📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 লোদি শাসন

📄 লোদি শাসন


এই বংশ ৮৫৫ হিজরি থেকে ৯৩২ হিজরি পর্যন্ত শাসন করে। লোদি বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান বাহলুল লোদি ছিলেন আফগান বংশোদ্ভূত। তার সময়ে হিন্দুস্তানে বিভিন্ন স্বাধীন রাজ্য বিদ্যমান ছিল। সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশের ছিল মুসলিম শাসন এবং অতি অল্পকিছুর ছিল হিন্দু শাসন। তিনি বিভিন্ন মুসলিম অঞ্চলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন। বাহলুল লোদির পুত্র সিকান্দার লোদি ত্রিহুত ও বিহার জয় করে সুলতানি শাসনের সীমানা বৃদ্ধি করেন। সর্বশেষ লোদি শাসক ছিলেন ইবরাহিম লোদি। তার সময়ে মোঘল সম্রাট বাবর ভারতবর্ষে আক্রমণ করেন। ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে তিনি ইবরাহিম লোদিকে পরাজিত করেন। ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত হয় মোঘল শাসন। তৈমুরীয় মোঘল সাম্রাজ্য।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের সূচনা

📄 উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের সূচনা


ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশজুড়ে জমি কিনে দুর্গ নির্মাণ করতে লাগল। ইংরেজরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। শুরুতে তারা এখানকার বিভিন্ন কাঁচামাল ইউরোপে রপ্তানি করত। এরপর ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পর সেখান থেকে বিভিন্ন তৈজসপত্র এ অঞ্চলে আমদানি করতে লাগল। ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনার জন্য কোম্পানির ছিল নৌবহর। যা তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকত। কিছুদিন পর কোম্পানিটি ব্যক্তি মালিকানা থেকে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে নিয়ে নেওয়া হয়। ব্রিটিশ সরকার কোম্পানির কর্তৃত্ব পাওয়ার পর থেকে খুব জোরদারভাবে ভারতে শাসন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। একের পর এক রাজ্য হস্তগত হতে থাকে ইংরেজদের। ব্রিটিশরা দেখল মুসলিমরাই এখানে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই তারা হিন্দুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ল। বিশেষত হিন্দুদের অন্তরে পূর্ব থেকেই মুসলিম বিদ্বেষ কাজ করছিল। কারণ, তাদের ওপর ছিল মুসলিম শাসনের ছড়ি। ইংরেজরা এ সুযোগটিকে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছিল। পাশাপাশি খ্রিষ্টধর্মী ব্রিটিশদের অন্তরে থাকা ক্রুসেডীয় মুসলিম বিদ্বেষও তাদেরকে ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে হীন উপায় গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করছিল। ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দু, শিখ, মারাঠাদের শক্তিশালী করে তুলল ইংরেজশক্তি। পরিশেষে তাদের হাতে উঠে এলো হিন্দুস্তান শাসনের ছড়ি।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশজুড়ে জমি কিনে দুর্গ নির্মাণ করতে লাগল। ইংরেজরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। শুরুতে তারা এখানকার বিভিন্ন কাঁচামাল ইউরোপে রপ্তানি করত। এরপর ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পর সেখান থেকে বিভিন্ন তৈজসপত্র এ অঞ্চলে আমদানি করতে লাগল। ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনার জন্য কোম্পানির ছিল নৌবহর। যা তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকত। কিছুদিন পর কোম্পানিটি ব্যক্তি মালিকানা থেকে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে নিয়ে নেওয়া হয়। ব্রিটিশ সরকার কোম্পানির কর্তৃত্ব পাওয়ার পর থেকে খুব জোরদারভাবে ভারতে শাসন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। একের পর এক রাজ্য হস্তগত হতে থাকে ইংরেজদের। ব্রিটিশরা দেখল মুসলিমরাই এখানে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই তারা হিন্দুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ল। বিশেষত হিন্দুদের অন্তরে পূর্ব থেকেই মুসলিম বিদ্বেষ কাজ করছিল। কারণ, তাদের ওপর ছিল মুসলিম শাসনের ছড়ি। ইংরেজরা এ সুযোগটিকে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছিল। পাশাপাশি খ্রিষ্টধর্মী ব্রিটিশদের অন্তরে থাকা ক্রুসেডীয় মুসলিম বিদ্বেষও তাদেরকে ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে হীন উপায় গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করছিল। ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দু, শিখ, মারাঠাদের শক্তিশালী করে তুলল ইংরেজশক্তি। পরিশেষে তাদের হাতে উঠে এলো হিন্দুস্তান শাসনের ছড়ি।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ভারতবর্ষে মোঘল সাম্রাজ্যের পতন

📄 ভারতবর্ষে মোঘল সাম্রাজ্যের পতন


ইংরেজরা রাজ্য দখল করে হিন্দুদের সাথে মিত্রতা করত, আর নির্যাতন চালাতো মুসলিমদের ওপর। তবে ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর হিন্দু মুসলিম সবাই বেনিয়াদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। কারণ, দেশের অর্থব্যবস্থা তখন তারাই নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে যাওয়ার পর দেশজুড়ে দারিদ্র্যের বিস্তার ঘটে।

অনেক ধরনের অবিচারের মধ্যে একটি ছিল, সৈনিকদের মধ্যে শূকরের চর্বি দিয়ে তৈরি টোটা বন্দুকে ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। এই ঘটনার পর মুসলিম সৈনিকদের মাঝে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা এ কাজ বর্জন করে। কারণ, ইসলামে শূকর বা শূকরজাত যেকোনো বস্তু ব্যবহার হারাম। সরাসরি বিশ্বাসের ওপর আঘাত মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না কেউ। ইংরেজরা কঠিন হাতে মুসলিম প্রতিবাদীদের দমন করে। এই নিপীড়নের ফলে অন্যান্য মুসলিম সৈনিকের মনে বিদ্রোহ দানা বাঁধে। তারা কতিপয় ইংরেজ অফিসারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের একজনকে হত্যা করে। তারপর সবাই পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয় শেষ মোঘল সুলতান বাহাদুরের কাছে। দেশের প্রায় সর্বত্র বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছিল। কিন্তু অতি দ্রুততার সাথে ইংরেজরা বিশাল বাহিনী নিয়ে দিল্লি অবরোধ করে। এরপর উন্নত অস্ত্রের বলে অল্প সময়ের মধ্যেই দিল্লি দখল করে নেয়। সম্রাট বাহাদুরকে গ্রেফতার করে তার সামনেই তার সন্তানদের হত্যা করা হয়। এমনকি তার সন্তানের গোশত রান্না করে তার সামনে পেশ করার মতো নৃশংসতাও দেখিয়েছিল ব্রিটিশ বাহিনী। সম্রাটকে তৎকালীন বার্মার রাজধানী রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।

এভাবে ব্রিটিশ সরকার কাগজে-কলমে টিকে থাকা মোঘল রাজত্বেরও ইতি টেনে দেয়। পুরো ভারতে ব্রিটিশ শাসনের আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয়। তারা কঠিনতর নির্যাতন চালায় মুসলিমদের ওপর। অসংখ্য মসজিদ বিনাশ করে। সহায়সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। অনেক মসজিদকে সেনাছাউনিতে রূপান্তর করে। হিন্দু সম্প্রদায় এসব কাজকে স্বাগত জানায়। কখনো নিজেরাও এসব পাশবিক কাজে ইংরেজদের সাথে অংশগ্রহণ করত।

ইংরেজরা রাজ্য দখল করে হিন্দুদের সাথে মিত্রতা করত, আর নির্যাতন চালাতো মুসলিমদের ওপর। তবে ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর হিন্দু মুসলিম সবাই বেনিয়াদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। কারণ, দেশের অর্থব্যবস্থা তখন তারাই নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে যাওয়ার পর দেশজুড়ে দারিদ্র্যের বিস্তার ঘটে।

অনেক ধরনের অবিচারের মধ্যে একটি ছিল, সৈনিকদের মধ্যে শূকরের চর্বি দিয়ে তৈরি টোটা বন্দুকে ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। এই ঘটনার পর মুসলিম সৈনিকদের মাঝে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা এ কাজ বর্জন করে। কারণ, ইসলামে শূকর বা শূকরজাত যেকোনো বস্তু ব্যবহার হারাম। সরাসরি বিশ্বাসের ওপর আঘাত মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না কেউ। ইংরেজরা কঠিন হাতে মুসলিম প্রতিবাদীদের দমন করে। এই নিপীড়নের ফলে অন্যান্য মুসলিম সৈনিকের মনে বিদ্রোহ দানা বাঁধে। তারা কতিপয় ইংরেজ অফিসারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের একজনকে হত্যা করে। তারপর সবাই পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয় শেষ মোঘল সুলতান বাহাদুরের কাছে। দেশের প্রায় সর্বত্র বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছিল। কিন্তু অতি দ্রুততার সাথে ইংরেজরা বিশাল বাহিনী নিয়ে দিল্লি অবরোধ করে। এরপর উন্নত অস্ত্রের বলে অল্প সময়ের মধ্যেই দিল্লি দখল করে নেয়। সম্রাট বাহাদুরকে গ্রেফতার করে তার সামনেই তার সন্তানদের হত্যা করা হয়। এমনকি তার সন্তানের গোশত রান্না করে তার সামনে পেশ করার মতো নৃশংসতাও দেখিয়েছিল ব্রিটিশ বাহিনী। সম্রাটকে তৎকালীন বার্মার রাজধানী রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।

এভাবে ব্রিটিশ সরকার কাগজে-কলমে টিকে থাকা মোঘল রাজত্বেরও ইতি টেনে দেয়। পুরো ভারতে ব্রিটিশ শাসনের আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয়। তারা কঠিনতর নির্যাতন চালায় মুসলিমদের ওপর। অসংখ্য মসজিদ বিনাশ করে। সহায়সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। অনেক মসজিদকে সেনাছাউনিতে রূপান্তর করে। হিন্দু সম্প্রদায় এসব কাজকে স্বাগত জানায়। কখনো নিজেরাও এসব পাশবিক কাজে ইংরেজদের সাথে অংশগ্রহণ করত।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 হিন্দুস্তানের মুসলিমদের মধ্যে বিশ্ব রাজনীতির প্রভাব

📄 হিন্দুস্তানের মুসলিমদের মধ্যে বিশ্ব রাজনীতির প্রভাব


ব্রিটিশ শাসনযন্ত্র মুসলিম সমাজের ওপর নির্যাতন করেই ক্ষান্ত ছিল না। তারা হিন্দুদের জন্য আধুনিক বিদ্যালয় চালু করে এবং তাদেরকে পশ্চিমা সভ্যতার সাথে পরিচিত করে তোলে। কিন্তু একই সময়ে মুসলিমরা ঘৃণাভরে ইংরেজদের শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করেছিল। কারণ, এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষমূলক ছিল। পাশাপাশি খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের কাজ করত। ফলে গতকালের রাজা আজ রাজ্য হারিয়ে অশিক্ষা ও দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকা পড়ে। এরপরও কোথাও কোথাও কয়েকটি স্বাধীন ও ইংরেজ নিযুক্ত মুসলিম শাসকের মুসলিম রাজ্য টিকে ছিল। মুসলিমরা সংখ্যালঘু হলেও তাদের শাসনে সংখ্যাগুরু হিন্দুরা অভ্যস্ত ছিল। সবাই স্বাভাবিক জীবনযাপন করত。

মুসলিমদের সর্বশান্ত করতে এবং ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে চেষ্টার কমতি ছিল না ব্রিটিশদের। তার অংশ হিসেবে একদিকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ জাগ্রত করা, অন্যদিকে মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন করতে তাদের মাঝে নব্য বিভিন্ন ফেরকা সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চলতে থাকে। এর অংশ হিসেবে সম্রাট আকবরের রেখে যাওয়া মিশ্রধর্মীয় চিন্তাধারার পুনর্জাগরণ করা হয়। জন্ম দেওয়া হয় মির্জা কাদিয়ানী নামের এক ভণ্ড নবি দাবিদারকে। তার ভ্রান্ত দলটিও দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একটির নাম 'লাহোরি' (আহমাদ আলি লাহোরির নেতৃত্বাধীন গ্রুপ) আরেকটি আরেকটির নাম 'কাদিয়ানি'। জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত ব্রিটিশরা কাদিয়ানিদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর প্রতিটি ভূখণ্ডে ইসলামের বিরোধিতা করতে তাদের সহযোগিতা দিয়েছে।

এতৎসত্ত্বেও উপনিবেশক শক্তির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিল মুসলিম সমাজ। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দল ও প্লাটফর্ম তৈরি করা হয়। আর ইংরেজ ও হিন্দুরা একযোগে সর্বদা মুসলিমদের প্রতিকূলে অবস্থান করতে থাকে।

বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর সে সময় যা কিছু ঘটছিল, ভারতের মুসলিমরা তার প্রভাবমুক্ত ছিল না। ১৩৩৭ হিজরিতে (১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে) খিলাফতের ওপর আঘাতের পর ভারতজুড়ে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় বইতে থাকে। কারণ, খিলাফত পতনের পেছনে ইংরেজরা কলকাঠি নাড়ছিল। ওদিকে ইতালির সেনারা লিবিয়া দখল করে নেয়। এ ঘটনাতেও তীব্র অসন্তোষ ছিল জনমনে। পাশাপাশি আরবের ওহাবি আন্দোলনের তীব্রতাও ভারতে অনুভূত হচ্ছিল। ইন্দোনেশিয়ার মুসলিমদের ওপর ডাচদের অত্যাচারের ঘটনাও এখানে তুমুল দ্রোহে সমালোচিত হচ্ছিল। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিতে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করে হিন্দুস্তানের মুসলিমরা। মোটকথা, বিশ্বের যেখানেই মুসলিমরা নির্যাতিত, লাঞ্ছিত বা বঞ্চিত হচ্ছিল, সেসব ব্যাপারে হিন্দুস্তানের মুসলিমরা ছিল সচেতন এবং তাদের বেদনায় তারাও ছিল ব্যথিত।

এতৎসত্ত্বেও তারা চিন্তাচেতনায় শতধাবিভক্ত ছিল। যেভাবে ছিল আহলুস সুন্নাহর অনুসারী, তেমনই ছিল ভ্রান্ত শিয়াবাদের অনুসারী, ছিল ইসমাইলি, কাদিয়ানি ইত্যাদি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তারা ঐক্যবদ্ধ ছিল না। কেউ চাইত ইংরেজ থেকে স্বাধীনতার পর হিন্দু মুসলিম এক দেশে বসবাস করুক। তাদের আশা ছিল, এমন হলে তারা নির্বিঘ্নে দাওয়াতের কাজ করতে পারবে। আবার কেউ চাইত, উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে হিন্দুদের থেকে পৃথক খাঁটি এক ইসলামি রাষ্ট্র। কারণ, হিন্দুদের অন্তরে সর্বদা বিরাজ করে মুসলিমদের প্রতি প্রচণ্ড বিদ্বেষ ও হিংসা। তাই তাদের সাথে এক দেশে বাস করা কল্যাণকর হবে না। এই চেতনা লালন করতেন পাকিস্তানের বিখ্যাত কবি ও দার্শনিক আল্লামা ইকবালও। সে সময় হিন্দুস্তানের মানুষের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ছিল 'কংগ্রেস' যার নেতৃত্বে ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তিনি ছিলেন গোঁড়া হিন্দু, তবে তার মধ্যে মুসলিমদের প্রতি কিছুটা নমনীয়তাও ছিল। কারণ, তাদের সমর্থনও তার প্রয়োজন ছিল। আরেকটি দল ছিল 'মুসলিম লিগ', যার নেতৃত্বে ছিলেন মুহাম্মাদ আলি জিন্নাহ। মুসলিম লিগই পৃথক ইসলামি রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করছিল।

ব্রিটিশ শাসনযন্ত্র মুসলিম সমাজের ওপর নির্যাতন করেই ক্ষান্ত ছিল না। তারা হিন্দুদের জন্য আধুনিক বিদ্যালয় চালু করে এবং তাদেরকে পশ্চিমা সভ্যতার সাথে পরিচিত করে তোলে। কিন্তু একই সময়ে মুসলিমরা ঘৃণাভরে ইংরেজদের শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করেছিল। কারণ, এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষমূলক ছিল। পাশাপাশি খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের কাজ করত। ফলে গতকালের রাজা আজ রাজ্য হারিয়ে অশিক্ষা ও দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকা পড়ে। এরপরও কোথাও কোথাও কয়েকটি স্বাধীন ও ইংরেজ নিযুক্ত মুসলিম শাসকের মুসলিম রাজ্য টিকে ছিল। মুসলিমরা সংখ্যালঘু হলেও তাদের শাসনে সংখ্যাগুরু হিন্দুরা অভ্যস্ত ছিল। সবাই স্বাভাবিক জীবনযাপন করত。

মুসলিমদের সর্বশান্ত করতে এবং ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে চেষ্টার কমতি ছিল না ব্রিটিশদের। তার অংশ হিসেবে একদিকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ জাগ্রত করা, অন্যদিকে মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন করতে তাদের মাঝে নব্য বিভিন্ন ফেরকা সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চলতে থাকে। এর অংশ হিসেবে সম্রাট আকবরের রেখে যাওয়া মিশ্রধর্মীয় চিন্তাধারার পুনর্জাগরণ করা হয়। জন্ম দেওয়া হয় মির্জা কাদিয়ানী নামের এক ভণ্ড নবি দাবিদারকে। তার ভ্রান্ত দলটিও দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একটির নাম 'লাহোরি' (আহমাদ আলি লাহোরির নেতৃত্বাধীন গ্রুপ) আরেকটি আরেকটির নাম 'কাদিয়ানি'। জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত ব্রিটিশরা কাদিয়ানিদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর প্রতিটি ভূখণ্ডে ইসলামের বিরোধিতা করতে তাদের সহযোগিতা দিয়েছে।

এতৎসত্ত্বেও উপনিবেশক শক্তির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিল মুসলিম সমাজ। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দল ও প্লাটফর্ম তৈরি করা হয়। আর ইংরেজ ও হিন্দুরা একযোগে সর্বদা মুসলিমদের প্রতিকূলে অবস্থান করতে থাকে।

বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর সে সময় যা কিছু ঘটছিল, ভারতের মুসলিমরা তার প্রভাবমুক্ত ছিল না। ১৩৩৭ হিজরিতে (১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে) খিলাফতের ওপর আঘাতের পর ভারতজুড়ে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় বইতে থাকে। কারণ, খিলাফত পতনের পেছনে ইংরেজরা কলকাঠি নাড়ছিল। ওদিকে ইতালির সেনারা লিবিয়া দখল করে নেয়। এ ঘটনাতেও তীব্র অসন্তোষ ছিল জনমনে। পাশাপাশি আরবের ওহাবি আন্দোলনের তীব্রতাও ভারতে অনুভূত হচ্ছিল। ইন্দোনেশিয়ার মুসলিমদের ওপর ডাচদের অত্যাচারের ঘটনাও এখানে তুমুল দ্রোহে সমালোচিত হচ্ছিল। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিতে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করে হিন্দুস্তানের মুসলিমরা। মোটকথা, বিশ্বের যেখানেই মুসলিমরা নির্যাতিত, লাঞ্ছিত বা বঞ্চিত হচ্ছিল, সেসব ব্যাপারে হিন্দুস্তানের মুসলিমরা ছিল সচেতন এবং তাদের বেদনায় তারাও ছিল ব্যথিত।

এতৎসত্ত্বেও তারা চিন্তাচেতনায় শতধাবিভক্ত ছিল। যেভাবে ছিল আহলুস সুন্নাহর অনুসারী, তেমনই ছিল ভ্রান্ত শিয়াবাদের অনুসারী, ছিল ইসমাইলি, কাদিয়ানি ইত্যাদি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তারা ঐক্যবদ্ধ ছিল না। কেউ চাইত ইংরেজ থেকে স্বাধীনতার পর হিন্দু মুসলিম এক দেশে বসবাস করুক। তাদের আশা ছিল, এমন হলে তারা নির্বিঘ্নে দাওয়াতের কাজ করতে পারবে। আবার কেউ চাইত, উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে হিন্দুদের থেকে পৃথক খাঁটি এক ইসলামি রাষ্ট্র। কারণ, হিন্দুদের অন্তরে সর্বদা বিরাজ করে মুসলিমদের প্রতি প্রচণ্ড বিদ্বেষ ও হিংসা। তাই তাদের সাথে এক দেশে বাস করা কল্যাণকর হবে না। এই চেতনা লালন করতেন পাকিস্তানের বিখ্যাত কবি ও দার্শনিক আল্লামা ইকবালও। সে সময় হিন্দুস্তানের মানুষের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ছিল 'কংগ্রেস' যার নেতৃত্বে ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তিনি ছিলেন গোঁড়া হিন্দু, তবে তার মধ্যে মুসলিমদের প্রতি কিছুটা নমনীয়তাও ছিল। কারণ, তাদের সমর্থনও তার প্রয়োজন ছিল। আরেকটি দল ছিল 'মুসলিম লিগ', যার নেতৃত্বে ছিলেন মুহাম্মাদ আলি জিন্নাহ। মুসলিম লিগই পৃথক ইসলামি রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00