📄 সপিঞী রোকসালানা ও দোনমে ইহুদিগোষ্ঠী
তাতার মুসলিমগণ ক্রিমিয়ায় রুশবিরোধী কোনো এক অভিযানকালে অত্যন্ত সুন্দরী এক রুশ তরুণীকে আটক করে। তার নাম রোকসালানা। সৈন্যরা তাকে খলিফার দরবারে প্রেরণ করে। খলিফা তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। এক সূত্রমতে তরুণীটি ছিল রাশিয়ান ইহুদি। সে খলিফার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের নানা কাজে হস্তক্ষেপ করা শুরু করে। স্পেন থেকে বিতাড়িত ইহুদিদেরকে উসমানি সমাজে ঠাঁই করে দিতে সে খলিফার নিকট আবেদন জানায়। এ সকল ইহুদিকে দোনমে ইহুদি বলা হয়ে থাকে। তাদেরকে স্পেন প্রত্যাখ্যান করার পর উসমানিরা কোলে তুলে নিয়েছিল। কিন্তু তারা উসমানি সাম্রাজ্যের প্রতি বিন্দুমাত্র কৃতজ্ঞতাবোধ দেখায়নি। পরবর্তী সময়ে উসমানি খিলাফতের পতনে তারাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।
এমনকি এ নারী খলিফাকে অনুরোধ করে, তিনি যেন তাতারদেরকে ক্রিমিয়ায় রুশদের সাথে লড়াই করা থেকে বিরত রাখেন। অথচ রুশরা তখন আগ্রাসন চালিয়ে তাতারদের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নিয়েছিল এবং তারা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ঘৃণ্যতম অপরাধ সংঘটিত করেছিল।
রোকসালানা এতটুকুতে তুষ্ট ছিল না; বরং তার ঔরসজাত সন্তান সেলিমকে সুলাইমানের স্থলাভিষিক্ত করার প্রয়াস অব্যাহত রাখে। অথচ সেলিমের বড় ভাই মোস্তফা সিপাহি-জনতার ভালোবাসায় সিক্ত প্রধান সেনাপতি ছিলেন। তিনি ছিলেন খিলাফতের মসনদের যোগ্য উত্তরসূরি।
রুস্তম পাশা ছিলেন খলিফার সদরে আজম বা প্রধানমন্ত্রী। রোকসালানার সুপারিশে সে এ পদ অলংকৃত করে। খলিফা রোকসালানার গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যাকে তার নিকট বিবাহ দেন। রুস্তম নানা অভিযোগ তুলে খলিফাকে মোস্তফার বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলেন। রুস্তম খলিফার নিকট পত্র লেখেন যে, মোস্তফা খলিফাকে অপসারণ করে শাসনভার হাতে নিতে চায়। খলিফা উত্তেজিত হয়ে মোস্তফাকে দমাতে বের হন। তখন মোস্তফা শিয়া সাফাভিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। খলিফা তাকে তাঁবুতে ডেকে আনেন। মোস্তফা পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হওয়ামাত্র কতিপয় কর্মচারী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে।
এ সর্পনারী মোস্তফাকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং তাঁর দুধের ছেলেকে হত্যা করার জন্য আততায়ী নিয়োগ করেছিল। ৯৭৪ হিজরিতে (১৫৬৭ খ্রিষ্টাব্দে) খলিফা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সেলিম মসনদে আরোহণ করেন।
টিকা:
৫০. রোকসালানা। হুররেম সুলতানা নামেই সে অধিক কুখ্যাত। -সম্পাদক