📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রদবদল ও সেনাবাহিনীর নববিন্যাস

📄 রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রদবদল ও সেনাবাহিনীর নববিন্যাস


আলাউদ্দিন স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা প্রচলন করলেন। সেনাবাহিনীকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে এলেন এবং তাদেরকে নিয়মিত বাহিনীতে পরিণত করলেন। ইতিপূর্বে সেনাসদস্যরা কেবল যুদ্ধের ডাক পড়লেই উপস্থিত হতো, নিয়মিত ব্যারাকে থাকত না। এদিকে প্রত্যেক গোত্রের সেনাসদস্যরা যেকোনো সময় গোত্রের পক্ষে শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। এই সমস্যা সব যুগে সব শাসককেই ভুগিয়েছে। খলিল-পরবর্তী সময়ে যিনি খাইরুদ্দিন পাশা নামে ইতিহাসে বিখ্যাত হন, উসমানিদের অন্যতম বিশ্বস্ত একজন উজির ছিলেন। তিনি পরামর্শ দিলেন অসহায় দরিদ্র ও যুদ্ধে নিহত হওয়া বাইজান্টাইন সৈনিকদের এতিম সন্তানদেরকে ইসলামের ওপর প্রতিপালন করে বিশেষ সেনাবাহিনী তৈরি করার। তাদেরকে এমনভাবে যুদ্ধের প্রশিক্ষণে মগ্ন রাখা হবে, যাতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা ছাড়া আর কোনো কাজ তারা জানবে না। আর সুলতান ছাড়া আর কাউকেও তারা চিনবে না বা মানবে না। সরাসরি সুলতান হবে তাদের প্রধান। এতে একদিক থেকে তারা অসহায়ত্ব ও বিলীন হয়ে যাওয়া থেকে রেহাই পাবে, অন্যদিকে তারা লাভ করবে ইসলামের মহান দৌলত এবং ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মহাগৌরব।

এই বাহিনীর নামকরণ করা হলো 'ইয়ানি তাশরি' বা নতুন বাহিনী। ইতিহাসে যারা জেনিসারি বাহিনী নামে পরিচিত। অচিরেই এ বিশেষায়িত বাহিনী উসমানিদের অন্যতম শক্তি হয়ে দেখা দিলো। ইউরোপজুড়ে উসমানিদের দিগ্বিজয়ী অভিযানে তারা নেতৃত্ব দিতে লাগল। প্রকৃত রহস্য জানার পর ব্যাপারটা ক্রুসেডারদের জন্য মারাত্মক ক্রোধ উদ্দীপক হলো। কারণ, তারা দেখছিল এই দুর্ধর্ষ বাহিনীটি তাদের ধর্ম থেকে আসা তরুণদের দিয়ে তৈরি, যারা ইসলাম কবুল করেছিল। আর শুধু ইসলাম কবুলেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ইসলামের দিগ্বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছিল। তাই পশ্চিমা ও ক্রুসেডারঘেঁষা লেখকরা জেনিসারিদের ইতিহাসকে নানাভাবে কলুষিত করার চেষ্টা করে। আর উসমানিদের ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে যে, সন্তানদেরকে জোরপূর্বক আনা হতো এবং ইসলাম কবুলে বাধ্য করা হতো। উসমানিদের ব্যাপারে তাদের অসংখ্য মিথ্যাচারের মধ্যে এটা অন্যতম।

তবে জেনিসারিদের ব্যাপারে সুলতানগণ সবসময় সঠিক নীতি অবলম্বন করতে পারেননি। কোনো কোনো সুলতান জেনিসারিদের রাজনীতিতে নাক গলানোর সুযোগ দিয়েছিলেন। ফলে প্রায়ই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় রাজনীতিতে সৈনিকদের হস্তক্ষেপের কারণে। এসব কারণে ১২৪২ হিজরিতে খলিফা দ্বিতীয় মাহমুদ জেনিসারি বাহিনী বিলুপ্ত করে দেন。

গাজি উরখান রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের জন্য অনেক মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন, সরকারি কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন দপ্তর চালু করেন। অনেক মসজিদ ও খানকা তৈরি করেন। উলামায়ে কেরাম, কবি ও সাহিত্যিকসহ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের জন্য ভাতা চালু করেন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ওরখানের বিজয় অভিযান

📄 ওরখানের বিজয় অভিযান


একের পর এক রাজ্য বিজয় করছিলেন গাজি উরখান। আনাতোলিয়ার বেশ কয়েকটি ছোট ছোট রাজ্য জয় করেন। তিনি ইজমির, আজনিক ও কোরাহসি দখল করেন। মূলত পিতা মারা যাওয়ার পর তার দুই পুত্র কোরাহসির শাসনভার নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল, যেকোনো সময় পার্শ্ববর্তী রোমান রাজ্য থেকে হামলা হতে পারে। তাই উরখান রাজ্যটিকে নিজের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তিনি কোনো রাজ্য জয় করলে তার অধিবাসীদের সাথে অত্যন্ত কোমল আচরণ করতেন। প্রত্যেককে যার যার ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতেন। আর কেউ ভিটেমাটি বিক্রি করে সর্বস্ব নিয়ে দেশ ত্যাগ করতে চাইলেও কাউকে বাধা দিতেন না।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 বিধর্মী বিয়ে

📄 বিধর্মী বিয়ে


দেখতে দেখতে উসমানি সাম্রাজ্য শক্ত অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়। ৭৫৬ হিজরিতে বাইজান্টাইন সম্রাট পঞ্চম ইউহান্না সার্বিয়ার রাজা স্টিফেনের বিরুদ্ধে উরখানের সাহায্য কামনা করেন। স্টিফেন সার্বিয়ার অন্যান্য রাজা ও ভেনিসের রাজার সাথে একাট্টা হয়ে কনস্টান্টিনোপলে হামলার ইচ্ছা করেছিল। ইউহান্না উরখানকে প্রতিশ্রুতি দেন, তাকে সাহায্য করা হলে উরখানের সাথে কনস্টান্টিনোপলের উত্তরাধিকারী যুবরাজ ইউহান্না কান্তাকুজিনের মেয়ের বিয়ে দেওয়া হবে। যে যুবরাজের বোন স্বয়ং বাইজান্টাইন সম্রাটের স্ত্রী। উরখান প্রস্তাবে রাজি হন। তবে পথিমধ্যেই স্টিফেনের মৃত্যু খবর পৌঁছালে যাত্রা বাতিল করেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উরখান খ্রিষ্টান স্ত্রী গ্রহণ করেন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, উসমানি সুলতানদের সময়টাতে মুসলিম সুলতানদের মধ্যে খ্রিষ্টান স্ত্রী গ্রহণ করার বিষয়টি ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। গাজি উসমানের খ্রিষ্টান স্ত্রী ছিল। গাজি উরখানও গ্রিক খ্রিষ্টান রমণীকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের উত্তরসূরিদের মধ্যেও অনেক সুলতান তা করেন। এটা অবশ্যই উসমানিদের নেতিবাচক একটি দিক। কারণ, এসব স্ত্রীদের অধিকাংশই খ্রিষ্টধর্ম পরিবর্তন করত না। তারা নিজেদের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে স্বজাতি ও সাম্রাজ্যের খ্রিষ্টান প্রজাদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল। (৩৭)

টিকা:
৩৭. কিছু শর্ত সাপেক্ষে আহলে কিতাব নারীদেরকে বিয়ে করা ইসলামে বৈধ। তবে মুাহাক্কিক আলেমগণ বলেন, বর্তমানে ফিতনার আশঙ্কা ও শর্তের অনুপস্থিতিতে আহলে কিতাব নারীদের বিয়ে করা অনুত্তম। -সম্পাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00