📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

📄 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ


সকল বিরোধিতা কাটিয়ে উঠে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আনোয়ার পাশা দেশকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে টেনে নিতে সক্ষম হন। যুদ্ধে আকৃষ্ট করতে জার্মানি উসমানিদেরকে পাঁচ মিলিয়ন স্বর্ণমুদ্রা ঋণ প্রদান করে। বিরোধিরাও এজন্য যুদ্ধের শপথ নিতে উৎসাহিত হয়।

প্রথমদিকে উসমানিরা মিত্রবাহিনীর দেশসমূহের সাথে দরকষাকষি করতে চেয়েছিল। যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকার জন্য উসমানিরা কতিপয় শর্ত আরোপ করে। যেমন, বিদেশিরা যে সুযোগ উসমানিদের থেকে গ্রহণ করত, তা বাতিল করে মিশর থেকে ইংরেজদের বেরিয়ে যাওয়া, এজিয়ান সাগর উসমানিদের প্রদান করা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। কিন্তু মিত্রবাহিনী এ প্রস্তাবের কোনো জবাব দেয়নি। ফলে উসমানিরা যুদ্ধে যোগ দেয়। এটি কোমর ভাঙার যুদ্ধ ছিল। চারটি ফ্রন্টে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেগুলো হলো:

১. পূর্ব ফ্রন্ট
এ ফ্রন্টে আনোয়ার পাশা প্রচণ্ড শীত মৌসুমে পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়ে সরে আসেন।

২. সুয়েজ খাল ফ্রন্ট
উসমানি বাহিনী সিনাই হতে সুয়েজখালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সম্মত হওয়া মিশরীয়দের সাথে নির্দিষ্ট সময় তাদের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় আসার পূর্বেই তারা ইংরেজদের ওপর একাকী আক্রমণ করে ব্যর্থ হয়। এরপর জার্মানির নেতৃত্বে দু-দুটি আক্রমণও ব্যর্থ হয়।

৩. এডেন ফ্রন্ট
এ ফ্রন্টের যুদ্ধে উসমানিরা এডেন হতে ইংরেজদেরকে হটাতে চেয়েও ব্যর্থ হয়। ইয়েমেনের শাসক ইদরিসি উসমানিদের ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টিতে সহযোগিতা করে।

৪. দার্দানেলিস ফ্রন্ট
উসমানিরা দার্দানেলিস প্রণালিতে বেষ্টনী গড়ে তোলে, যেন শত্রুরা ইস্তাম্বুল পৌঁছতে না পারে। ইংরেজরা উসমানি সাম্রাজ্যের ওপর আক্রমণ শুরু করে। তারা ফিলিস্তিন দখল করে নেয়। ইংরেজ সেনাপতি এলেনবি বাইতুল মুকাদ্দাসে পৌঁছার পর তার প্রসিদ্ধ উক্তিটি উচ্চারণ করেছিল: 'আজ ক্রুসেড যুদ্ধ সমাপ্ত হলো।' এদিকে ফ্রান্স এসে সিরিয়া দখল করে নেয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00