📄 এড্রিনে চুক্তি
রাশিয়া উসমানি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তারা ওয়ালাচিয়া ও মোলদাভিয়া দখল করে নিতে সক্ষম হয় এবং এ সকল প্রদেশে নিজেদের প্রশাসক নিযুক্ত করে। উসমানি এক নেতা ইউসুফ পাশার বিশ্বাসঘাতকতার ফলে বুলগেরিয়া শহর দখলে নিতে সমর্থ হয়। এ নেতা রাশিয়ার নিকট বুলগেরিয়া শহর সমর্পণ করে।
এরপর রাশিয়া আলাতোলিয়া শহরের পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে। তারা এডির্নে শহর দখল করে বেদনাদায়ক ঘটনার জন্ম দেয়। এ শহর হতে ইস্তাম্বুল খুবই নিকটে অবস্থিত। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স দ্রুত রাশিয়ার অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়। উসমানিদের স্বার্থের চেয়ে বরং ইংল্যান্ড ও ফরাসিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা এগিয়ে এসেছিল। অন্যথায় রাশিয়া ইস্তাম্বুল পৌঁছাতে সক্ষম হলে তাদের স্বার্থহানি ঘটত। তখন এডির্নে চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির বর্ণনামতে:
১. রাশিয়া উসমানিদেরকে ওয়ালাচিয়া, মোলদাভিয়া দুবরুজা, সাইপ্রাস ও এরজুরামই(৫৯) ফিরিয়ে দেবে।
২. উসমানিদের প্রণালিতে রুশ জাহাজ তল্লাশি করা যাবে না।
৩. অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের মতো রাশিয়াও উসমানিদের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে।
৪. উসমানিরা রাশিয়ার যুদ্ধ-ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।
৫. সার্বিয়া স্বাধীন থাকবে এবং উসমানিরা সার্বিয়ার যে-সকল দুর্গ দখলে রেখেছে তা হস্তান্তর করবে।
প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা, চিন্তা করে দেখুন! চতুর্থ ধারাটি প্রমাণ করে যে, ইউরোপ উসমানিদেরকে উসমানি সাম্রাজ্য গঠিত হতে ও তাদের বাহিনীকে সুসজ্জিত করতে সুযোগ দিতে চায় না। তারা চায় যে, উসমানিরা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ুক। যেন তারা সহজে তাদেরকে ধ্বংস করে দিতে পারে। চুক্তির অন্যান্য ধারাও একইরকম অর্থ বহন করে।
টিকা:
৫৯. এরজুরাম: তুরস্কের অন্তর্গত একটি প্রদেশ। -সম্পাদক
📄 আলজেরিয়া দখল
ফ্রান্স অতীব স্থুল ও দুর্বল কারণ দেখিয়ে ১২৪৫ হিজরিতে (১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে) আলজেরিয়া আক্রমণ করে। আবদুল কাদিরের নেতৃত্বে সাহসী প্রতিরোধ গড়া হলেও তারা আলজেরিয়া দখলে রাখতে সক্ষম হননি। অবশেষে ১২৬৩ হিজরিতে (১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
📄 জেনিসারি বাহিনী বাতিল
জেনিসারি বাহিনী উসমানি সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে। তারা খলিফা নিয়োগ, অপসারণ, হত্যা এমনকি তৃতীয় কোনো পক্ষকে খলিফা নিয়োগ করার মতো দুঃসাহস দেখাত। নিয়মিত বাহিনী সন্তোষজনক অবস্থায় পৌঁছার পর খলিফা দ্বিতীয় মাহমুদ জেনিসারি বাহিনীকে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মিশরে মুহাম্মাদ আলি পাশার বাহিনীর সফলতাও তাকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে।
খলিফা রাষ্ট্রের মুফতির বাড়িতে সভা ডাকেন। সাম্রাজ্যের কর্তা ব্যক্তি ও বিশেষ বাহিনী (জেনিসারি)-এর নেতাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সভায় এ বাহিনীকে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু বিশেষ বাহিনী এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তারা ইস্তাম্বুলের একটি ময়দানে বিদ্রোহের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়। ১২৪০ হিজরিতে (১৮২৫ খ্রিষ্টাব্দে) উসমানিদের ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে তারা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। খলিফা নিয়মিত বাহিনী গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি সৈন্যদের প্রশিক্ষণের জন্য ইউরোপীয় প্রশিক্ষক নিয়োগ দেন। এভাবে একটি মুসলিম দেশ ইউরোপীয় বেশভূষা গ্রহণ করলে পাগড়ির পরিবর্তে সেখানে হেলমেট স্থান করে নেয়।
📄 মুহাম্মাদ আলির অতি লোভ
মুহাম্মাদ আলি হিজায ও ক্রিট অঞ্চলকে তার সাম্রাজ্যের সাথে যুক্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং সে ১২৪৭ হিজরিতে (১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে) ছেলে ইবরাহিম পাশার নেতৃত্বে সিরিয়ায় অভিযান প্রেরণ করে। ইবরাহিম অন্যান্য গভর্নরের পক্ষ হতে আসা বাধা ঠেলে সামনে এগিয়ে যায়। পাশ থেকে মিশরীয় নৌবহর তাকে সমর্থন ও প্রয়োজনীয় সাহায্য করে। এভাবে সে আনাতোলিয়ায় পৌঁছে যায় এবং উসমানি সেনাকমান্ডার রশিদ পাশাকে পরাজিত করে বন্দি করে। অতঃপর অগ্রসর হতে হতে সে ইস্তাম্বুলের সন্নিকটে পৌঁছে যায়।