📄 সাফাভিদের সাথে যুদ্ধ
বাগদাদের পুলিশপ্রধান বুকাইর আগা বাগদাদের গভর্নরকে হত্যা করে। প্রধানমন্ত্রী হাফিজ পাশা তাকে অবরুদ্ধ করেন। কিন্তু সে সাফাভি শাসক শাহ আব্বাসের সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তার নিকট শহর সমর্পণের প্রস্তাব করে। একই সময় সে প্রধানমন্ত্রীর নিকটও শহর সমর্পণের প্রস্তাব পেশ করে এবং গভর্নর পদ দাবি করে। শাহ আব্বাসের সেনারা বাগদাদে পৌঁছার পূর্বেই উসমানি প্রধানমন্ত্রী বাগদাদে প্রবেশ করেন। অতঃপর শাহ আব্বাস এসে তিন মাস বাগদাদ অবরোধ করে রাখে। সে বুকাইরের পুত্রের নিকট তাকে গভর্নর রাখার শর্তে শহর হস্তান্তরের প্রস্তাব দিলে বুকাইরপুত্র উসমানিদের সঙ্গে গাদ্দারি করে এবং আব্বাসের নিকট শহর হস্তান্তর করে। শাহের বাহিনী বাগদাদ প্রবেশ করে বুকাইর আগা ও তার ছেলেকে হত্যা করে। কারণ, সে বুঝতে পেরেছে যে, তারা দুজনই বিশ্বাসঘাতক। তাই তাদের ওপর বিশ্বাস রাখা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী হাফিজ পাশা বাগদাদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার বাহিনী যুদ্ধে যেতে রাজি না হওয়ায় খলিফা তাকে বরখাস্ত করেন। পরবর্তী সময়ে শাহ আব্বাস ১০৩৮ হিজরিতে (১৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে) মৃত্যুবরণ করার পর তার ছোট ছেলে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী খসরু পাশা এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। তিনি ১০৩৯ হিজরিতে (১৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে) হামাদান পুনরুদ্ধার করেন। তিনি দু-দুবার বাগদাদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
এরপর খলিফা স্বয়ং নিজেই সাফাভিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বের হন। খলিফার অনুপস্থিতিতে তার দুই ভাই বায়েজিদ ও সুলাইমান বিদ্রোহ করার আশঙ্কা থেকে খলিফা তাদেরকে হত্যা করার আদেশ দেন。
১০৪৫ হিজরিতে (১৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে) খলিফা তাবরিজ শহরে প্রবেশ করেন। তিনি কিছু দুর্গ পুনরুদ্ধার করে ইস্তাম্বুলে ফিরে আসেন। সাফাভিরা এই সুযোগে দুর্গগুলো পুনর্দখল করে নেয়। পরবর্তী সময়ে খলিফা পুনরায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে বের হন এবং ১০৪৮ হিজরিতে (১৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে) বাগদাদে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। ১০৪৯ হিজরিতে (১৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে) উভয় দেশের মাঝে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। এ বছরই খলিফা মৃত্যুবরণ করেন।