📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সিরিয়ায় গোষ্ঠিগত সমস্যা

📄 সিরিয়ায় গোষ্ঠিগত সমস্যা


সিরিয়া-লেবানন পাহাড়ে দরজি, ম্যারোনাইট ও নাসিরিয়াসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাস। দরজের জনগোষ্ঠী লেবানন পাহাড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর ছিল। তাদেরকে ইংল্যান্ড সমর্থন ও সহযোগিতা করে। আর ফ্রান্স সহযোগিতা করত ম্যারোনাইটদেরকে। ১২৫৭ হিজরিতে দরজিরা দাইরুল কামারে প্রবেশ করে ম্যারোনাইটদের ওপর আক্রমণ করে। তারা এদের সাথে ন্যক্কারজনক আচরণ করে। দুপক্ষের মাঝে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ বৃদ্ধি পায়। খলিফা শান্তিপূর্ণ পন্থায় পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। ফলে একদিকে ইউরোপ খিলাফতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায়। অপরদিকে সাম্রাজ্যে খ্রিষ্টানরা শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে খলিফা সৈন্য প্রেরণ করেন। কিন্তু ইউরোপ খলিফাকে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদেরকে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি দিতে বাধ্য করে। তাদের যুক্তি হলো, খলিফা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন না। ফ্রান্স ১২৭৭ হিজরিতে (১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে) ৬০০০ সৈন্য প্রেরণ করে লেবানন পর্বতমালায়। অতঃপর লেবাননি পর্বতকে উসমানিদের অধীনে রেখে স্বাধীনতা প্রদানের ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হবে একজন খ্রিষ্টান। সে তিন বছরকাল প্রেসিডেন্ট থাকবে। ইউরোপের সম্মতি ব্যতীত খলিফা তাকে বরখাস্ত করতে পারবেন না। এ চুক্তির ভিত্তিতে ফ্রান্স লেবানন হতে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়। অতঃপর খলিফা আবদুল মাজিদ ১২৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00