📄 সুলতানের ইন্তেকাল
যুদ্ধের পর সুলতান মুরাদ নিহত সার্ব সৈন্যদের মাঝে ঘুরে দেখছিলেন। এক সার্ব সৈনিক নিহতদের সাথে পড়ে ছিল। সুলতানকে দেখতে পেয়ে লাশের স্তূপ থেকে উঠে সুলতানকে খঞ্জর দিয়ে আঘাত করে বসে। দেহরক্ষীরা তৎক্ষণাৎ ঘাতককে হত্যা করে ফেলে, কিন্তু সুলতান এই আঘাতেই ইন্তেকাল করেন।
কোথাও কোথাও পাওয়া যায় যুদ্ধের আগের রাতে সুলতান দোয়া করেছিলেন : ‘হে আল্লাহ, আপনার ইজ্জত ও জালালের কসম! আমি এইসব জিহাদ দ্বারা অস্থায়ী দুনিয়ার কোনো কিছুই কামনা করি না। আমি কামনা করি আপনার সন্তুষ্টি। হে আমার রব, আপনি আমাকে জিহাদের পথে পরিচালিত করে সম্মানিত করেছেন। হে আমার মালিক, এখন আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু দিয়ে আরও সম্মানিত করুন।’
📄 সুলতান মুরাদের সময় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা
সুলতান মুরাদ ঘোড়সওয়ার বাহিনীকে বেশ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এদেরকে ডাকা হতো সিবাহ বা সিবাহিয়া বা অশ্বারোহী বাহিনী নামে। প্রত্যেক ঘোড়সওয়ারের জন্য কিছু জমি বরাদ্দ দিয়ে পরগনার ব্যবস্থা করেছিলেন। এসব জমির অধিবাসীরা মুসলিম হোক বা নাসারা; যুদ্ধবিরতি বা শান্তি-স্থিতির সময় সৈনিককে খারাজ পরিশোধ করত। আর যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাধ্যমতো যুদ্ধ সরঞ্জাম দিত। তাদের জন্য আরও সৈন্য সরবরাহ করত। এই ব্যবস্থায় প্রাথমিকভাবে সুলতান বেশ উপকার লাভ করেন। কিন্তু এর দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল ছিল খারাপ। সৈনিকদের মধ্যে কর্তৃত্বের মনোভাব তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বহু স্থানীয় ও আদিবাসীদের সাথে তারা রাজা-প্রজার মতো আচরণ শুরু করে। যার ফলে স্থানীয়রা বৈরী আচরণ করে ও প্রতিশোধ নেয়। একসময় এসব ভেতরগত দ্বন্দ্বের ফলে সরকারকেও বেশ বেকায়দায় পড়তে হয়।