📄 খলিফা দ্বিতীয় আহমাদ (১১০২-১১০৬ হি./১৬৯১-১৬৯৫ খ্রি.)
খলিফা দ্বিতীয় আহমাদের শাসনকাল চার বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি। এ সময়ে অস্ট্রিয়ার সাথে যুদ্ধে মোস্তফা কুবরিলি শাহাদাত বরণ করেন। তার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী অরবাজি পাশা তার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন না। ভেনিস বাহিনী এজিয়ান সাগরের বুকে অবস্থিত সাগস দ্বীপ দখল করে নেয়। অতঃপর খলিফা দ্বিতীয় আহমাদ ১১০৬ হিজরিতে (১৬৯৫ খ্রিষ্টাব্দে) ইনতেকাল করেন এবং দ্বিতীয় মোস্তফা খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হন।
📄 খলিফা তৃতীয় উসমান (১১৬৮-১১৭১ হি./১৭৫৪-১৭৫৭ খ্রি.)
তিনি ১১১০ হিজরিতে (১৬৯৮ খ্রিষ্টাব্দে) জন্মগ্রহণ করেন। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণকালে তার বয়স ছিল ৫৮ বছর। ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রী আলি পাশাকে হত্যা করেন। অতঃপর তৎস্থলে মুহাম্মাদ রাগিব পাশাকে স্থলাভিষিক্ত করেন। নতুন মন্ত্রী খলিফাকে সহায়তা করেন এবং সংস্কারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খলিফা অপরিচিত বেশে রাতে ঘোরাফেরা করে প্রজাদের খোঁজখবর নিতেন এবং তাদের কল্যাণে কাজ করতেন। অতঃপর তিনি ১১৭১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
📄 খলিফা চতুর্থ মোস্তফা (১২২২-১২২৩ হি./১৮০৭-১৮০৮ খ্রি.)
তিনি ছিলেন সুলতান প্রথম আবদুল হামিদের পুত্র। রাশিয়া ওয়ালাচিয়া ও মোলদাভিয়া হাতছাড়া করতে চায়নি। ফ্রান্সের সাথে রাশিয়ার যুদ্ধ হয় এবং ফ্রান্স বিজয় লাভ করে। ফ্রান্স উসমানিদের ওপর ওয়ালাচিয়া ও মোলদাভিয়া প্রদেশ দুটি ছাড়তে রুশদেরকে বাধ্য করতে এবং এতদঞ্চল হতে উসমানি বাহিনী সরিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। উসমানিরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও রাশিয়া এ দুটি প্রদেশ ছাড়েনি। বিশেষ বাহিনী বসফরাস দুর্গের শাসক খলিফার চাচাকে অপসারণ করে এবং তাদের নেতা কাবাকজি উজলিকে শাসক নিযুক্ত করে। অতঃপর বিরোধে জড়িয়ে তারা কাবাকজিকে হত্যা করে। বিশেষ বাহিনীর নতুন নেতা খলিফা তৃতীয় সেলিমকে পুনরায় খলিফা নিয়োগ করার দাবি করে। কিন্তু সেলিম মুয়াবরণ করেন। খলিফা মোস্তফা বিশেষ বাহিনীর এ নতুন নেতাকে হত্যা করেন। এর প্রতিবাদে বিশেষ বাহিনী খলিফার বিরুদ্ধে একজোট হয় ও তাকে অপসারণ করে এবং তৎস্থলে তার ভাই দ্বিতীয় মাহমুদকে ১২২৩ হিজরিতে (১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে) খলিফা নিযুক্ত করে।
📄 খলিফা আবদুল আজিজ (১২৭৭-১২৯৩ হি./১৮৬১-১৮৭৬ খ্রি.)
আবদুল আজিজ ছিলেন খলিফা আবদুল মাজিদের ছোট ভাই। উল্লেখ্য যে, তার আমলেই ১২৮৫ হিজরিতে (১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে) সুয়েজ খাল জয় করা হয়। ১২৮৩ হিজরিতে (১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে) ক্রিটে বিদ্রোহ হলে খলিফা তা দমন করেন। খলিফা অধিকহারে বিদেশ ভ্রমণ করেন। তিনি মিশর ও ইউরোপের দেশসমূহে সফর করেন। তিনি রাশিয়াকে কাছে টানার চেষ্টা করেন। এজন্য ইউরোপের দেশসমূহে ভীতি তৈরি হয়। প্রধান উপদেষ্টা আহমাদ মিদহাত পাশা খলিফাকে অপসারিত করার প্রস্তাব করে এবং ১২৯৩ হিজরিতে (১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে) তাকে অপসারণে সমর্থ হয়। মূলত তাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু গুজব ছড়ানো হয় যে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।