📄 পররাষ্ট্র কার্যক্রম
উসমানি সাম্রাজ্যে পুনরায় প্রাণ ফিরে এলো। সুলতান মুহাম্মাদ শাসনক্ষমতায় বসলেন, কিন্তু তার হৃদয় আশ্বস্ত হলো না। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দেখা যায় তিন ভাইকে হত্যা করে ক্ষমতা গ্রহণ করার কারণে সুলতান মুহাম্মাদ আত্মপীড়ায় ভুগতেন। এজন্য পরবর্তী সময়ে তিনি আমূল বদলে গিয়েছিলেন। যেমন, কিরমানের আমির যুদ্ধ করে মুহাম্মাদের হাতে পরাজিত হয়ে তার কাছে আনুগত্যের ওয়াদা করলে মুহাম্মাদ তাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু এই আমির মুক্ত হয়ে পুনরায় সুলতানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। আবার সে পরাজিত হয় ও বন্দি হয়। কিন্তু আবারও সুলতান তাকে ক্ষমা করে দেন। এমনইভাবে ইজমিরের আমিরকে পরাজিত করেও তাকে হত্যা না করে নিকোপলিসের শাসকের পদে বসিয়ে দেন।
📄 অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
বদরুদ্দিন নামের এক বিচারক সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। সে এক নতুন মতবাদের দিকে মানুষকে আকৃষ্ট করতে শুরু করে। তার মতবাদ ছিল অনেকটা বর্তমান সাম্যবাদের মতো। অনেক মানুষ তার অনুসারী হতে শুরু করে। বিশেষত বিধর্মীদের মধ্যে তার সমর্থক বৃদ্ধি পায়। সুলতান তাকে সাম্রাজ্যের জন্য হুমকি মনে করলেন। তার সাথে যুদ্ধ করে তাকে পরাজিত করলেন এবং তাকে হত্যা করলেন।
📄 বায়েজিদপুত্র মোস্তফার প্রত্যাবর্তন
সে সময় আত্মগোপন থেকে বের হয়ে আসে সুলতান মুহাম্মাদের আরেক ভাই মোস্তফা। মোস্তফা আত্মপ্রকাশ করেই সুলতানের কাছে সাম্রাজ্যের ভাগ দাবি করে এবং মুহাম্মাদের বাহিনীর সাথে লড়াই শুরু করে। কারা জুনাইদ মোস্তফার বাহিনীতে যোগ দেয়। মোস্তফা নিজের বাহিনী নিয়ে গ্রিসে প্রবেশ করল। কিন্তু সেখানে সুলতানের বাহিনীর কাছে মার খেয়ে পালিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করল বাইজান্টাইন সম্রাটের। সম্রাট তাকে গ্রহণ করল। সুলতান সম্রাটকে বললেন মোস্তফাকে তার হতে তুলে দিতে, কিন্তু সম্রাট তা প্রত্যাখ্যান করল। তবে সুলতানকে কথা দিলো যে, মোস্তফা যেন নতুন কোনো ষড়যন্ত্র না করতে পারে তাই তাকে নজরদারিতে রাখা হবে। সুলতান তা মেনে নিলেন এবং ভাইয়ের জন্য মাসিক ভাতা ধার্য করলেন। কারা জুনাইদের বিশ্বাসঘাতকতা সত্ত্বেও তাকে পুনরায় ক্ষমা করলেন।
৮২৪ হিজরিতে (১৪২১ খ্রিষ্টাব্দে) পুত্র মুরাদ (দ্বিতীয়)-কে সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী বানিয়ে সুলতান মুহাম্মাদ পরপারে পাড়ি জমালেন। উসমানি সাম্রাজ্যের আরেকটি নেতিবাচক দিক হলো রাষ্ট্র ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এক ভাই অপর ভাইকে হত্যা করা। এই যে তা শুরু হলো এরপর এই প্রক্রিয়া চলেছে বহুবার।