📄 ইউরোপে উসমানিদের তৎপরতা
অস্ট্রিয়া
৯৭৬ হিজরিতে (১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দে) অস্ট্রিয়ার সাথে উসমানিদের একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তিতে বলা হয় উসমানিরা অস্ট্রিয়ার আওতাধীন হাঙ্গেরির অংশবিশেষ রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। বিনিময়ে অস্ট্রিয়া বার্ষিক কর প্রদান করবে। একই সময় ট্রান্সসিলভানিয়া, ওয়ালাচিয়া ও মোলদাভিয়া উসমানিদের আনুগত্য স্বীকার করে।
ফ্রান্স
ফ্রান্সের সাথে চুক্তিসম্পাদন এবং ফ্রান্সকে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়ে খলিফার জোরালো সমর্থন ছিল। যার ফলে ক্যাথলিক খ্রিষ্টানরা উসমানি সাম্রাজ্যে তাদের মিশনারি তৎপরতা শুরু করে। বিশেষত সিরিয়ায় তা ব্যাপকতা লাভ করে। ফরাসি ও খ্রিষ্টবাদের বীজ রোপণের মাধ্যমে উসমানি সাম্রাজ্যে উসমানিদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম শুরু হয়।
পোল্যান্ড
অস্ট্রিয়া ও রাশিয়ার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে উসমানিরা পোল্যান্ডের মসনদে ফরাসি রাজার ভ্রাতাকে নিয়োগ প্রদান করে। এরপর থেকে পোল্যান্ড উসমানিদের অধিকারে চলে আসে।
সাইপ্রাস বিজয়
সাইপ্রাসকে ভেনিসরা দখল করে রেখেছিল। উসমানিরা ৯৭৮ হিজরিতে (১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে) তাদের হাত থেকে সাইপ্রাস ছিনিয়ে নেয়।
লেপান্টো সমুদ্র যুদ্ধ
সাইপ্রাস অ্যাড্রিয়াটিক সমুদ্রের কিছু অংশে এবং ক্রিট উপদ্বীপে উসমানিদের আধিপত্য বৃদ্ধির ফলে ভূমধ্যসাগরে ইউরোপের প্রতি হুমকি তৈরি হয়। তাই ইউরোপের খ্রিষ্টান শক্তিসমূহ উসমানীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য জোট গড়ে তোলে। ভেনিসিয়ান ও স্পেনিশ নৌবহর পোপ মুবারাকার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়ে মাল্টার পোপদের সাথে যোগ দেয় এবং ৯৭৯ হিজরিতে (১৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে) উসমানি নৌবহরকে পরাজিত করে। এ যুদ্ধে উসমানিরা করুণ পরাজয় বরণ করে। তারা ১৩০টি জাহাজ, ৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ত্রিশ হাজার বন্দিকে হারায়। এগুলো খ্রিষ্টানরা দখল করে নেয়। খ্রিষ্টানদের এ বিজয়ের ফলে ইউরোপজুড়ে ঘণ্টাধ্বনি বেজে ওঠে। ভ্যাটিকানের পোপ বিজয়ী নৌবহরের প্রধান গুয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভাষণ দেয়।
ইস্তাম্বুলে মুসলিম বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ পৌঁছার পর মুসলিম জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা সেখানকার খ্রিষ্টানদের মাঝে রক্তপাত ঘটাতে সংকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু মন্ত্রী মুহাম্মাদ সাকালি তাদেরকে নিবৃত্ত করেন। উসমানিরা এ পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করে। তাদের প্রস্তুতির সংবাদ জানার পর ভেনিসিয়ানরা ভীত হয়ে পড়ে এবং সাইপ্রাসে উসমানিদের কর্তৃত্ব মেনে নিয়ে তাদের নিকট শান্তিপ্রস্তাব প্রেরণ করে। চুক্তি মোতাবেক তারা যুদ্ধে উসমানিদের যে ক্ষতি হয়েছে তজ্জন্য বড় মাপের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। এ চুক্তিটি ৯৮০ হিজরিতে (১৫৭২ খ্রিষ্টাব্দে) সম্পাদিত হয়।
মোলদাভিয়া
মোলদাভিয়া রাজ্য উসমানিদের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে বিদ্রোহ করলে উসমানিরা ৯৮১ হিজরিতে (১৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে) বিদ্রোহ দমনে সমর্থ হয়। অতঃপর ৯৮২ হিজরিতে (১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দে) দ্বিতীয় সেলিম মৃত্যুবরণ করলে তার পুত্র তৃতীয় মুরাদ খলিফা নিযুক্ত হয়।