📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ 📄 পর্তুগিজ

📄 পর্তুগিজ


পর্তুগিজরাই প্রথম ইউরোপীয় বণিক হিসেবে ভারতে আগমন করেছিল। ১৫০৮ হিজরিতে পর্তুগিজ ভাস্কো-দা-গামা ভারতে পৌঁছার সহজ পথ আবিষ্কার করেন। ভারতের প্রতি তাঁর মনে গোপন অভিপ্রায় জাগ্রত হয়। দেশে ফিরে গিয়ে তিনি ভারতে অভিযান চালানোর অনুমতি প্রার্থনা করেন। এ প্রেক্ষিতে তাঁকে একটি নৌবাহিনীসহ ভারত অভিযানে প্রেরণ করা হয়। পর্তুগিজরা কেবল উপকূলের কিছু অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল। তাঁদের সংখ্যা খুব কম হওয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ ভারতের অভ্যন্তরে তাঁরা সুবিধা করতে পারেনি।

সে সময় হিন্দুস্তানি মুসলিম শাসকরা প্রথমে মামলুকদের সহায়তা প্রার্থনা করে। কিন্তু পর্তুগিজরা তাঁদের ওপর বিজয়ী হলে এবার সাহায্য চাওয়া হয় উসমানিদের। পর্তুগিজরা পরাজয় বরণ করে। কিন্তু এরপর হিন্দুস্তানি কিছু শাসক উসমানিদেরই স্বীয় অঞ্চল গ্রাসের আশঙ্কা নিয়ে দেখা শুরু করে। ফলে তারা উসমানি বাহিনীর প্রতি রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। উসমানিরাও এ অঞ্চল ত্যাগ করে। পর্তুগিজরা তখন হিন্দুস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে শাসন অব্যাহত রাখে। মুম্বাইয়ের উত্তরে অবস্থিত দমন, দেউ দ্বীপ, গোয়া, মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপ, শ্রীলঙ্কা প্রমুখ এলাকায় তাঁদের দখল প্রতিষ্ঠিত থাকে। তারা সর্বত্র আতঙ্কের শাসন জারি রাখে। ১৫৬০ হিজরিতে শ্রীলঙ্কায় চলে নির্মম গণহত্যা। পর্তুগিজ নাবিকরা শত বছরের বেশি সময় ভারত মহাসাগরের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছিল।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ 📄 ওলন্দাজ/ডাচ

📄 ওলন্দাজ/ডাচ


১১৮৮ হিজরিতে ইংরেজদের হাতে স্প্যানিশ নৌবাহিনী পরাজিত হয়। সে সময় নেদারল্যান্ডস (যাদের ডাচ বা ওলন্দাজ বলা হয়) স্পেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতা পেয়ে ডাচরা উপনিবেশ গড়ার আশায় অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো জাহাজ নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সমুদ্র অভিযানে। ডাচরা এসে ভিড় করে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ অঞ্চলে। এ ছাড়াও প্রশান্ত মহাসাগরের আরও কিছু দ্বীপে তারা উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের অনেক বাণিজ্য পথ ডাচদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই সুবিধাবলে তারা মশলার দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে ইংরেজরাও এই অঞ্চলের বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তার করতে ডাচদের সাথে পাল্লা দিতে শুরু করে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ 📄 ইংরেজ

📄 ইংরেজ


ডাচরা প্রয়োজনীয় মশলার দাম বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে ইংরেজরা সরাসরি প্রাচ্যের সাথে বাণিজ্য করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। প্রাচ্যে বাণিজ্যের জন্য তারা কয়েকটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে। কিছুদিন পর সব কোম্পানি মিশে গিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে একটি কোম্পানি গড়ে তোলে। প্রথমদিকে ইংরেজদের কেন্দ্র ছিল হিন্দুস্তানের পূর্ব দিকের বিভিন্ন দ্বীপ তথা ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়া ইত্যাদি অঞ্চল। কারণ, পর্তুগিজ ও ডাচরা ইংরেজদের ভারতে ভিড়তে দিচ্ছিল না। ফলে একসময় তারা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। সে যুদ্ধে জয় লাভ করে ইংরেজরা ভারতের মাটিতে পা রাখার সুযোগ পায়। ইংরেজরা প্রথম অবতরণ করে মাদ্রাজে। এরপর একে একে সমগ্র ভারতবর্ষই তাদের করতলে চলে আসে। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা পর্যন্ত প্রায় দুইশ বছর এই শাসন অব্যাহত ছিল।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ 📄 ফরাসি

📄 ফরাসি


ফরাসিদের প্রাচ্যনীতি ছিল হুবহু ইংরেজদের মতো। তারাও ইংরেজদের আদলে কোম্পানি গঠন করে ভারতে প্রবেশ করে। প্রত্যেক ঔপনিবেশিক কোম্পানি স্থায়ী ঘাঁটির জন্য জমি কিনে তাতে দুর্গ নির্মাণে আগ্রহী ছিল, যা ছিল ঔপনিবেশিক শাসন কায়েমের প্রথম ধাপ। ফরাসিদেরও বেশকিছু ঘাঁটি ছিল। যেমন, মুনদেশওয়ারি, ইন্দার, নায়াওয়ান, করিকাল ইত্যাদি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px