📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মুহাম্মাদ আলির সাথে অব্যাহত যুদ্ধ

📄 মুহাম্মাদ আলির সাথে অব্যাহত যুদ্ধ


মুহাম্মাদ আলির সাথে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। উসমানি নৌবাহিনী প্রধান মনে করেন যে, একমাত্র মুহাম্মাদ আলিই উসমানি সাম্রাজ্যের প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে পারবে। তাই তিনি উসমানি নৌবহরকে মুহাম্মাদ আলির নিকট সমর্পণ করেন।

মুহাম্মাদ আলির শক্তি বৃদ্ধিতে ইউরোপীয়দের অন্তরে ভীতির সৃষ্টি হয়। বিশেষত যখন তারা দেখতে পেল যে, উসমানিরা তার সম্মুখে টিকতে পারছে না। অতঃপর রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স খলিফার নিকট একটি যৌথ প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে বলা হয়, খলিফা যেন তাদের পরামর্শ ব্যতীত মুহাম্মাদ আলির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে। তারা খলিফাকে প্রতিশ্রুতি দেয় যে, তারা খলিফা ও মুহাম্মাদ আলির মাঝে মধ্যস্থতা করবে। খলিফা তাদের মতের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

ইংল্যান্ড, রাশিয়া, প্রুশিয়া ও অস্ট্রিয়া ১২৫৬ হিজরিতে (১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে) একটি চুক্তিতে পৌঁছায়, যাতে উসমানিরাও স্বাক্ষর করে। ফ্রান্স এ চুক্তি থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখে। ফ্রান্স মুহাম্মাদ আলিকে এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করতে উৎসাহিত করে এবং বলে যে, অন্যান্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থানকালে তাকে সাহায্য করবে। চুক্তির প্রস্তাবিত ধারাসমূহ হলো :
১. মুহাম্মাদ আলি উসমানি সাম্রাজ্যের যে সকল অংশ দখল করেছে, তা হতে সরে যাবে।
২. মুহাম্মাদ আলি মিশর ও দক্ষিণ সিরিয়া নিজ অধিকারে রাখবে। সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর মুহাম্মাদ আলি অত্যাচার করলে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া নাগরিকদের সাহায্যে দাঁড়াবার অধিকার পাবে। যদি মুহাম্মাদ আলি ইস্তাম্বুল আক্রমণ করে তাহলে রাশিয়া, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার ইস্তাম্বুলে হস্তক্ষেপ করার অধিকার থাকবে। আর যদি আক্রমণ না করে তাহলে তারা ইস্তাম্বুলে প্রবেশ করবে না।

ইংল্যান্ড, রাশিয়া, প্রুশিয়া ও অস্ট্রিয়ার কনস্যুলারগণ মিশর এসে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্তাব করে যে, মিশর মুহাম্মাদ আলির উত্তরাধিকার হিসেবে থাকবে এবং একে অঞ্চল ও দক্ষিণ সিরিয়া তার জীবদ্দশায় সে নিয়ন্ত্রণ করবে। অতঃপর উসমানি প্রতিনিধি এসে মুহাম্মাদ আলিকে অবহিত করে যে, মিশর তার উত্তরাধিকার হিসেবে থাকবে। মুহাম্মাদ আলি এ প্রতিনিধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং তাকে মিশর হতে তাড়িয়ে দেয়। ফ্রান্স মিশরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। মিশর একাকী ইউরোপীয় রাষ্ট্রসমূহের মোকাবিলা করে। সে সময় ইউরো জোটের রাষ্ট্রসমূহ যে ভূমিকা রেখেছিল তা নিম্নরূপ:

রাশিয়া ইস্তাম্বুলে অবস্থান করার সুযোগ পাওয়াতে সন্তুষ্ট। ইংল্যান্ড কতিপয় অস্ট্রীয় নৌবহরের সাথে তাদের বিশাল নৌবহর নিয়ে সিরিয়ায় হাজির হয়। যৌথবাহিনী বৈরুতে অবতরণ করে। তারা মুহাম্মাদ আলির পুত্র ইবরাহিমের নেতৃত্বে যুদ্ধরত বাহিনীর বিরুদ্ধে বিরাট বিজয় লাভ করে। ইবরাহিম তার বাহিনী নিয়ে মিশরে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। ফেরার পথে বিভিন্ন আরব গোত্রের হামলায় তার বাহিনীর অনেকের প্রাণহানি ঘটে।

অতঃপর ইউরোপ মুহাম্মাদ আলি ও উসমানিদের মাঝে মধ্যস্থতা করে। তারা সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে, মুহাম্মাদ আলি যদি উসমানিদের নৌবহর ফিরিয়ে দেয়, তার সৈন্যসংখ্যা ১৮০০০-এর মাঝে সীমাবদ্ধ রাখে, নৌবহর তৈরি না করে এবং উসমানিদেরকে বাৎসরিক ৮০০০০ মুদ্রা কর প্রদান করে, তাহলে সে মিশরকে উত্তরাধিকার হিসেবে ভোগ করতে পারবে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 প্রণালি চুক্তি

📄 প্রণালি চুক্তি


উসমানি সাম্রাজ্যে রাশিয়ার প্রভাব খর্ব করতে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স হানকার এস্কেলেসি চুক্তি বাতিল করতে একমত হয়। তারা সবাই ১২৫৭ হিজরিতে (১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দে) ঐকমত্য পোষণ করে যে, উসমানি প্রণালি সকলের জন্য বন্ধ থাকবে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 রাশিয়ার সাথে ক্রিমিয়ার যুদ্ধ

📄 রাশিয়ার সাথে ক্রিমিয়ার যুদ্ধ


পূর্বে ফ্রান্স বাইতুল মুকাদ্দাসের গির্জাসমূহের তত্ত্বাবধান করত। নেপোলিয়ন যুদ্ধে ব্যস্ত থাকায় রাশিয়া ফ্রান্সের স্থলে এ দায়িত্ব পালন করে। অতঃপর ফ্রান্স তাদের দায়িত্ব ফিরে পেতে চায়। তখন খলিফা পোপদের একটি কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি গির্জার তত্ত্বাবধানে ফ্রান্সের অগ্রাধিকার রয়েছে মর্মে রায় দেয়। অতঃপর রাশিয়া উসমানি খলিফাকে যুদ্ধের হুমকি দেয়।

রুশরা ইংল্যান্ডের সাথে সলাপরামর্শ করে পরিকল্পনা গ্রহণ করে যে, তারা উসমানি সাম্রাজ্যকে তাদের মাঝে ভাগ করে নেবে। সাম্রাজ্যের মিশর অংশ ইংল্যান্ডকে দেওয়া হবে। ইংল্যান্ড রাশিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ফ্রান্সকেও অনুরূপ প্রস্তাব করে। প্রস্তাবে ফ্রান্সকে তিউনিসিয়া প্রদানের প্রস্তাব করা হয়। ফ্রান্স তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এ পর্যায়ে রাশিয়া খলিফাকে হুমকি দেয় যে, যদি উসমানি খলিফা হানকার এস্কেলেসি চুক্তি বহাল না রাখে তাহলে রাশিয়া ওয়ালাচিয়া ও মোলদাভিয়া দখল করে নেবে। আর রাশিয়াকে উসমানি সাম্রাজ্যে বসবাসকারী খ্রিষ্টানদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। খলিফা রাশিয়ার হুমকির পরোয়া করেননি। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স তাকে প্রতিশ্রুতি দেয় যে, তার বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তারা তা প্রতিহত করতে এগিয়ে আসবে।

অপেক্ষমাণ রুশ আক্রমণ প্রতিহত করতে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের রণতরী দার্দানেলিস নদের প্রণালিমুখে যাত্রা করে। রাশিয়া ওয়ালাচিয়া ও মোলদাভিয়া দখল করে নেয়। অস্ট্রিয়া দুপক্ষের মাঝে চুক্তি করতে ১২৬৯ হিজরিতে (১৮৫৩ খ্রিষ্টাব্দে) ভিয়েনায় একটি সম্মেলন আয়োজন করার চেষ্টা করে। কিন্তু ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড সম্মেলনটি ব্যর্থ করার প্রয়াস পায়। তারা খলিফাকে সম্মেলনের সকল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জন্য উদ্বুদ্ধ করে।

রাশিয়া উসমানীয়দের হুমকি দিলে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, ইতালি বায়ুমন্ট সাম্রাজ্য ও সুইডেন এ পাঁচটি দেশ উসমানীয়দের পক্ষে থাকতে জোট গঠন করে। জোটবাহিনী ফ্রন্টে ফ্রন্টে বিভক্ত হয়ে চতুর্দিক থেকে যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে এগোতে থাকে। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের নৌবহর ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল বন্দরে আঘাত হানে। জোটবাহিনীর বিভিন্ন পোর্টে আঘাত করা হয়। অধিকন্তু কৃষ্ণসাগরে অবস্থিত রুশ বন্দরেও ব্যাপক আক্রমণ করা হয়। অতঃপর যৌথবাহিনী রাশিয়ার ভেতরে প্রবেশ করার পর রাশিয়া চুক্তির আহ্বান জানায়। ১২৫৬ সালে প্যারিসে এ চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির ভাষ্যমতে :

১. ওয়াল্যাচিয়া ও মোলদাভিয়া খলিফার অধীনে থাকবে।
২. যৌথবাহিনী কর্তৃক দখলকৃত রাশিয়ার ভূমি ফেরত দেওয়া হবে এবং সকল বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
৩. সার্বিয়া স্বাধীনতা ভোগ করবে। তাদের সাথে উসমানি সাম্রাজ্যের সম্পর্ক থাকবে।
৪. রাশিয়া বা উসমানীয়রা কেউই কৃষ্ণসাগরে সামুদ্রিক যুদ্ধনীতি লঙ্ঘন করতে পারবে না। এ সাগরে সকলেই নৌ চলাচলের অধিকার রাখবে।
৫. দানিয়ুব নদীতে সকলের জন্য নৌ চলাচলের অধিকার থাকবে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা

📄 অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা


ইউরোপের দেশসমূহ উসমানি সাম্রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহ ছড়িয়ে দিতে কাজ করে। তারা ওয়াল্যাচিয়া ও মোলদাভিয়ার স্বায়ত্তশাসন চালু করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করে। এ অঞ্চলের নাম দেওয়া হয় ইউনাইটেড স্টেটস গভর্নমেন্ট। এ দেশটি সকল ইউরোপীয় দেশের তত্ত্বাবধানে থাকে। তারা সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রোতে বিদ্রোহে সহযোগিতা করে যায় এবং উসমানীয়দেরকে এ বিদ্রোহ দমনের ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে। জেদ্দাতে খ্রিস্টানদের ওপর আক্রমণ করা হয়। এ আক্রমণে ফ্রান্সের কন্সুলার আহত হয়। মক্কার গভর্নর পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় ইংরেজরা জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00