📄 উসমানিদের ইউরোপ যাত্রা
সে সময় বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য অতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। উরখান দেখলেন কনস্টান্টিনোপলে আক্রমণ করার মোক্ষম সুযোগ তার সামনে। যেই ভাবা সেই কাজ। তবে তিনি গতানুগতিক আক্রমণের দিকে গেলেন না। ইতিপূর্বে যতবার মুসলিমরা কনস্টান্টিনোপল আক্রমণ করেছিল প্রত্যেকবার ছিল পূর্ব দিক থেকে। আর প্রতিবারই ব্যর্থতা নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল। তাই উরখান সিদ্ধান্ত নিলেন প্রথমে নগরীর পশ্চিমের অঞ্চলগুলো দখলে নিয়ে নেবেন। শহরটিকে সব দিক থেকে ঘিরে ফেলে চূড়ান্ত আক্রমণ করাই ছিল তার পরিকল্পনা।
তখন পর্যন্ত উসমানিদের নৌবহর ছিল না। তাই প্রথম কাজ ছিল প্রতিপক্ষের নৌযানগুলো দখল করা। তাই উরখানের পুত্র সুলাইমান চল্লিশ জন বীর মুজাহিদের ছোট এক বাহিনী নিয়ে নগরীর পশ্চিম তীরের সকল নৌযান কবজা করে নিলেন। তারপর পূর্বে ফিরে এসে মূল বাহিনী নিয়ে পুনরায় পশ্চিমে অভিযান চালালেন। এভাবে সহজেই নগরের পশ্চিম পাশের বিস্তীর্ণ ভূমিতে এবং গ্যালিপলি(৩৮) উপদ্বীপে উসমানিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলো। অশেষ সামরিক গুরুত্বের অধিকারী অনেক দুর্গবিশিষ্ট গ্যালিপলি উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারাটা ছিল বিরাট টার্নিং পয়েন্ট। কারণ, ভূমধ্যসাগর থেকে কনস্টান্টিনোপলে পৌঁছার একমাত্র নৌপথ দার্দানেলিস(৩৯) প্রণালি। উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই দার্দানেলিস প্রণালির ওপর উসমানি কতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
৭৬০ হিজরিতে উরখানের বড় পুত্র উসমানি বাহিনীর প্রধান সেনাপতি সুলাইমান ঘোড়া থেকে পড়ে ইন্তেকাল করেন। পরের বছর সুলতান উরখান ইন্তেকাল করেন। সাম্রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন তার দ্বিতীয় পুত্র মুরাদ।
টিকা:
৩৮. গ্যালিপলি: তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে ইউরোপীয় অংশে অবস্থিত একটি উপদ্বীপ। এর পশ্চিমেই জিয়ান সাগর এবং পূর্বে দার্দানেলিস প্রণালি অবস্থিত। -সম্পাদক
৩৯. দার্দানেলিস: মারমারা এবং এজিয়ান সাগর এই প্রণালির মাঝ দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। -সম্পাদক
📄 উসমানি সাম্রাজ্য থেকে উসমানি খিলাফত
খলিফা প্রথম সেলিম (৯১৮-৯২৬ হি./১৫১২-১৫২০ খ্রি.)
📄 খলিফা প্রথম মোস্তফা (১০২৬-১০২৭ হি./১৬১৭-১৬১৮ খ্রি.)
প্রথম মোস্তফা ভাইয়ের মৃত্যুর পর খাদিমসহ বন্দিদশা হতে মুক্ত হয়ে আসেন। ক্ষমতা কী জিনিস তা বোঝার আগেই মাত্র তিন মাসের মাথায় তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। অতঃপর ১০২৭ হিজরিতে (১৬১৮ খ্রিষ্টাব্দে) তার ভ্রাতুষ্পুত্র দ্বিতীয় উসমান খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
📄 খলিফা দ্বিতীয় উসমান (১০২৭-১০৩১ হি./১৬১৮-১৬২২ খ্রি.)
দ্বিতীয় উসমান তেরো বছর বয়সে ক্ষমতায় আরোহণ করেন এবং রীতি অনুযায়ী স্বীয় ভাই মুহাম্মাদকে হত্যা করেন। দ্বিতীয় উসমান ইতালিতে নির্বাসিত ফখরুদ্দিন মুনিকে ক্ষমা করেন এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দেন। সে লেবানন হিলে ফিরে এসে আগের মতো পুনঃবিদ্রোহ করে বসে।
ইতালির অঙ্গরাজ্য পোল্যান্ডের সাথে উসমানিদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। অতঃপর পোল্যান্ড শান্তিচুক্তি করতে চাইলে ১০২৯ হিজরিতে শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়।
অতঃপর জেনিসারি বাহিনী যুদ্ধে ব্যর্থ প্রমাণিত হওয়ার পর খলিফা তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের পরিবর্তে নতুন প্রশিক্ষিত সৈন্য সংগ্রহ করতে চাইলেন। এতে সেনারা বিদ্রোহ করে বসে এবং তাকে হত্যা করে। তারা খলিফার চাচা মোস্তফাকে পুনরায় ১০৩১ হিজরিতে খলিফা নিযুক্ত করে। জেনিসারিদের হাতে খলিফা হত্যার ঘটনা এই প্রথম। জেনিসারিদের ক্ষমতা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছিল এতে তা অনুমান করা যায়।
দ্বিতীয় উসমানের হত্যার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে উসমানি সাম্রাজ্যে নৈরাজ্য দেখা দেয়। গভর্নরগণ স্ব স্ব প্রদেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করা শুরু করে। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মুইনের পরামর্শে সেনারা প্রথম মোস্তফাকে অপসারণ করে তার ভাই চতুর্থ মুরাদকে ১০৩২ হিজরিতে খলিফা নিয়োজিত করে।