📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মুহাম্মাদ আলির অতি লোভ

📄 মুহাম্মাদ আলির অতি লোভ


মুহাম্মাদ আলি হিজায ও ক্রিট অঞ্চলকে তার সাম্রাজ্যের সাথে যুক্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং সে ১২৪৭ হিজরিতে (১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে) ছেলে ইবরাহিম পাশার নেতৃত্বে সিরিয়ায় অভিযান প্রেরণ করে। ইবরাহিম অন্যান্য গভর্নরের পক্ষ হতে আসা বাধা ঠেলে সামনে এগিয়ে যায়। পাশ থেকে মিশরীয় নৌবহর তাকে সমর্থন ও প্রয়োজনীয় সাহায্য করে। এভাবে সে আনাতোলিয়ায় পৌঁছে যায় এবং উসমানি সেনাকমান্ডার রশিদ পাশাকে পরাজিত করে বন্দি করে। অতঃপর অগ্রসর হতে হতে সে ইস্তাম্বুলের সন্নিকটে পৌঁছে যায়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 কোতাহিয়া চুক্তি

📄 কোতাহিয়া চুক্তি


ইউরোপ প্রাথমিক পর্যায়ে মুহাম্মাদ আলিকে উৎসাহিত করলেও মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কাবোধ করে। তারা বুঝতে পারে যে, এ শক্তি একদিন তাদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই রাশিয়া উসমানিদের সাহায্যে পনেরো হাজার সৈন্য প্রেরণ করে। রাশিয়ার এমন প্রভাব বিস্তারকে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স বিপজ্জনক ভাবতে শুরু করে। তাই তারা মুহাম্মাদ আলির সাথে চুক্তি করার জন্য মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে আসে ও উভয় পক্ষের মাঝে চুক্তি করে।
১২৪৮ হিজরিতে (১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দে) কোতাহিয়া চুক্তি সই হয়। চুক্তির বর্ণনায় রয়েছে:

১. মুহাম্মাদ আলি আনাতোলিয়া হতে পিছিয়ে তাউরুস(৬০) পর্বতমালার বাহিরে চলে যাবে।

২. মুহাম্মাদ আলি তার জীবদ্দশায় মিশর শাসন করবে।

৩. মুহাম্মাদ আলির পুত্র ইবরাহিম আদানা(৬১) অঞ্চলে গভর্নর নিয়োজিত হবে। এটি আনাতোলিয়ার বৃহত্তম একটি অঞ্চল।

৪. মুহাম্মাদ আলি সিরিয়ার চারটি প্রদেশে গভর্নর নিয়োগ দেবে। প্রদেশসমূহ হলো একে, ত্রিপোলি, দামেশক ও আলেপ্পো। ক্রিট দ্বীপেও সে গভর্নর নিয়োগ দেবে।
মুহাম্মাদ আলি কোতাহিয়া চুক্তিতে তুষ্ট হতে পারেনি। সে মিশর, সিরিয়া ও আরব-দ্বীপ অধীনে নিয়ে আসতে চাইল। তার আরও ইচ্ছা ছিল, তার অবর্তমানে সন্তানেরা এসকল অঞ্চল শাসন করুক। এ বিষয়ে ইউরোপ দুপক্ষের মাঝে মধ্যস্থতা করে। উসমানিরা তার সাথে পরামর্শ করে ঐকমত্যে পৌঁছে যে, মিশর, জাজিরাতুল আরব মুহাম্মাদ আলি ও তার সন্তানদের উত্তরাধিকার হিসেবে থাকবে। আর সে যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন সিরিয়া শাসন করবে। পরবর্তী সময়ে তাউরুস পর্বতমালা দখল নিয়ে দুপক্ষের মাঝে বিরোধ দেখা দেয়। এ পর্বতমালা সিরিয়া ও আনাতোলিয়ার মাঝে প্রাকৃতিকভাবে দেয়াল হয়ে আছে।

উসমানিরা হাফিজ পাশার নেতৃত্বে অভিযান প্রেরণ করে। জার্মান সেনাপতি হেলমুট ফন মোল্টকে তাদেরকে সহযোগিতা করে। উভয় দল নাসিব নামক স্থানে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। যুদ্ধে ইবরাহিম পাশা বিজয় লাভ করে এবং উসমানি বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র ফেলে পলায়ন করে। খলিফা দ্বিতীয় মাহমুদ ১২৫৫ হিজরিতে (১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে) ইনতেকাল করেন。

টিকা:
৬০. তাউরুস: তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত পর্বতমালা।
৬১. আদানা: তুরস্কের দক্ষিণের বৃহৎ একটি শহর।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 হানকার এস্কলেসি চুক্তি

📄 হানকার এস্কলেসি চুক্তি


রাশিয়া ও উসমানি সাম্রাজ্যের মাঝে এ মর্মে চুক্তি সম্পাদিত হয় যে, রাশিয়া উসমানি সাম্রাজ্যকে রক্ষা করবে। এ চুক্তির সুবাদে রাশিয়া উসমানি সাম্রাজ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00