📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তুঘলক শাসন

📄 তুঘলক শাসন


সিন্ধুর আমির গিয়াসুদ্দিন তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তার সাম্রাজ্য ৭২০ হিজরি থেকে প্রায় একশ বছর দিল্লি শাসন করেছিল। তার মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসে পুত্র জুনা ওরফে মুহাম্মাদ তুঘলক। তার উপাধি ছিল আবুল মুজাহিদ। নামাজের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। নামাজ ত্যাগকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিতেন। তার হাতে কেরালা জয় হয়। চীন অভিমুখেও তিনি সেনা প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু হিমালয়ের বৈরী পরিবেশে সৈন্যরা ধ্বংসের মুখে পড়ে।

তার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসেন তার চাচাতো ভাই ফিরোজ শাহ তুঘলক। তিনি ছিলেন একজন বুজুর্গ শাসক। তিনি অনেক মসজিদ-মাদরাসা ও চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বহু কেল্লা নির্মাণ করেন। তার মৃত্যুর পর দেশে বিশৃঙ্খলা সীমা ছাড়িয়ে যায়। আমিরদের মাঝে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এরপর বেশ কয়েকজন শাসক ক্ষমতায় আসেন।

কিন্তু তুঘলকদের সময় ফুরিয়ে আসছিল। ৮০১ হিজরিতে (১৩৯৮ খ্রিষ্টাব্দে) তৈমুর লং দিল্লি আক্রমণ করেন। তবে দিল্লি শাসন করার ইচ্ছা তৈমুরের আদৌ ছিল কি না তাতে সন্দেহ আছে। যতদূর বোঝা যায়, ভারতের মুসলিম রাজাদের ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত করে দুর্বল করে দেওয়াই ছিল তৈমুরের ভারত আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য। তাই অল্প সময় পরেই তৈমুর ভারত ত্যাগ করেন। তার প্রস্থানের পর তুঘলক বংশের শেষ সুলতান মাহমুদ শাহ পুনরায় দিল্লির সিংহাসন দখল করেন। মাহমুদের মৃত্যু হয় ৮১৫ হিজরিতে (১৪১৩ খ্রিষ্টাব্দে)।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 খলিজব (সৈয়দ) বংশের শাসন

📄 খলিজব (সৈয়দ) বংশের শাসন


খিজির ছিলেন তৈমুরের লোক। তৈমুরের প্রস্থানের পর তিনি দিল্লিতেই রয়ে যান। মাহমুদ শাহের মৃত্যুর পর খিজির তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তার বংশ ৮৫৫ হি. পর্যন্ত দিল্লি শাসন করে। এই বংশের শেষ সুলতান আলাউদ্দিনের শাসনকালে জনৈক বাহলুল লোদী নামক ব্যক্তি বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করে নেন। তিনিই লোদী বংশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম শাসক।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 লোদি শাসন

📄 লোদি শাসন


এই বংশ ৮৫৫ হিজরি থেকে ৯৩২ হিজরি পর্যন্ত শাসন করে। লোদি বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান বাহলুল লোদি ছিলেন আফগান বংশোদ্ভূত। তার সময়ে হিন্দুস্তানে বিভিন্ন স্বাধীন রাজ্য বিদ্যমান ছিল। সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশের ছিল মুসলিম শাসন এবং অতি অল্পকিছুর ছিল হিন্দু শাসন। তিনি বিভিন্ন মুসলিম অঞ্চলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন। বাহলুল লোদির পুত্র সিকান্দার লোদি ত্রিহুত ও বিহার জয় করে সুলতানি শাসনের সীমানা বৃদ্ধি করেন। সর্বশেষ লোদি শাসক ছিলেন ইবরাহিম লোদি। তার সময়ে মোঘল সম্রাট বাবর ভারতবর্ষে আক্রমণ করেন। ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে তিনি ইবরাহিম লোদিকে পরাজিত করেন। ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত হয় মোঘল শাসন। তৈমুরীয় মোঘল সাম্রাজ্য।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের সূচনা

📄 উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের সূচনা


ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশজুড়ে জমি কিনে দুর্গ নির্মাণ করতে লাগল। ইংরেজরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। শুরুতে তারা এখানকার বিভিন্ন কাঁচামাল ইউরোপে রপ্তানি করত। এরপর ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পর সেখান থেকে বিভিন্ন তৈজসপত্র এ অঞ্চলে আমদানি করতে লাগল। ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনার জন্য কোম্পানির ছিল নৌবহর। যা তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকত। কিছুদিন পর কোম্পানিটি ব্যক্তি মালিকানা থেকে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে নিয়ে নেওয়া হয়। ব্রিটিশ সরকার কোম্পানির কর্তৃত্ব পাওয়ার পর থেকে খুব জোরদারভাবে ভারতে শাসন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। একের পর এক রাজ্য হস্তগত হতে থাকে ইংরেজদের। ব্রিটিশরা দেখল মুসলিমরাই এখানে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই তারা হিন্দুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ল। বিশেষত হিন্দুদের অন্তরে পূর্ব থেকেই মুসলিম বিদ্বেষ কাজ করছিল। কারণ, তাদের ওপর ছিল মুসলিম শাসনের ছড়ি। ইংরেজরা এ সুযোগটিকে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছিল। পাশাপাশি খ্রিষ্টধর্মী ব্রিটিশদের অন্তরে থাকা ক্রুসেডীয় মুসলিম বিদ্বেষও তাদেরকে ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে হীন উপায় গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করছিল। ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দু, শিখ, মারাঠাদের শক্তিশালী করে তুলল ইংরেজশক্তি। পরিশেষে তাদের হাতে উঠে এলো হিন্দুস্তান শাসনের ছড়ি।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশজুড়ে জমি কিনে দুর্গ নির্মাণ করতে লাগল। ইংরেজরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। শুরুতে তারা এখানকার বিভিন্ন কাঁচামাল ইউরোপে রপ্তানি করত। এরপর ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পর সেখান থেকে বিভিন্ন তৈজসপত্র এ অঞ্চলে আমদানি করতে লাগল। ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনার জন্য কোম্পানির ছিল নৌবহর। যা তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকত। কিছুদিন পর কোম্পানিটি ব্যক্তি মালিকানা থেকে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে নিয়ে নেওয়া হয়। ব্রিটিশ সরকার কোম্পানির কর্তৃত্ব পাওয়ার পর থেকে খুব জোরদারভাবে ভারতে শাসন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। একের পর এক রাজ্য হস্তগত হতে থাকে ইংরেজদের। ব্রিটিশরা দেখল মুসলিমরাই এখানে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই তারা হিন্দুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ল। বিশেষত হিন্দুদের অন্তরে পূর্ব থেকেই মুসলিম বিদ্বেষ কাজ করছিল। কারণ, তাদের ওপর ছিল মুসলিম শাসনের ছড়ি। ইংরেজরা এ সুযোগটিকে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছিল। পাশাপাশি খ্রিষ্টধর্মী ব্রিটিশদের অন্তরে থাকা ক্রুসেডীয় মুসলিম বিদ্বেষও তাদেরকে ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে হীন উপায় গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করছিল। ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দু, শিখ, মারাঠাদের শক্তিশালী করে তুলল ইংরেজশক্তি। পরিশেষে তাদের হাতে উঠে এলো হিন্দুস্তান শাসনের ছড়ি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00