📄 বিদেশের মাটিতে উসমানিদের কার্যক্রম
রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ
ইউরোপীয় দেশসমূহ উসমানি সাম্রাজ্যে বসবাসরত খ্রিষ্টানদের জীবনযাপন সুন্দর করতে খলিফার নিকট একটি প্রস্তাব পেশ করে। প্রস্তাবে পরিস্থিতি সুন্দর করার কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করার জন্য ইউরোপকে সুযোগ দিতে আহ্বান করা হয়।
খলিফা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ, প্রস্তাবটি রাষ্ট্রীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। রাশিয়া এ প্রত্যাখ্যানকে সুযোগ মনে করে। সে এটিকে যুদ্ধের কারণস্বরূপ যথেষ্ট মনে করে। এবারে ইউরোপ উসমানি সাম্রাজ্যে যথেচ্ছ হস্তক্ষেপ করতে রাশিয়ার জন্য লাগাম ছেড়ে দেয়। রাশিয়া ওয়ালাচিয়া ও মোলদাভিয়ার সাথে এ মর্মে চুক্তি করে যে, রাশিয়া খিলাফতরাষ্ট্রে হস্তক্ষেপকালে তারা উভয়ে তাদের সর্বাত্মক ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। রাশিয়া ওয়ালাচিয়া ও মোলদাভিয়া প্রবেশ করে। অতঃপর দানিয়ুব নদী পার হয়ে বুলগেরিয়ায় প্রবেশ করে এবং এডির্নে দখল করে নেয়। এগোতে এগোতে তারা ইস্তাম্বুলের ৫০ কিলোমিটার নিকটে পৌঁছে যায়। একই সময় পূর্ব দিক থেকে রুশদের অপর একটি বাহিনী আনাতোলিয়ায় এসে পৌঁছে। এ সময় সুযোগ বুঝে সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রো স্বাধীনতা ঘোষণা করে। উসমানিরা বাধ্য হয়ে রাশিয়ার সাথে শান্তিচুক্তি করে।
উল্লেখ্য যে, বুলগেরিয়ার খ্রিষ্টানরা রাশিয়ার অনুপ্রবেশের সুযোগে সেখানে বসবাসরত মুসলিমদের নিধন করা শুরু করে। তারা বীভৎস অপরাধ সংঘটিত করে। মুসলমানদের একাংশ যার যার মতো পালিয়ে যায়, কেউ কেউ পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং বুলগেরিয়ায় অপরাধ সংঘটনকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি নেয়।
সান স্টেফানো চুক্তি
যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর ১২৯৫ হিজরিতে (১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে) রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সাথে খলিফা সান স্টেফানো চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তির বর্ণনা নিম্নরূপ:
• সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রো উসমানি রাষ্ট্র হতে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করবে।
• ওয়ালাচিয়া ও মোলদাভিয়া স্বাধীন হয়ে রোমানিয়া রাজ্য গঠিত হবে, যাতে ট্রান্সসিলভানিয়া ও বেসারাবিয়া যোগ দেবে।
• বুলগেরিয়া প্রশাসনিক স্বাধীনতা লাভ করবে এবং তা উসমানি সৈন্যমুক্ত থাকবে।
• যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ খলিফা রাশিয়াকে ২৪, ৫২, ১৭, ৩৯১ সোনার লিরা প্রদান করবে। আর এ মুদ্রার পরিবর্তে রাশিয়া উসমানি রাষ্ট্রের ভূমিও গ্রহণ করতে পারবে।
• উসমানিরা যে ভূমি হারিয়েছে তা তারা ফেরত পাবে না। সেখানে বসবাসকারী মুসলমানগণ সেই এলাকা ছেড়ে যাবে। তবে তাদের জন্য তাদের জায়গা বিক্রি করে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
• উসমানি প্রণালিসমূহে রাশিয়ার জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা থাকবে।
• উসমানি সাম্রাজ্যে বসবাসকারী খ্রিষ্টানদের জীবনযাপনের অবস্থা ভালো করতে হবে。
ইউরোপের অবশিষ্ট দেশসমূহ উসমানি সাম্রাজ্যের অন্যান্য অংশও গ্রাস করতে চেয়েছে। ইংল্যান্ড রুশদের পক্ষ হতে ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কায় সাইপ্রাস রক্ষার নামে তা দখল করে নেয়। খলিফা বাধ্য হয়ে ইংল্যান্ডের এ দখলদারি মেনে নেন। অতঃপর ইউরোপের উসমানি রাজ্যসমূহ ইউরোপের মাঝে বণ্টনের লক্ষ্যে বার্লিন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১২৯৫ হিজরিতে (১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে) বার্লিন চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ চুক্তিতে সান স্টেফানো চুক্তির পরিবর্তন আনা হয়। চুক্তির ভাষ্য হলো:
• চূড়ান্তভাবে বুলগেরিয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হবে।
• অস্ট্রিয়াকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা প্রদান করা হবে।
• রাশিয়াকে বেসারাবিয়া প্রদান করা হবে এবং রোমানিয়া দুবরুজা প্রদেশ নিয়ন্ত্রণ করবে।
ইউরোপে উসমানিদের এক রাজ্য থাকবে, যার নাম পূর্ব রুমেলি। এটি গঠিত হবে বুলগেরিয়া, মেসিডোনিয়া, আলবেনিয়া, কসোভা ও গ্রিসের একাংশ নিয়ে। রাশিয়া ও উসমানি সাম্রাজ্য প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকবে। আর প্রশাসক হবে একজন খ্রিষ্টান।
উত্তরে গ্রিসের সীমানা বৃদ্ধি পাবে। অথচ যুদ্ধে গ্রিস কোনো পক্ষেই ছিল না。
তিউনিসিয়া দখল
ফ্রান্স ১২৯৯ হিজরিতে (১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে) তিউনিসিয়া দখল করতে সক্ষম হয়। তাদের মোকাবিলায় উসমানিরা কিছুই করতে পারেনি।
মিশর দখল
ইংল্যান্ড মিশরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। তারা ১২৯৯ হিজরিতে গ্রেট হিল যুদ্ধের পর মিশর দখল করে নেয়।
সুদান দখল
মুহাম্মাদ আলি সুদান জয়ের পর থেকে সুদান মিশরের শাসনাধীন ছিল। ইংরেজরা মিশর দখল করার পর সুদানের প্রতি তাদের চোখ পড়ে। প্রতীক্ষিত মাহদি দাবিদারের মাহদিয়া আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে ইংরেজরা সুদানের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেয়। তারা মাহদিয়া আন্দোলনকে দমন করে সুদানে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।
মিশরের নিয়ন্ত্রণাধীন পূর্ব আফ্রিকা
ফ্রান্স ও ইতালি ইথিওপিয়ার সাথে এ দেশটি ভাগাভাগি করে নেয়।
খলিফাকে অপসারণের পর তিনি ১৩৩৬ হিজরিতে (১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে) ইনতেকাল করেন。