📄 উসমানি সাম্রাজ্যে বিদ্রোহ আন্দোলন
প্রথম আহমাদের বয়স কম হওয়ায় তাঁর যুগে অনেক বিদ্রোহী দল সৃষ্টি হয়। যেমন বুলাদ কুরদির আন্দোলন, আঙ্কারার গভর্নর কিলান্দর উগলির আন্দোলন ও ইজুদ্দিন মুনির আন্দোলন। ইজুদ্দিন মুনি ছিল দরজি বংশীয়। সে খ্রিষ্টান, নাসিরিয়াহ ও দরজিয়া(৫২) সম্প্রদায়কে তার দলভুক্ত করে। খলিফার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করার পর খলিফা তাকে শাম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তদারকির দায়িত্ব দেন। এ সকল অঞ্চলের মাঝে লেবাননের পাহাড়ি অঞ্চল ও সিরিয়ার বিরাট একটি এলাকা রয়েছে। কিন্তু সে উসমানিদের শত্রু ইতালির সাথে একটি চুক্তি করে। যার মাধ্যমে চল্লিশ হাজার সৈন্য প্রস্তুত করতে তাদের আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করে। অতঃপর ১০২২ হিজরিতে উসমানিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
টিকা:
৫২. দরজিয়া: এটি একটি বাতেনিয়্যাহ ফেরকা। তাদের পৃষ্ঠপোষক ছিল ফাতেমীয় খলিফা আল-হাকিম বি-আমরিল্লাহ। তাদের আকিদা বিশ্বাসের সিংহভাগ শিয়া ইসমাইলিয়্যাহ মতবাদ থেকে অনুপ্রাণিত। নাশতাকিন আদ-দরজি নামক এক ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করে তাদেরকে দরজি বলা হয়ে থাকে। তাদের উত্থান হয় মিশরে। পরে তারা সিরিয়ায় চলে যায়। -সম্পাদক
📄 ধূমপানের প্রসার
হল্যান্ডের নাগরিকদের মাধ্যমে ধূমপানের বিস্তৃতি ঘটে। সৈন্যরা ব্যাপকহারে ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ে। সাম্রাজ্যের মুফতি ধূমপান হতে বিরত থাকার ফতোয়া দিলে সেনাবাহিনীর মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাদের সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যোগ দেয়। অবশেষে চাপের মুখে খলিফা ধূমপানের বৈধতা দিতে বাধ্য হন।
📄 সাফাভিদের সম্মুখ হতে পিছু হটা
প্রধানমন্ত্রী মুরাদ পাশার মৃত্যুর পর উসমানি সাম্রাজ্যে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগে সাফাভি শাসক শাহ আব্বাস তাবরিজ, উত্তর ইরাক ও অন্যান্য হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। উসমানিরা বাধ্য হয়ে ৯২১ হিজরিতে (১৫১৫ খ্রিষ্টাব্দে) সাফাভিদের সাথে শান্তিচুক্তি সম্পাদন করেন। চুক্তি মোতাবেক সুলতান সুলাইমান কানুনির যুগ হতে তাদের যে-সকল অঞ্চল উসমানি সাম্রাজ্যের সাথে যুক্ত করে নেওয়া হয়েছে তা উসমানিরা সাফাভিদেরকে ছেড়ে দেয়।
📄 ইউরোপে উসমানিদের কার্যক্রম
উসমানিরা ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের সাথে চুক্তি নবায়ন করে। হল্যান্ডও এ চুক্তির সুবিধা ভোগ করে। অনুরূপ ১০১৫ হিজরিতে (১৬০৬ খ্রিষ্টাব্দে) অস্ট্রিয়ার সাথেও একটি চুক্তি সম্পাদন করে। চুক্তি মোতাবেক বাৎসরিক কর প্রদানের পরিবর্তে অস্ট্রিয়া এককালীন দুই লাখ দোকা (অস্ট্রিয়ান মুদ্রা) পরিশোধ করবে।
হল্যান্ডের সাথে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি মোতাবেক উসমানিরা ক্রিমিয়ার তাতারদের আক্রমণ হতে হল্যান্ডকে রক্ষা করবে আর হল্যান্ড ককেশাসাসের আক্রমণ হতে উসমানি সাম্রাজ্যকে রক্ষা করবে।
উসমানিগণ ও ইউরোপীয়দের মাঝে বহু সামুদ্রিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বিজয় ইউরোপের মিত্ররূপ ধারণ করে। ফলে উসমানিরা ভূমধ্য সাগরে খ্রিস্টান নৌবহর ঠেকাতে কৃষ্ণসাগরের নৌবহর তুলে নেয়। ককেশাসীয়রা এ সুযোগে কৃষ্ণসাগর-তীরের সিনোগ বন্দরে আগ্রাসন চালায়। এদিকে খলিফা ও প্রধানমন্ত্রী নুসুহ পাশার মাঝে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করা হয়।
সুলতান প্রথম আহমাদ ১০২৬ হিজরিতে (১৬১৭ খ্রিষ্টাব্দে) ২৮ বছর বয়সে ইনতেকাল করেন। তার ছেলে বয়সে ছোট হওয়ায় ভাই মোস্তফা খলিফার পদ অলংকৃত করেন।