📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম

📄 অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম


আবাজা পাশার বিদ্রোহ
এক বিশৃঙ্খল পরিবেশে খলিফা চতুর্থ মুরাদ খলিফার আসনে বসেন। সে সময়ের অন্যতম ঘটনা রোমের গভর্নর আবাজা পাশার বিদ্রোহ। সে আঙ্কারা ও সিভাসে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এদিকে খলিফার বয়স কম হওয়ার সুযোগ নিয়ে জেনিসারি সদস্যরা দাপট দেখাতে শুরু করে। তখন সাম্রাজ্যের পুরো দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী আহমাদ পাশার ওপর বর্তায়। আহমাদ পাশা ১০৩৩ হিজরিতে (১৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে) কায়সেরির(৫৩) যুদ্ধে আবাজা পাশাকে পরাস্ত করে বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে খসরু পাশা প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর আবাজা পাশা পুনঃবিদ্রোহ করেন। খসরু পাশা তাকে বশ করতে সক্ষম হন এবং ১০৩৭ হিজরিতে (১৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে) তাকে বসনিয়ার গভর্নর নিযুক্ত করেন。
জেনিসারি সেনাবাহিনীর বিদ্রোহ
সাফাভি রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ চলাকালে উসমানি জেনিসারি সেনাদের মাঝে বিদ্রোহ দেখা দেয়। খলিফা ফিতনাবাজ সেনাদেরকে হত্যা করে বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হন।
ফখরুদ্দিন মুনির পুনঃবিদ্রোহ
ফখরুদ্দিন স্থিতিশীল হওয়ার পর উসমানি সাম্রাজ্যের চলমান বিশৃঙ্খলাকে সুযোগ মনে করে এবং নতুন করে বিদ্রোহ করে বসে। অতঃপর দামেশকের গভর্নর তার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন এবং তাকে ও তার দুই ছেলেকে বন্দি করে খলিফার দরবারে প্রেরণ করেন। ফখরুদ্দিন ক্রুসেডারদেরকে বারংবার সহযোগিতা করার মাধ্যমে বিশ্বাসঘাতকতা করা সত্ত্বেও খলিফা তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করেন। কিন্তু ফখরুদ্দিনের নাতি কুরকুমাজ বিদ্রোহ ঘোষণা করার পর খলিফা ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন এবং ফখরুদ্দিন ও তার বড় ছেলেকে হত্যা করে কুরকুমাজের বিদ্রোহ দমন করেন।


টিকা:
৫৩. কায়সেরি: তুরস্কের মধ্য আনাতোলিয়ার অন্তর্গত বৃহৎ শিল্পনগরী। -সম্পাদক

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সাফাভিদের সাথে যুদ্ধ

📄 সাফাভিদের সাথে যুদ্ধ


বাগদাদের পুলিশপ্রধান বুকাইর আগা বাগদাদের গভর্নরকে হত্যা করে। প্রধানমন্ত্রী হাফিজ পাশা তাকে অবরুদ্ধ করেন। কিন্তু সে সাফাভি শাসক শাহ আব্বাসের সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তার নিকট শহর সমর্পণের প্রস্তাব করে। একই সময় সে প্রধানমন্ত্রীর নিকটও শহর সমর্পণের প্রস্তাব পেশ করে এবং গভর্নর পদ দাবি করে। শাহ আব্বাসের সেনারা বাগদাদে পৌঁছার পূর্বেই উসমানি প্রধানমন্ত্রী বাগদাদে প্রবেশ করেন। অতঃপর শাহ আব্বাস এসে তিন মাস বাগদাদ অবরোধ করে রাখে। সে বুকাইরের পুত্রের নিকট তাকে গভর্নর রাখার শর্তে শহর হস্তান্তরের প্রস্তাব দিলে বুকাইরপুত্র উসমানিদের সঙ্গে গাদ্দারি করে এবং আব্বাসের নিকট শহর হস্তান্তর করে। শাহের বাহিনী বাগদাদ প্রবেশ করে বুকাইর আগা ও তার ছেলেকে হত্যা করে। কারণ, সে বুঝতে পেরেছে যে, তারা দুজনই বিশ্বাসঘাতক। তাই তাদের ওপর বিশ্বাস রাখা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী হাফিজ পাশা বাগদাদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার বাহিনী যুদ্ধে যেতে রাজি না হওয়ায় খলিফা তাকে বরখাস্ত করেন। পরবর্তী সময়ে শাহ আব্বাস ১০৩৮ হিজরিতে (১৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে) মৃত্যুবরণ করার পর তার ছোট ছেলে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী খসরু পাশা এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। তিনি ১০৩৯ হিজরিতে (১৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে) হামাদান পুনরুদ্ধার করেন। তিনি দু-দুবার বাগদাদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

এরপর খলিফা স্বয়ং নিজেই সাফাভিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বের হন। খলিফার অনুপস্থিতিতে তার দুই ভাই বায়েজিদ ও সুলাইমান বিদ্রোহ করার আশঙ্কা থেকে খলিফা তাদেরকে হত্যা করার আদেশ দেন。
১০৪৫ হিজরিতে (১৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে) খলিফা তাবরিজ শহরে প্রবেশ করেন। তিনি কিছু দুর্গ পুনরুদ্ধার করে ইস্তাম্বুলে ফিরে আসেন। সাফাভিরা এই সুযোগে দুর্গগুলো পুনর্দখল করে নেয়। পরবর্তী সময়ে খলিফা পুনরায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে বের হন এবং ১০৪৮ হিজরিতে (১৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে) বাগদাদে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। ১০৪৯ হিজরিতে (১৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে) উভয় দেশের মাঝে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। এ বছরই খলিফা মৃত্যুবরণ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00