📄 সাফাভিদের সাথে যুদ্ধ
আফগানিস্তানের শাসক মীর মুহাম্মাদের নিকট ক্ষমতা হারিয়ে সাফাভি শাসক শাহ হুসাইন পদত্যাগ করে। সাফাভিদের এ দুর্বলতাকে উসমানিরা সুযোগ মনে করে। তারা সাফাভি সাম্রাজ্যে আক্রমণ করে আর্মেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া দখল করে নেয়। এই সুযোগে রাশিয়াও দাগিস্তান দখল করে নেয়। এ নিয়ে রাশিয়ার সাথে উসমানিদের সংঘর্ষ প্রায় বেধেই যাচ্ছিল। যা ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় থেমে যায়।
সাফাভিরা হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অধিকন্তু তারা তাবরিজ, হামাদান ও অন্যান্য অঞ্চল হাতছাড়া করে। অবশেষে ১১৪০ হিজরিতে (১৭২৮ খ্রিষ্টাব্দে) চুক্তিতে উপনীত হয়। পরবর্তীকালে তাহমাস্প সাফাভি রাষ্ট্রের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। খলিফা চুক্তি করার প্রতি আকৃষ্ট থাকায় তার বিশেষ জেনিসারি বাহিনী বিদ্রোহ করে। তারা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করে এবং খলিফাকে অপসারণ করে তার ভাতুষ্পুত্রকে তৎস্থলে স্থলাভিষিক্ত করে। অতঃপর উসমানিরা ১১৪১ হিজরিতে (১৭৩১ খ্রিষ্টাব্দে) সাফাভিদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়।
সাফাভিরা হামাদান, তাবরিজ ও লোরেস্তান অঞ্চল থেকে সরে যেতে সম্মত হয়ে চুক্তি সম্পাদন করে। কিন্তু খোরাসানের গভর্নর নাদির শাহ এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এবং সাফাভি খলিফাকে অপসারণ করে উসমানিদের সাথে যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে পড়ে। সে উসমানিদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। পরিশেষে ১১৪৯ হিজরিতে (১৭৩৬ খ্রিষ্টাব্দে) ক্রোয়েশিয়ার তিবিলিসি (৫৫) নগরীতে উসমানিদের সাথে সাফাভিদের শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি মোতাবেক উসমানিরা যে সকল সাফাভি অঞ্চল দখল করেছিল তা ছেড়ে যাবে। এর ফলে নাদির শাহ পারস্যের সম্রাট হিসেবে আবির্ভূত হয়।
টিকা:
৫৫. তিবিলিসি: বর্তমান জর্জিয়ার রাজধানী। -সম্পাদক
📄 উসমানি সাম্রাজ্যে ছাপাখানা
খলিফা তৃতীয় আহমাদের শাসনকালে ইস্তাম্বুলে প্রথমবারের মতো ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়।