📄 খলিজব (সৈয়দ) বংশের শাসন
খিজির ছিলেন তৈমুরের লোক। তৈমুরের প্রস্থানের পর তিনি দিল্লিতেই রয়ে যান। মাহমুদ শাহের মৃত্যুর পর খিজির তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তার বংশ ৮৫৫ হি. পর্যন্ত দিল্লি শাসন করে। এই বংশের শেষ সুলতান আলাউদ্দিনের শাসনকালে জনৈক বাহলুল লোদী নামক ব্যক্তি বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করে নেন। তিনিই লোদী বংশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম শাসক।
📄 লোদি শাসন
এই বংশ ৮৫৫ হিজরি থেকে ৯৩২ হিজরি পর্যন্ত শাসন করে। লোদি বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান বাহলুল লোদি ছিলেন আফগান বংশোদ্ভূত। তার সময়ে হিন্দুস্তানে বিভিন্ন স্বাধীন রাজ্য বিদ্যমান ছিল। সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশের ছিল মুসলিম শাসন এবং অতি অল্পকিছুর ছিল হিন্দু শাসন। তিনি বিভিন্ন মুসলিম অঞ্চলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন। বাহলুল লোদির পুত্র সিকান্দার লোদি ত্রিহুত ও বিহার জয় করে সুলতানি শাসনের সীমানা বৃদ্ধি করেন। সর্বশেষ লোদি শাসক ছিলেন ইবরাহিম লোদি। তার সময়ে মোঘল সম্রাট বাবর ভারতবর্ষে আক্রমণ করেন। ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে তিনি ইবরাহিম লোদিকে পরাজিত করেন। ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত হয় মোঘল শাসন। তৈমুরীয় মোঘল সাম্রাজ্য।
📄 উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের সূচনা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশজুড়ে জমি কিনে দুর্গ নির্মাণ করতে লাগল। ইংরেজরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। শুরুতে তারা এখানকার বিভিন্ন কাঁচামাল ইউরোপে রপ্তানি করত। এরপর ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পর সেখান থেকে বিভিন্ন তৈজসপত্র এ অঞ্চলে আমদানি করতে লাগল। ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনার জন্য কোম্পানির ছিল নৌবহর। যা তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকত। কিছুদিন পর কোম্পানিটি ব্যক্তি মালিকানা থেকে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে নিয়ে নেওয়া হয়। ব্রিটিশ সরকার কোম্পানির কর্তৃত্ব পাওয়ার পর থেকে খুব জোরদারভাবে ভারতে শাসন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। একের পর এক রাজ্য হস্তগত হতে থাকে ইংরেজদের। ব্রিটিশরা দেখল মুসলিমরাই এখানে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই তারা হিন্দুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ল। বিশেষত হিন্দুদের অন্তরে পূর্ব থেকেই মুসলিম বিদ্বেষ কাজ করছিল। কারণ, তাদের ওপর ছিল মুসলিম শাসনের ছড়ি। ইংরেজরা এ সুযোগটিকে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছিল। পাশাপাশি খ্রিষ্টধর্মী ব্রিটিশদের অন্তরে থাকা ক্রুসেডীয় মুসলিম বিদ্বেষও তাদেরকে ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে হীন উপায় গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করছিল। ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দু, শিখ, মারাঠাদের শক্তিশালী করে তুলল ইংরেজশক্তি। পরিশেষে তাদের হাতে উঠে এলো হিন্দুস্তান শাসনের ছড়ি।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশজুড়ে জমি কিনে দুর্গ নির্মাণ করতে লাগল। ইংরেজরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। শুরুতে তারা এখানকার বিভিন্ন কাঁচামাল ইউরোপে রপ্তানি করত। এরপর ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পর সেখান থেকে বিভিন্ন তৈজসপত্র এ অঞ্চলে আমদানি করতে লাগল। ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনার জন্য কোম্পানির ছিল নৌবহর। যা তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকত। কিছুদিন পর কোম্পানিটি ব্যক্তি মালিকানা থেকে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে নিয়ে নেওয়া হয়। ব্রিটিশ সরকার কোম্পানির কর্তৃত্ব পাওয়ার পর থেকে খুব জোরদারভাবে ভারতে শাসন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। একের পর এক রাজ্য হস্তগত হতে থাকে ইংরেজদের। ব্রিটিশরা দেখল মুসলিমরাই এখানে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই তারা হিন্দুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ল। বিশেষত হিন্দুদের অন্তরে পূর্ব থেকেই মুসলিম বিদ্বেষ কাজ করছিল। কারণ, তাদের ওপর ছিল মুসলিম শাসনের ছড়ি। ইংরেজরা এ সুযোগটিকে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছিল। পাশাপাশি খ্রিষ্টধর্মী ব্রিটিশদের অন্তরে থাকা ক্রুসেডীয় মুসলিম বিদ্বেষও তাদেরকে ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে হীন উপায় গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করছিল। ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দু, শিখ, মারাঠাদের শক্তিশালী করে তুলল ইংরেজশক্তি। পরিশেষে তাদের হাতে উঠে এলো হিন্দুস্তান শাসনের ছড়ি।
📄 ভারতবর্ষে মোঘল সাম্রাজ্যের পতন
ইংরেজরা রাজ্য দখল করে হিন্দুদের সাথে মিত্রতা করত, আর নির্যাতন চালাতো মুসলিমদের ওপর। তবে ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর হিন্দু মুসলিম সবাই বেনিয়াদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। কারণ, দেশের অর্থব্যবস্থা তখন তারাই নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে যাওয়ার পর দেশজুড়ে দারিদ্র্যের বিস্তার ঘটে।
অনেক ধরনের অবিচারের মধ্যে একটি ছিল, সৈনিকদের মধ্যে শূকরের চর্বি দিয়ে তৈরি টোটা বন্দুকে ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। এই ঘটনার পর মুসলিম সৈনিকদের মাঝে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা এ কাজ বর্জন করে। কারণ, ইসলামে শূকর বা শূকরজাত যেকোনো বস্তু ব্যবহার হারাম। সরাসরি বিশ্বাসের ওপর আঘাত মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না কেউ। ইংরেজরা কঠিন হাতে মুসলিম প্রতিবাদীদের দমন করে। এই নিপীড়নের ফলে অন্যান্য মুসলিম সৈনিকের মনে বিদ্রোহ দানা বাঁধে। তারা কতিপয় ইংরেজ অফিসারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের একজনকে হত্যা করে। তারপর সবাই পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয় শেষ মোঘল সুলতান বাহাদুরের কাছে। দেশের প্রায় সর্বত্র বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছিল। কিন্তু অতি দ্রুততার সাথে ইংরেজরা বিশাল বাহিনী নিয়ে দিল্লি অবরোধ করে। এরপর উন্নত অস্ত্রের বলে অল্প সময়ের মধ্যেই দিল্লি দখল করে নেয়। সম্রাট বাহাদুরকে গ্রেফতার করে তার সামনেই তার সন্তানদের হত্যা করা হয়। এমনকি তার সন্তানের গোশত রান্না করে তার সামনে পেশ করার মতো নৃশংসতাও দেখিয়েছিল ব্রিটিশ বাহিনী। সম্রাটকে তৎকালীন বার্মার রাজধানী রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।
এভাবে ব্রিটিশ সরকার কাগজে-কলমে টিকে থাকা মোঘল রাজত্বেরও ইতি টেনে দেয়। পুরো ভারতে ব্রিটিশ শাসনের আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয়। তারা কঠিনতর নির্যাতন চালায় মুসলিমদের ওপর। অসংখ্য মসজিদ বিনাশ করে। সহায়সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। অনেক মসজিদকে সেনাছাউনিতে রূপান্তর করে। হিন্দু সম্প্রদায় এসব কাজকে স্বাগত জানায়। কখনো নিজেরাও এসব পাশবিক কাজে ইংরেজদের সাথে অংশগ্রহণ করত।
ইংরেজরা রাজ্য দখল করে হিন্দুদের সাথে মিত্রতা করত, আর নির্যাতন চালাতো মুসলিমদের ওপর। তবে ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর হিন্দু মুসলিম সবাই বেনিয়াদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। কারণ, দেশের অর্থব্যবস্থা তখন তারাই নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে যাওয়ার পর দেশজুড়ে দারিদ্র্যের বিস্তার ঘটে।
অনেক ধরনের অবিচারের মধ্যে একটি ছিল, সৈনিকদের মধ্যে শূকরের চর্বি দিয়ে তৈরি টোটা বন্দুকে ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। এই ঘটনার পর মুসলিম সৈনিকদের মাঝে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা এ কাজ বর্জন করে। কারণ, ইসলামে শূকর বা শূকরজাত যেকোনো বস্তু ব্যবহার হারাম। সরাসরি বিশ্বাসের ওপর আঘাত মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না কেউ। ইংরেজরা কঠিন হাতে মুসলিম প্রতিবাদীদের দমন করে। এই নিপীড়নের ফলে অন্যান্য মুসলিম সৈনিকের মনে বিদ্রোহ দানা বাঁধে। তারা কতিপয় ইংরেজ অফিসারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের একজনকে হত্যা করে। তারপর সবাই পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয় শেষ মোঘল সুলতান বাহাদুরের কাছে। দেশের প্রায় সর্বত্র বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছিল। কিন্তু অতি দ্রুততার সাথে ইংরেজরা বিশাল বাহিনী নিয়ে দিল্লি অবরোধ করে। এরপর উন্নত অস্ত্রের বলে অল্প সময়ের মধ্যেই দিল্লি দখল করে নেয়। সম্রাট বাহাদুরকে গ্রেফতার করে তার সামনেই তার সন্তানদের হত্যা করা হয়। এমনকি তার সন্তানের গোশত রান্না করে তার সামনে পেশ করার মতো নৃশংসতাও দেখিয়েছিল ব্রিটিশ বাহিনী। সম্রাটকে তৎকালীন বার্মার রাজধানী রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।
এভাবে ব্রিটিশ সরকার কাগজে-কলমে টিকে থাকা মোঘল রাজত্বেরও ইতি টেনে দেয়। পুরো ভারতে ব্রিটিশ শাসনের আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয়। তারা কঠিনতর নির্যাতন চালায় মুসলিমদের ওপর। অসংখ্য মসজিদ বিনাশ করে। সহায়সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। অনেক মসজিদকে সেনাছাউনিতে রূপান্তর করে। হিন্দু সম্প্রদায় এসব কাজকে স্বাগত জানায়। কখনো নিজেরাও এসব পাশবিক কাজে ইংরেজদের সাথে অংশগ্রহণ করত।