📄 বলকান যুদ্ধ
১. প্রথম বলকান যুদ্ধ (১৩৩০ হি.)
বলকানের স্বাধীন দেশ মন্টেনিগ্রো, সার্বিয়া, বুলগেরিয়া ও গ্রিক জোটবদ্ধ হয়ে উসমানি সাম্রাজ্যে ভাগ বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করে তারা পূর্ব রুমেলি দখল করে নেয়। যুদ্ধে উসমানিদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে। এ যুদ্ধে প্রথম বলকান জেট বিমান ব্যবহার করে এডির্নে বোমা নিক্ষেপ করে। যুদ্ধের ফল হিসেবে আলবেনিয়া উসমানিদের থেকে স্বাধীন হয়ে যায়। আর পূর্ব রুমেল্লি-বলকান জোট নিজেদের মাঝে ভাগ করে নিয়ে যায়。
ঐক্য ও উন্নয়ন পার্টির প্রত্যাবর্তন
উসমানিদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম বলকান যুদ্ধ শেষ হয়। এর পরপরই ত্রিপোলিতে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সেনা অফিসার আনোয়ার পাশা সেনা অভ্যুত্থান ঘটায়। তার সাথে ঐক্য ও উন্নয়ন পার্টির আরও অফিসার যোগ দিয়েছিল। সে মন্ত্রীদেরকে পদত্যাগে বাধ্য করতে সমর্থ হয়। অতঃপর নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়। মুহাম্মাদ শওকত প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হয়। সে ঐক্য ও উন্নয়ন পার্টির কেউ নয়। ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাসের মাথায় তাকে হত্যা করা হয় এবং তৎস্থলে ঐক্য ও উন্নয়ন পার্টির জনৈক সেনা অফিসারকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়。
২. দ্বিতীয় বলকান যুদ্ধ (১৩৩২ হি./১৯১৪ খ্রি.)
মেসিডোনিয়ার বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে বলকান জোটের মাঝে যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। বুলগেরিয়া পুরো মেসিডোনিয়ার মালিকানা দাবি করে। এদিকে বলকান দেশগুলোও মেসিডোনিয়ার ভাগ চায়। ফলে বুলগেরিয়া ও অন্যান্য বলকান দেশ গ্রিক, রোমানিয়া ও সার্বিয়া জোটের মাঝে যুদ্ধ বাধে। উসমানিরা জোটের পক্ষ নেয়। যুদ্ধে বুলগেরিয়া পরাজিত হয়। অতঃপর মেসিডোনিয়াকে সার্বিয়া, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার মাঝে বণ্টন করা হয়। একই সময় প্রথম বলকান যুদ্ধে হারানো টারাকিয়া ও এডির্নে শহর উসমানিরা ফিরে পায়।
📄 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
সকল বিরোধিতা কাটিয়ে উঠে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আনোয়ার পাশা দেশকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে টেনে নিতে সক্ষম হন। যুদ্ধে আকৃষ্ট করতে জার্মানি উসমানিদেরকে পাঁচ মিলিয়ন স্বর্ণমুদ্রা ঋণ প্রদান করে। বিরোধিরাও এজন্য যুদ্ধের শপথ নিতে উৎসাহিত হয়।
প্রথমদিকে উসমানিরা মিত্রবাহিনীর দেশসমূহের সাথে দরকষাকষি করতে চেয়েছিল। যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকার জন্য উসমানিরা কতিপয় শর্ত আরোপ করে। যেমন, বিদেশিরা যে সুযোগ উসমানিদের থেকে গ্রহণ করত, তা বাতিল করে মিশর থেকে ইংরেজদের বেরিয়ে যাওয়া, এজিয়ান সাগর উসমানিদের প্রদান করা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। কিন্তু মিত্রবাহিনী এ প্রস্তাবের কোনো জবাব দেয়নি। ফলে উসমানিরা যুদ্ধে যোগ দেয়। এটি কোমর ভাঙার যুদ্ধ ছিল। চারটি ফ্রন্টে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেগুলো হলো:
১. পূর্ব ফ্রন্ট
এ ফ্রন্টে আনোয়ার পাশা প্রচণ্ড শীত মৌসুমে পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়ে সরে আসেন।
২. সুয়েজ খাল ফ্রন্ট
উসমানি বাহিনী সিনাই হতে সুয়েজখালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সম্মত হওয়া মিশরীয়দের সাথে নির্দিষ্ট সময় তাদের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় আসার পূর্বেই তারা ইংরেজদের ওপর একাকী আক্রমণ করে ব্যর্থ হয়। এরপর জার্মানির নেতৃত্বে দু-দুটি আক্রমণও ব্যর্থ হয়।
৩. এডেন ফ্রন্ট
এ ফ্রন্টের যুদ্ধে উসমানিরা এডেন হতে ইংরেজদেরকে হটাতে চেয়েও ব্যর্থ হয়। ইয়েমেনের শাসক ইদরিসি উসমানিদের ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টিতে সহযোগিতা করে।
৪. দার্দানেলিস ফ্রন্ট
উসমানিরা দার্দানেলিস প্রণালিতে বেষ্টনী গড়ে তোলে, যেন শত্রুরা ইস্তাম্বুল পৌঁছতে না পারে। ইংরেজরা উসমানি সাম্রাজ্যের ওপর আক্রমণ শুরু করে। তারা ফিলিস্তিন দখল করে নেয়। ইংরেজ সেনাপতি এলেনবি বাইতুল মুকাদ্দাসে পৌঁছার পর তার প্রসিদ্ধ উক্তিটি উচ্চারণ করেছিল: 'আজ ক্রুসেড যুদ্ধ সমাপ্ত হলো।' এদিকে ফ্রান্স এসে সিরিয়া দখল করে নেয়।