📄 ইউরোপে যুদ্ধ
রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ ও জারকে অবরোধ
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সুইডেন উসমানিদের নিকট সাহায্যের আবেদন করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নুমান কুবরিলি এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। বালতাজি মুহাম্মাদ পাশা প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এ সময় রাশিয়াকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার সুযোগও হয়েছিল। তিনি রাশিয়ান জার ও তার প্রণয়িণী ক্যাথরিনকে অবরোধ করতে সক্ষম হন। পরবর্তীকালে এই ক্যাথরিন রুশসম্রাজ্ঞী হন। এ নারী প্রধানমন্ত্রীকে অলংকার ও সম্পদ উপঢৌকন দিয়ে প্ররোচিত করেন। প্রধানমন্ত্রী উপঢৌকন পেয়ে অবরোধ তুলে নেন এবং রাশিয়ার সাথে এ মর্মে চুক্তি সম্পাদন করেন যে, রাশিয়া আজওয়াব বন্দর ছেড়ে যাবে এবং ককেশাসের বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
এরূপ প্রতারণার কারণে খলিফা প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন এবং তাকে এজিয়ান সাগরের কোনো এক দ্বীপে নির্বাসন দেন। তৎস্থলে ইউসুফ পাশাকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। তিনি রাশিয়ার সাথে ২৫ বছর মেয়াদি শান্তিচুক্তি সম্পাদন করেন। এ চুক্তি ইতিহাসে এডির্নে চুক্তি নামে প্রসিদ্ধ। কিছুদিন যেতে না যেতে রাশিয়া এ চুক্তি লঙ্ঘন করে। যুদ্ধের কারণে বাণিজ্যিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় ইংল্যান্ড ও হল্যান্ড ১১২৫ হিজরিতে (১৭১৩ খ্রিষ্টাব্দে) এডির্নে চুক্তি নবায়ন করে। এ চুক্তির বর্ণনামতে কৃষ্ণসাগরের উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে উসমানিদের একক আধিপত্য চলবে। একই সময়ে রাশিয়া ক্রিমিয়ার জন্য খলিফাকে কোনোপ্রকার কর প্রদান করবে না।
ভেনিসদের হাত থেকে ক্রিট মুক্তকরণ
উসমানিদের হাতে ক্রিট বিজিত হওয়ার পর থেকে তা অস্থিতিশীল ছিল। কয়েকটি স্থানে ভেনিসীয়দের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। যার কারণে তারা দ্বীপটিতে আধিপত্য বিস্তার করে চলত। ১১২৯ হিজরিতে (১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে) উসমানি বাহিনী তাদেরকে এ দ্বীপ থেকে সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করতে সক্ষম হয়।
ফিচারোবেটস চুক্তি (১১৩০ হি./১৭১৮ খ্রি.)
ভেনিস অস্ট্রিয়ার সাথে নতুন করে চুক্তি করার ফলে সাহস সঞ্চয় করে। তারা ভেনিসের দখলকৃত এলাকা ফিরিয়ে না দিলে উসমানিদেরকে যুদ্ধের হুমকি প্রদান করে। তাদের হুমকির কারণে উসমানিরা ক্ষুব্ধ হয় এবং উভয় পক্ষের মাঝে যুদ্ধ বেধে যায়। যুদ্ধে অস্ট্রিয়া জয় লাভ করে। অতঃপর তারা ১১২৯ হিজরিতে (১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে) বেলগ্রেড দখল করে। দুদেশের মাঝে ১১৩০ হিজরিতে ফিচারোবেটস চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির বর্ণনামতে :
১. উসমানিরা বেলগ্রেড ও সার্বিয়ার অধিকাংশ এলাকা অস্ট্রিয়াকে প্রদান করবে।
২. মুরা উসমানিরা ফেরত পাবে।
৩. ভেনিস দালমাতিয়া উপকূলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে।
📄 সাফাভিদের সাথে যুদ্ধ
আফগানিস্তানের শাসক মীর মুহাম্মাদের নিকট ক্ষমতা হারিয়ে সাফাভি শাসক শাহ হুসাইন পদত্যাগ করে। সাফাভিদের এ দুর্বলতাকে উসমানিরা সুযোগ মনে করে। তারা সাফাভি সাম্রাজ্যে আক্রমণ করে আর্মেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া দখল করে নেয়। এই সুযোগে রাশিয়াও দাগিস্তান দখল করে নেয়। এ নিয়ে রাশিয়ার সাথে উসমানিদের সংঘর্ষ প্রায় বেধেই যাচ্ছিল। যা ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় থেমে যায়।
সাফাভিরা হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অধিকন্তু তারা তাবরিজ, হামাদান ও অন্যান্য অঞ্চল হাতছাড়া করে। অবশেষে ১১৪০ হিজরিতে (১৭২৮ খ্রিষ্টাব্দে) চুক্তিতে উপনীত হয়। পরবর্তীকালে তাহমাস্প সাফাভি রাষ্ট্রের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। খলিফা চুক্তি করার প্রতি আকৃষ্ট থাকায় তার বিশেষ জেনিসারি বাহিনী বিদ্রোহ করে। তারা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করে এবং খলিফাকে অপসারণ করে তার ভাতুষ্পুত্রকে তৎস্থলে স্থলাভিষিক্ত করে। অতঃপর উসমানিরা ১১৪১ হিজরিতে (১৭৩১ খ্রিষ্টাব্দে) সাফাভিদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়।
সাফাভিরা হামাদান, তাবরিজ ও লোরেস্তান অঞ্চল থেকে সরে যেতে সম্মত হয়ে চুক্তি সম্পাদন করে। কিন্তু খোরাসানের গভর্নর নাদির শাহ এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এবং সাফাভি খলিফাকে অপসারণ করে উসমানিদের সাথে যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে পড়ে। সে উসমানিদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। পরিশেষে ১১৪৯ হিজরিতে (১৭৩৬ খ্রিষ্টাব্দে) ক্রোয়েশিয়ার তিবিলিসি (৫৫) নগরীতে উসমানিদের সাথে সাফাভিদের শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি মোতাবেক উসমানিরা যে সকল সাফাভি অঞ্চল দখল করেছিল তা ছেড়ে যাবে। এর ফলে নাদির শাহ পারস্যের সম্রাট হিসেবে আবির্ভূত হয়।
টিকা:
৫৫. তিবিলিসি: বর্তমান জর্জিয়ার রাজধানী। -সম্পাদক
📄 উসমানি সাম্রাজ্যে ছাপাখানা
খলিফা তৃতীয় আহমাদের শাসনকালে ইস্তাম্বুলে প্রথমবারের মতো ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়।