📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সার্বিয়ার বিদ্রোহ

📄 সার্বিয়ার বিদ্রোহ


বুখারেস্ট চুক্তিতে সার্বিয়াকে উসমানিদের অধীনে দেওয়ায় সার্বরা ক্রুদ্ধ হয় এবং বিদ্রোহ করে বসে। উসমানিরা তাদের বিদ্রোহ দমন করে। অতঃপর বিদ্রোহী নেতারা অস্ট্রিয়ায় পালিয়ে যায়। নেতাদের মাঝে কেবল টিউড্রপ্টাস উসমানিদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে থেকে যায়। মূলত সে উসমানিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং সেখানকার নাগরিকদের মাঝে বিচ্ছিন্নতার বীজ রোপণ করার জন্য কাজ করে। একপর্যায়ে তার শক্তি বৃদ্ধি পেলে ১২৩০ হিজরিতে (১৮১৫ খ্রিষ্টাব্দে) সে বিদ্রোহ করে বসে। উসমানি বাহিনী তার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে সে পুনরায় উসমানিদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। সে ওয়াদা করে যে, সার্বিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না এবং সার্বিয়ার দুর্গে একমাত্র উসমানিদের ক্ষমতা চলবে। উসমানিরা তার আবেদনে সম্মত হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 গ্রিসের বিদ্রোহ

📄 গ্রিসের বিদ্রোহ


উসমানিরা বিজিত অঞ্চলের লোকদের ধর্মবিশ্বাস, সভ্যতা ও ভাষার ওপর হস্তক্ষেপ না করার কারণে তাদের সাথে উসমানিদের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। এ সকল বিজিত দেশের মাঝে রয়েছে গ্রিস। গ্রিসের কিছু নাগরিক বিচ্ছিন্নতার ছক তৈরির জন্য ইউরোপে পাড়ি জমায়। তারা অস্ট্রিয়া ও রাশিয়াতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। অতঃপর তারা প্রস্তুত হয়ে উসমানিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। খুরশিদ পাশা তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু পরাভূত হয়ে তিনি শেষপর্যন্ত আত্মহত্যা করে বসেন।
মিশরের গভর্নর মুহাম্মাদ আলি সুদান জয় করে। অতঃপর খলিফা তাকে গ্রিসের বিদ্রোহ দমনের নির্দেশ দেন। মুহাম্মাদ আলি বিদ্রোহ দমনের জন্য স্বীয় পুত্র ইবরাহিমকে গ্রিসে প্রেরণ করে। মিশরীয় বাহিনী গ্রিসে বিজয় ছিনিয়ে নেয়। যুদ্ধে ইউরোপীয়রা গ্রিসকে পূর্ণ সহায়তা দিয়েছিল। মুহাম্মাদ আলি ১২৪১ হিজরিতে (১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দে) গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। তাকে বাধা দিতে রাশিয়া ও ইংল্যান্ড হস্তক্ষেপ করে। তারা উসমানিদেরকে ১২৪২ হিজরিতে আক কিরমান চুক্তি সম্পাদনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, উভয় দেশ যে চুক্তিটি সম্পাদন করে তাতে গ্রিসের প্রসঙ্গ উল্লেখ ছিল না। চুক্তির অন্যতম ধারা হলো, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়া ও ইংল্যান্ডের নৌবহর চলাচলের স্বাধীনতা থাকবে এবং কোনোরূপ তল্লাশি ব্যতীত রুশরা বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালি অতিক্রম করার অধিকার সংরক্ষণ করবে। অধিকন্তু রাশিয়া ওয়ালাচিয়া ও মোলদাভিয়ার শাসক নির্বাচিত করবে। উসমানিরা রাশিয়ার সম্মতি ব্যতীত এদেরকে বরখাস্ত করার অধিকার রাখবে না।

অপরদিকে সার্বিয়া পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। উসমানিরা বেলগ্রেডদুর্গসহ মোট তিনটি দুর্গ অধিকারে রাখতে পারবে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 লন্ডন সম্মেলন

📄 লন্ডন সম্মেলন


ইউরোপীয়রা উসমানিদেরকে যুদ্ধে জড়াতে অস্থির হয়ে পড়ে। ১২৪২ হিজরিতে (১৮২৭ খ্রিষ্টাব্দে) ইংল্যান্ড উসমানিদের দখলে থাকা খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যসমূহ ও উসমানি সাম্রাজ্যের মধ্যবর্তী স্থানে একটি খ্রিষ্টানরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়। উসমানিরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ইউরোপীয়দের দাবি না মানার কারণে তারা উসমানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণ খুঁজে পায়। রাশিয়া, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স উসমানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে একজোট হয়। তারা দাবি করে যে, যদি উসমানিরা গ্রিসকে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান না করে, তাহলে তারা যুদ্ধ করবে। তারা খলিফাকে গ্রিস হতে সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে এক মাসের সময় দেয়।
খলিফা তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাশিয়া, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের নৌবহর গ্রিস অভিমুখে যাত্রা করে। তারা ইবরাহিম পাশাকে গ্রিস হতে সরে যেতে আদেশ করে। তিনি তাদের কথা মানেন না। ফলে ইউরোপীয় জোট উসমানি ও মিশরীয় নৌবহরের ওপর আক্রমণ করে এবং এগুলোকে গ্রিসের সীমানায় ধ্বংস করে দেয়। ইবরাহিম পাশা ক্রুসেডারদের সাথে যুদ্ধে ৩০ হাজার মিশরীয় সৈন্য হারান। অবশিষ্ট সৈন্যদেরকে নিয়ে তিনি মিশরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ইউরোপীয় জোট লন্ডন সম্মেলনের আয়োজন করে এবং সেখানে খলিফাকে আমন্ত্রণ জানায়। খলিফা সম্মেলনের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। সম্মেলনে ক্রুসেডারগণ গ্রিসকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করে। উসমানিরা তাদের সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 এড্রিনে চুক্তি

📄 এড্রিনে চুক্তি


রাশিয়া উসমানি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তারা ওয়ালাচিয়া ও মোলদাভিয়া দখল করে নিতে সক্ষম হয় এবং এ সকল প্রদেশে নিজেদের প্রশাসক নিযুক্ত করে। উসমানি এক নেতা ইউসুফ পাশার বিশ্বাসঘাতকতার ফলে বুলগেরিয়া শহর দখলে নিতে সমর্থ হয়। এ নেতা রাশিয়ার নিকট বুলগেরিয়া শহর সমর্পণ করে।

এরপর রাশিয়া আলাতোলিয়া শহরের পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে। তারা এডির্নে শহর দখল করে বেদনাদায়ক ঘটনার জন্ম দেয়। এ শহর হতে ইস্তাম্বুল খুবই নিকটে অবস্থিত। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স দ্রুত রাশিয়ার অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়। উসমানিদের স্বার্থের চেয়ে বরং ইংল্যান্ড ও ফরাসিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা এগিয়ে এসেছিল। অন্যথায় রাশিয়া ইস্তাম্বুল পৌঁছাতে সক্ষম হলে তাদের স্বার্থহানি ঘটত। তখন এডির্নে চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির বর্ণনামতে:

১. রাশিয়া উসমানিদেরকে ওয়ালাচিয়া, মোলদাভিয়া দুবরুজা, সাইপ্রাস ও এরজুরামই(৫৯) ফিরিয়ে দেবে।

২. উসমানিদের প্রণালিতে রুশ জাহাজ তল্লাশি করা যাবে না।

৩. অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের মতো রাশিয়াও উসমানিদের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে।

৪. উসমানিরা রাশিয়ার যুদ্ধ-ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

৫. সার্বিয়া স্বাধীন থাকবে এবং উসমানিরা সার্বিয়ার যে-সকল দুর্গ দখলে রেখেছে তা হস্তান্তর করবে।

প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা, চিন্তা করে দেখুন! চতুর্থ ধারাটি প্রমাণ করে যে, ইউরোপ উসমানিদেরকে উসমানি সাম্রাজ্য গঠিত হতে ও তাদের বাহিনীকে সুসজ্জিত করতে সুযোগ দিতে চায় না। তারা চায় যে, উসমানিরা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ুক। যেন তারা সহজে তাদেরকে ধ্বংস করে দিতে পারে। চুক্তির অন্যান্য ধারাও একইরকম অর্থ বহন করে।

টিকা:
৫৯. এরজুরাম: তুরস্কের অন্তর্গত একটি প্রদেশ। -সম্পাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00