📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 কিনারচা চুক্তি (১১৮৮ হি./১৭৭৩ খ্রি.)

📄 কিনারচা চুক্তি (১১৮৮ হি./১৭৭৩ খ্রি.)


রুশ নৌবহর বুলগেরিয়ার ভার্না শহরে আক্রমণ করে। এ সৈন্যরা উসমানি সেনা শিবির অবরুদ্ধ করতে সক্ষম হয়। প্রধানমন্ত্রী রুশদের নিকট শান্তিচুক্তির আবেদন করলে রুশরা সাড়া দেয় এবং উভয় পক্ষ কিনারজা চুক্তি সম্পাদন করে। চুক্তির ধারায় যা উল্লেখ আছে:
১. উসমানিরা ক্রিমিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবে। (বর্তমান মোলদাভিয়া প্রজাতন্ত্র, ইউক্রেনের কিছু অংশ এবং রোমানিয়া প্রজাতন্ত্রের দুবরুজা অঞ্চল নিয়ে গঠিত তৎকালীন) বেসারাবিয়া ছেড়ে দেবে। অনুরূপভাবে তারা ককেশাসের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কোবান অঞ্চলকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি প্রদান করবে। এ সকল অঞ্চল স্বাধীন করার পেছনে রাশিয়ার উদ্দেশ্য হলো এগুলো দখল করার ক্ষেত্র তৈরি করা।
২. কৃষ্ণসাগরে রুশ নৌবহর চলাচলের স্বাধীনতা প্রদান।
৩. যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে উসমানি সাম্রাজ্য রাশিয়াকে তিন কিস্তিতে পনেরো হাজার কাইস (পনেরো লক্ষ ডলার সমমূল্যের মুদ্রা) পরিশোধ করতে হবে। প্রত্যেক খ্রিষ্ট বছরের শুরুতে কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।
৪. উসমানি সাম্রাজ্যে অবস্থানকারী অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের রক্ষা করার অধিকার রাশিয়ার থাকবে এবং তারা ইস্তাম্বুলে একটি গির্জা নির্মাণ করতে পারবে।

রাশিয়া অব্যাহতভাবে তার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে চলে। তারা ক্রিমিয়ায় বিশৃঙ্খলার আগুন জ্বালিয়ে সেখানে হস্তক্ষেপ করার যুক্তি দাঁড় করে।

পরক্ষণে তারা ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। এরূপ রুশ আগ্রাসনের ফলে উসমানিরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। অতঃপর উসমানিরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার প্রায় দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। এমতাবস্থায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত তাদেরকে রাশিয়ার ব্যাপক যুদ্ধপ্রস্তুতি, রাশিয়ার প্রতি অস্ট্রিয়ার সংহতি এবং উসমানি সাম্রাজ্যকে খণ্ডবিখণ্ড করার সুযোগের অপেক্ষায় থাকার কথা অবহিত করলে উসমানিরা যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকে।

রাশিয়া উসমানি সাম্রাজ্যের ভূমি দখল করার উদ্দেশ্যে উঠেপড়ে লাগে। উসমানিদের সাথে যুদ্ধ করতে তারা অস্থির হয়ে পড়ে। অতঃপর তারা জর্জিয়া দখলের ঘোষণা দেয় এবং তাদের গোয়েন্দাদেরকে অর্থোডক্সপ্রধান অঞ্চল, যথা ওয়ালাচিয়া, মোলদাভিয়া, মুরা ও সার্বিয়ায় বিশৃঙ্খলা উসকে দিতে ছেড়ে দেয়। রুশ শাসকেরা তাদের জাতিকে উসমানিদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। সম্রাজ্ঞী দ্বিতীয় ক্যাথরিন ক্রিমিয়া সফরে গেলে বাইজান্টাইনের পথে লেখা বিজয়সূচক প্লে-কার্ড বহন করে। তার লক্ষ্য ছিল কনস্টান্টিনোপল পৌঁছা।

অর্থোডক্স ধর্মে বিশ্বাসী রুশরা ভুলে যায়নি এবং কখনো ভুলতেও পারবে না যে, উসমানিরা তাদের পবিত্র স্থানকে মসজিদে রূপান্তর করেছিল। তাদের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা ছিল ইস্তাম্বুল দখল করা এবং প্রাচীন যুগে ফিরে যাওয়া। বিশেষত অর্থোডক্স গির্জার সদর দপ্তর মস্কোতে স্থানান্তর করার পর রুশরা মনে করতে থাকে যে, তারাই পৃথিবীতে অর্থোডক্স মতবাদের রক্ষক এবং সবচেয়ে শক্তিশালী জাতি।

চলমান ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে উসমানিরা অবগত হয়ে রুশদের আক্রমণ করার পূর্বে তারা রুশদের ওপর আক্রমণ করার প্রত্যয় ঘোষণা করে। তারা রুশ রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে রাশিয়ার নিকট এমন কতিপয় দাবি উত্থাপন করে, যাতে রাশিয়াকে এ যুদ্ধে টেনে আনা যায়। তাদের দাবিসমূহের মাঝে রয়েছে:
১. রাশিয়াকে জর্জিয়ার দখল ছেড়ে দিতে হবে।
২. রাশিয়া কর্তৃক দখলকৃত কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় অঞ্চলে রুশ কর্তৃক নিয়োজিত উসকানিদাতা কনস্যুলেটদেরকে হটিয়ে তৎস্থলে উসমানিদের কনস্যুলেট নিযুক্ত করার সুযোগ দিতে হবে।
৩. দার্দানেলিস প্রণালি দিয়ে অতিক্রমকারী রুশ জাহাজসমূহে উসমানিদেরকে তল্লাশি করার অধিকার প্রদান করতে হবে।
৪. রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণকারী ওয়ালাচিয়ার শাসককে উসমানিদের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

অতঃপর রাশিয়া উসমানিদের প্রত্যাশানুযায়ী এসকল দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ফলে উসমানিরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। উভয়ের মাঝে সংঘর্ষ শুরু হয়। রুশরা ১২০৩ হিজরিতে (১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে) উজে নগরী দখলে নিতে সক্ষম হয়। সে সময় অস্ট্রিয়া সুযোগ বুঝে সার্বিয়ার ওপর হামলা চালায়। কিন্তু তারা তা দখলে নিতে ব্যর্থ হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 জাহির উমর থেকে পরিত্রাণ

📄 জাহির উমর থেকে পরিত্রাণ


মুহাম্মাদ আবু জাহাব খলিফার নির্দেশে জাহির উমরকে সিরিয়ার একে অঞ্চলে অবরুদ্ধ করেন। কিন্তু জাহির সাফাদ পর্বতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অতঃপর আবু জাহাব তাকে ১১৮৮ হিজরিতে (১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে) হত্যা করতে সক্ষম হন। খলিফা আবদুল হামিদ ১২০৩ হিজরিতে (১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে) ইনতেকাল করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00