📄 বিধর্মী বিয়ে
দেখতে দেখতে উসমানি সাম্রাজ্য শক্ত অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়। ৭৫৬ হিজরিতে বাইজান্টাইন সম্রাট পঞ্চম ইউহান্না সার্বিয়ার রাজা স্টিফেনের বিরুদ্ধে উরখানের সাহায্য কামনা করেন। স্টিফেন সার্বিয়ার অন্যান্য রাজা ও ভেনিসের রাজার সাথে একাট্টা হয়ে কনস্টান্টিনোপলে হামলার ইচ্ছা করেছিল। ইউহান্না উরখানকে প্রতিশ্রুতি দেন, তাকে সাহায্য করা হলে উরখানের সাথে কনস্টান্টিনোপলের উত্তরাধিকারী যুবরাজ ইউহান্না কান্তাকুজিনের মেয়ের বিয়ে দেওয়া হবে। যে যুবরাজের বোন স্বয়ং বাইজান্টাইন সম্রাটের স্ত্রী। উরখান প্রস্তাবে রাজি হন। তবে পথিমধ্যেই স্টিফেনের মৃত্যু খবর পৌঁছালে যাত্রা বাতিল করেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উরখান খ্রিষ্টান স্ত্রী গ্রহণ করেন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, উসমানি সুলতানদের সময়টাতে মুসলিম সুলতানদের মধ্যে খ্রিষ্টান স্ত্রী গ্রহণ করার বিষয়টি ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। গাজি উসমানের খ্রিষ্টান স্ত্রী ছিল। গাজি উরখানও গ্রিক খ্রিষ্টান রমণীকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের উত্তরসূরিদের মধ্যেও অনেক সুলতান তা করেন। এটা অবশ্যই উসমানিদের নেতিবাচক একটি দিক। কারণ, এসব স্ত্রীদের অধিকাংশই খ্রিষ্টধর্ম পরিবর্তন করত না। তারা নিজেদের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে স্বজাতি ও সাম্রাজ্যের খ্রিষ্টান প্রজাদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল। (৩৭)
টিকা:
৩৭. কিছু শর্ত সাপেক্ষে আহলে কিতাব নারীদেরকে বিয়ে করা ইসলামে বৈধ। তবে মুাহাক্কিক আলেমগণ বলেন, বর্তমানে ফিতনার আশঙ্কা ও শর্তের অনুপস্থিতিতে আহলে কিতাব নারীদের বিয়ে করা অনুত্তম। -সম্পাদক