📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সুলতান গাজি উসমান প্রথম (৬৯৮-৭২৬ হি./১২৯৯-১৩২৬ খ্রি.)

📄 সুলতান গাজি উসমান প্রথম (৬৯৮-৭২৬ হি./১২৯৯-১৩২৬ খ্রি.)


উসমানি সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করে আর্তুগ্রুল ৬৮৭ হিজরিতে ইনতেকাল করেন। তার পুত্র উসমান দায়িত্ব গ্রহণ করেই আলাউদ্দিনের সমর্থন নিয়ে পরগানার সীমানা বৃদ্ধি করতে থাকেন। ৬৯৯ হিজরিতে মোঙ্গলরা আলাউদ্দিনের রাজ্য কিরমানে ভয়াবহ হামলা করে। আলাউদ্দিন পালিয়ে বাইজান্টাইন এলাকায় চলে যান। এ বছরই আলাউদ্দিন ইনতেকাল করেন। তার পুত্র গিয়াসুদ্দিন রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু মোঙ্গলরা গিয়াসুদ্দিনকে শহিদ করে দেয়। আর্তুগ্রুল ছিলেন আলাউদ্দিনের নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু তাদের রাজ্য দখল হয়ে যাওয়ার পর উসমান একজন স্বাধীন শাসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। এখান থেকেই সূচনা উসমানি সাম্রাজ্যের।

উসমান তার অধীনস্থ অঞ্চলে একটি স্বাধীন রাজ্য স্থাপন করলেন। রাজধানী নির্মাণ করলেন 'ইয়ানি শহর' বা নতুন নগরী নামের একটি শহরে। রাজ্যের পতাকা তৈরি করলেন। সেই পতাকা আজও তুরস্কের পতাকা হিসেবে টিকে আছে। রাজ্য গড়েই তিনি আনাতোলিয়ার সকল রোমান রাজাদেরকে ইসলামের দাওয়াত পাঠালেন। আর ইসলাম গ্রহণ না করলে তার বশ্যতা স্বীকার করে এবং জিজিয়া দিয়ে আনাতোলিয়ায় থাকতে হবে মর্মে বার্তা পাঠালেন। তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করা হলে লড়াইয়ের মাধ্যমে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বার্তাও পাঠান। ছোট ছোট রাজ্যের রাজারা ভীত হয়ে মোঘলদের সাহায্য প্রার্থনা করল। এমন হতে পারে তা আগেই অনুমিত ছিল বিধায় উসমান প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। উসমানের পুত্র উরখানের নেতৃত্বে একটি বাহিনী মোঙ্গলদের মোকাবিলায় অবতীর্ণ হয়। মোঙ্গল বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে তিনি ফেরার পথে বুরসা³⁶ নগরী জয় করেন। সময়টা ছিল ৭১৭ হিজরি। বুরসা বিজয় করে সেখানে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করেন। তার অধিবাসীদের সাথে উরখান যে আচরণ করেন তাতে মুগ্ধ হয়ে তারা উসমানি বাহিনীকে ত্রিশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা উপহার দেন এবং তাদের শাসক আফরিনুস ইসলাম কবুল করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি উসমানি বাহিনীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হয়েছিলেন।

৭২৬ হিজরিতে পুত্র উরখানের হাতে শাসনভার অর্পণ করে উসমান শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বুরসাতে তাকে দাফন করা হয়। এখানেই পরবর্তী উসমানি সুলতানদের দাফন করা হতো।

উসমান নিজেকে গাজি উসমান হিসেবে পরিচয় দিতেন। গাজি দ্বারা বোঝানো হতো মুজাহিদ। তিনি বোঝাতে চাইতেন যে, হয়তো গাজি নয়তো শহিদ, এটাই তো মুমিনের জীবন। জিহাদের প্রতি ভালোবাসার চিহ্ন তার এই উপাধি। তার অনুকরণে পরবর্তী অনেক উসমানি সুলতানই নিজেদের গাজি উপাধিতে ভূষিত করেন।

টিকা:
৩৬. বুরসা: তুরস্কের চতুর্থ ঘনবসতিপূর্ণ শহর এবং অন্যতম শিল্প নগরী। -সম্পাদক

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 উসমানিদের ইউরোপ যাত্রা

📄 উসমানিদের ইউরোপ যাত্রা


সে সময় বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য অতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। উরখান দেখলেন কনস্টান্টিনোপলে আক্রমণ করার মোক্ষম সুযোগ তার সামনে। যেই ভাবা সেই কাজ। তবে তিনি গতানুগতিক আক্রমণের দিকে গেলেন না। ইতিপূর্বে যতবার মুসলিমরা কনস্টান্টিনোপল আক্রমণ করেছিল প্রত্যেকবার ছিল পূর্ব দিক থেকে। আর প্রতিবারই ব্যর্থতা নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল। তাই উরখান সিদ্ধান্ত নিলেন প্রথমে নগরীর পশ্চিমের অঞ্চলগুলো দখলে নিয়ে নেবেন। শহরটিকে সব দিক থেকে ঘিরে ফেলে চূড়ান্ত আক্রমণ করাই ছিল তার পরিকল্পনা।

তখন পর্যন্ত উসমানিদের নৌবহর ছিল না। তাই প্রথম কাজ ছিল প্রতিপক্ষের নৌযানগুলো দখল করা। তাই উরখানের পুত্র সুলাইমান চল্লিশ জন বীর মুজাহিদের ছোট এক বাহিনী নিয়ে নগরীর পশ্চিম তীরের সকল নৌযান কবজা করে নিলেন। তারপর পূর্বে ফিরে এসে মূল বাহিনী নিয়ে পুনরায় পশ্চিমে অভিযান চালালেন। এভাবে সহজেই নগরের পশ্চিম পাশের বিস্তীর্ণ ভূমিতে এবং গ্যালিপলি(৩৮) উপদ্বীপে উসমানিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলো। অশেষ সামরিক গুরুত্বের অধিকারী অনেক দুর্গবিশিষ্ট গ্যালিপলি উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারাটা ছিল বিরাট টার্নিং পয়েন্ট। কারণ, ভূমধ্যসাগর থেকে কনস্টান্টিনোপলে পৌঁছার একমাত্র নৌপথ দার্দানেলিস(৩৯) প্রণালি। উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই দার্দানেলিস প্রণালির ওপর উসমানি কতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।

৭৬০ হিজরিতে উরখানের বড় পুত্র উসমানি বাহিনীর প্রধান সেনাপতি সুলাইমান ঘোড়া থেকে পড়ে ইন্তেকাল করেন। পরের বছর সুলতান উরখান ইন্তেকাল করেন। সাম্রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন তার দ্বিতীয় পুত্র মুরাদ।

টিকা:
৩৮. গ্যালিপলি: তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে ইউরোপীয় অংশে অবস্থিত একটি উপদ্বীপ। এর পশ্চিমেই জিয়ান সাগর এবং পূর্বে দার্দানেলিস প্রণালি অবস্থিত। -সম্পাদক
৩৯. দার্দানেলিস: মারমারা এবং এজিয়ান সাগর এই প্রণালির মাঝ দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। -সম্পাদক

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 উসমানি সাম্রাজ্য থেকে উসমানি খিলাফত

📄 উসমানি সাম্রাজ্য থেকে উসমানি খিলাফত


খলিফা প্রথম সেলিম (৯১৮-৯২৬ হি./১৫১২-১৫২০ খ্রি.)

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 খলিফা প্রথম মোস্তফা (১০২৬-১০২৭ হি./১৬১৭-১৬১৮ খ্রি.)

📄 খলিফা প্রথম মোস্তফা (১০২৬-১০২৭ হি./১৬১৭-১৬১৮ খ্রি.)


প্রথম মোস্তফা ভাইয়ের মৃত্যুর পর খাদিমসহ বন্দিদশা হতে মুক্ত হয়ে আসেন। ক্ষমতা কী জিনিস তা বোঝার আগেই মাত্র তিন মাসের মাথায় তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। অতঃপর ১০২৭ হিজরিতে (১৬১৮ খ্রিষ্টাব্দে) তার ভ্রাতুষ্পুত্র দ্বিতীয় উসমান খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00