঙ্কারায় গমন করে এবং উসমানি সরকারের বিরোধিতা আরম্ভ করে। মিত্ররা সরকারের ওপর কঠোর শর্তারোপ করার ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করে। এমনকি তারা সরকারকে শর্তসমূহ মেনে নিতে বাধ্য করে।
শর্তাবলির মাঝে রয়েছে ইস্তাম্বুলে একটি রাষ্ট্র গঠন করা, আরব রাজ্যসমূহকে উসমানিদের থেকে আলাদা করা, আর্মেনিয়াকে স্বাধীনতা প্রদান করা, কুর্দিস্তানকে স্বাধীনতা দেওয়া, টারাকিয়া ও এজিয়ান সাগর গ্রিসকে প্রদান করা, প্রণালিগুলো আন্তর্জাতিক তদারকিতে ছেড়ে দেওয়া, মিত্রবাহিনীর ওপর কোষাগারের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া, মিত্রদের সীমানায় নিয়োজিত সৈন্য ফিরিয়ে আনা এবং তাদের সংখ্যা হ্রাস করা।
সে মুহূর্তে আতাতুর্ক উসমানিদের জন্য একটি নতুন সংসদ স্থাপনের ঘোষণা দেয়। অর্থাৎ, আঙ্কারায় অপর একটি সরকার থাকবে। সে মিত্রদের শর্ত রক্ষার্থে ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে। মিত্ররা আতাতুর্কের জন্য রশি ছেড়ে দেয়, যেন সে নায়করূপে আবির্ভূত হতে পারে। তারা গ্রিসকে একাকী তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ছেড়ে দেয়। এতে তুর্কিরা কোনো কোনো যুদ্ধে বিজয় লাভ করতে সক্ষম হয়। যেমন সাকারিয়া যুদ্ধ। এরপর গ্রিস আনাতোলিয়া ও টারাকিয়া থেকে ১৩৪০ হিজরিতে (১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে) সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স কিলিকিয়া থেকে এবং ইতালি এন্তাকিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়। যুদ্ধ চলাকালে রাশিয়া সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে ব্যস্ত ছিল। আতাতুর্ক রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে কৃষ্ণসাগরতীরের বাতুম শহর ছেড়ে দিতে চুক্তি করে।