📄 ভার্নার যুদ্ধ (৮৪৮ হি./১৪৪৪ খ্রি.)
ইউরোপের রাজ্যগুলো সমস্ত শক্তি একত্র করে বুলগেরিয়া আক্রমণ করল।
এই পরিস্থিতিতে সুলতান নির্জনতা ভঙ্গ করে পুনরায় রণাঙ্গনে উপস্থিত হলেন। এবার সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব নিজ হতে তুলে নিলেন। কৃষ্ণসাগরের উপকূলে ভার্না নগরে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। তুমুল লড়াইয়ের পর ক্রুসেডীয় মিত্রশক্তি চরমভাবে পরাস্ত হলো। যুদ্ধে হাঙ্গেরির রাজা নিহত হলো। তখন সৈন্যদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলো। সুলতান চূড়ান্ত আঘাত হেনে তাদের ছিন্নভিন্ন করে দিলেন। পোপের প্রতিনিধি নিহত হলো। যুদ্ধের পর সুলতান মুরাদ পুনরায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্জনবাসে চলে গেলেন।
উসমানি বাহিনীর বিশেষ শাখা জেনিসারি সৈন্যরা কমবয়সী সুলতানকে হেয়জ্ঞান করতে লাগল। এদিকে বাইজান্টাইন সম্রাট সাম্রাজ্যকে তার সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেয়। জানাকে কনস্টান্টিনোপল আর কনস্টান্টাইনকে গ্রিসের পূর্বাঞ্চলের শাসনভার দেয়। সুলতান জেনিসারিদের উচিত শিক্ষা দিতে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসেন এবং জেনিসারি বাহিনীকে গ্রিসে যুদ্ধে প্রেরণ করেন।
টিকা:
৪১. ভার্না: বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় বন্দর নগরী। -সম্পাদক
📄 ইস্কান্দার বেগের বিদ্রোহ
ইস্কান্দার বেগ আলবেনীয় রাজপুত্র। সেই চারজনের একজন, যারা সুলতানের হাতে বন্ধক হিসেবে ছিল। সে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সুলতানের যুদ্ধে থাকার সুযোগে সে পালিয়ে আলবেনিয়া চলে গেল। আলবেনিয়া থেকে উসমানি বাহিনীকে বিতাড়িত করল। সুলতান তাকে ধাওয়া করলেন। তাকে পরাজিত করে হৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধার করলেন। সময়টা ৮৫১ হিজরি (১৪৪৭ খ্রিষ্টাব্দ)। কসোভো প্রান্তরে হাঙ্গেরিদের সাথে যুদ্ধ বেধে গেলে সুলতান ইস্কান্দারকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেন। তিনি তাকে জিজিয়া প্রদান করে ক্ষমতায় আরোহণের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ইস্কান্দার সেটা প্রত্যাখ্যান করল। পরবর্তী সময়ে সুলতান মুরাদ আলবেনীয় অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু এর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে যায়।
📄 কসোভোর দ্বিতীয় যুদ্ধ (৮৫২ হি./১৪৪৮ খ্রি.)
এই রণাঙ্গনে এটি মুসলিম ও খ্রিস্টশক্তির দ্বিতীয় লড়াই। এবারের লড়াই হাঙ্গেরির সাথে এবং এবার ছিল ভার্নার পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণের উপযুক্ত সময়। সত্যিই এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিশাল বিজয় লাভ করল।
৮৫৫ হিজরিতে (১৪৫১ খ্রিষ্টাব্দে) সুলতান মুরাদ ইন্তেকাল করেন। বিশাল উসমানি সাম্রাজ্যের অধিপতি হন তাঁর পুত্র মুহাম্মদ (দ্বিতীয়)। যিনি ইতিহাসে মুহাম্মদ আল-ফাতিহ নামেই অধিক পরিচিত।