📄 মুসলিম দেশসমূহে উসমানিদের কার্যক্রম
মরক্কো
মরক্কোর শাসক তার দেশের বিদ্রোহ দমনে খলিফার নিকট সাহায্য চান। অপরদিকে বিদ্রোহীরা পর্তুগিজদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে। উসমানিরা মরক্কোর শাসকের ডাকে সাড়া দিয়ে ৯৮৫ হিজরিতে (১৫৭৭ খ্রিষ্টাব্দে) গ্রেট প্যালেস নামক স্থানে পর্তুগিজদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। যুদ্ধে উসমানিরা বিজয় লাভ করে এবং ক্ষমতাচ্যুত শাসককে সিংহাসন ফিরিয়ে দেয়।
সাফাভি রাষ্ট্র
৯৮৪ হিজরিতে (১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে) শিয়া সাফাভিদের শাসক তাহমাস্প মৃত্যুবরণ করে। তার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে সাফাভিদের মাঝে বিরোধ দেখা দেয়। উসমানিরা এ বিরোধকে সুযোগ মনে করে। তারা ৯৮৫ হিজরিতে (১৫৭৭ খ্রিষ্টাব্দে) সাফাভিদের নিয়ন্ত্রণাধীন জর্জিয়া দখল করে নেয়। ৯৮৬ হিজরিতে (১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দে) তারা উত্তর আজারবাইজানের শিরওয়ান এবং ৯৯১ হিজরিতে (১৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে) দাগিস্তান দখল করে উসমানি সাম্রাজ্যের সাথে যুক্ত করে নেয়।
৯৯১ হিজরিতেই (১৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে) উসমান পাশা ক্রিমিয়ার শাসককে শিক্ষা দিতে তথায় গমন করেন। সাফাভিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালে উসমানিরা তার সাহায্য চেয়েছিল। কিন্তু সে সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। যার কারণে তুর্কি সেনাপতি উসমান পাশা ক্রিমিয়ার শাসকের স্থলে শাসকের ভাইকে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। অতঃপর ভাই ভাইকে হত্যা করলে উসমান পাশা রাজধানী কাফাতে পৌঁছতে সক্ষম হন।
মুহাম্মাদ পাশা সাকালির মৃত্যুর পর উসমান পাশা খিলাফতের সদরে আজম বা প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে তিনি উসমানি খিলাফতের দাপট ধরে রাখতে সক্ষম হন। (৫১)
উসমান পাশা সাফাভি রাষ্ট্রের যে অংশ স্বীয় সাম্রাজ্যের সাথে যুক্ত করেছিলেন তার প্রতি সাফাভিদের স্বীকৃতি আদায় করেন। দখলকৃত ভূখণ্ডের মাঝে রাজধানী তাবরিজও ছিল। ৯৯৩ হিজরিতে (১৫৮৫ খ্রিষ্টাব্দে) খলিফা তাবরিজে গমন করেন। সাফাভিরা রাজধানী তাবরিজসহ দক্ষিণ আজারবাইজান ছাড়তে বাধ্য হয়।
টিকা:
৫১. মুহাম্মাদ পাশা সাকলির গৃহীত পদক্ষেপসমূহ: ইস্তাম্বুলে ক্রুসেডীয় ভেনিসের প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ পাশা সাকলির সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করে। যাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত অবস্থা তলিয়ে দেখা যায় এবং ভেনিসের প্রতি উসমানি সাম্রাজ্যের নীতি নির্দেশনা জানা যায়। প্রধানমন্ত্রী অবাক করে দিয়ে তাকে বললেন, নিঃসন্দেহে তুমি আমাদের বীরত্ব ও তার অবস্থান কী তা অবহিত হতে এসেছ। জেনে রাখো আমাদের ও তোমাদের ক্ষতির মাঝে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। আমরা সাইপ্রাস দখল করে তোমাদের একহাত কেটে নিয়েছি। আর আমাদের নৌবহর পরাজয়ে তোমরা আমাদের দাড়ি মুছিয়ে দিয়েছ মাত্র। কিন্তু আমাদের দাড়ি পূর্বের চেয়ে আরও ঘন ও দ্রুত মুখে গজাবে।
📄 ইউরোপে উসমানিদের কার্যক্রম
উসমানি সাম্রাজ্যে পোল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি
পোল্যান্ডের রাজা হেনরি দেশ ছেড়ে ফ্রান্সে চলে যাওয়ার পর উসমানিরা তদস্থলে ট্রান্সসিলভানিয়ার রাজাকে স্থলাভিষিক্ত করে। এদিকে আট বছর পূর্বে সম্পাদিত চুক্তি মোতাবেক অস্ট্রিয়া উসমানিদের রাজ্য হিসেবে পোল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়। আট বছর পর উসমানিরা যখন এটির শাসক নিয়োগ দেয়, তখন অস্ট্রিয়া এ নিয়োগকে স্বীকৃতি প্রদান করে। আর তখন থেকে পোল্যান্ড উসমানিদের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
📄 জেনিসারি বাহিনীর যত সমস্যা
অস্ট্রিয়া বা সাফাভিদের সাথে যুদ্ধ বন্ধ থাকলে জেনিসারি সেনাবাহিনীর হাতে ছিনতাই, লুটপাট ছাড়া আর কোনো কাজ অবশিষ্ট থাকে না। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী হাঙ্গেরিতে অস্ট্রিয়ার সাথে যুদ্ধে জেনিসারি সেনাদের ব্যস্ত রাখেন। কিন্তু সেনাদের বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে পরাজয় অব্যাহত থাকে। ফলে বেশকিছু দুর্গ হাতছাড়া হয়ে যায়, যা ১০০৩ হিজরিতে সিনান পাশা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
ওয়ালাচিয়া, মোলদাভিয়া ও সিলভানিয়া সুযোগ বুঝে উসমানিদের বিপক্ষে যুদ্ধে অস্ট্রিয়ার সাথে যোগ দেয়। সিনান পাশা তার বাহিনী নিয়ে ওয়ালাচিয়ার (রোমানিয়া) রাজধানী বুখারেস্টে পৌঁছে যান। কিন্তু বুখারেস্টের শাসক উসমানিদেরকে দানিয়ুব নদীর ওপারে হটিয়ে দেয় এবং কিছু শহর দখল করে নেয়। অতঃপর খলিফা তৃতীয় মুরাদ ১০০৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করলে তার ছেলে তৃতীয় মুহাম্মাদ খলিফা নিযুক্ত হন।