📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মুহাম্মাদ জহির শাহ

📄 মুহাম্মাদ জহির শাহ


মাত্র ১৯ বছর বয়সে ক্ষমতা লাভ করেন। গোলযোগপূর্ণ সময়ে তার পক্ষে আফগান শাসন করা সম্ভব হতো না, যদি না মরহুম পিতার সহযোগীরা তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত। পিতার বন্ধুদের সহযোগিতায় ১৫ বছর নির্বিঘ্নে কেটে যায়। কিন্তু এরপর ঘটে বিপত্তি। জহির শাহ ততদিনে পোক্ত হন এবং ক্ষমতার মোহে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েন। তিনি তার উপদেষ্টা ও সহযোগীদের বিতাড়িত করেন। ধীরে ধীরে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হতে থাকেন। ১৩৭৯ হিজরিতে (১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে) এক রাজকীয় ফরমান জারি করেন, যেখানে নারীদের খোলামেলা চলাফেরার অনুমতি প্রদান করা হয়। পশ্চিমা চালচলনের অন্ধ ভক্ত অনেক পরিবার তার ডাকে সাড়া দেয়। সেসব ঘরের নারীরা হিজাবমুক্ত হয়ে চলাফেরা শুরু করে।

খ্রিষ্টান রাষ্ট্রসমূহের জন্য আফগানিস্তানের দুয়ার খুলে যায়। রাশিয়াকে আফগানে তৎপরতা বৃদ্ধি করার সুযোগ দেওয়া হয়। রুশরা আফগানে নিজেদের সহযোগী ও বন্ধুর খোঁজে নামে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ দাউদের মধ্যেই বন্ধুত্ব করার উপযুক্ত গুণাবলি খুঁজে পায়। সে সময় দাউদ জহির শাহের বোনকে বিয়ে করে। জহির শাহ অনুভব করে যে দাউদ তার ক্ষমতার জন্য হুমকি হতে যাচ্ছে। তাই তিনি দাউদকে অব্যাহতি দিয়ে দেন। তখন দাউদ গোপনে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। এদিকে কম্যুনিস্টরা দেশজুড়ে তাদের শৌর্য প্রদর্শন শুরু করে। মূলত বিশ্ব তখন দুটি ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। দুই পরাশক্তির খেলা চলছিল তখন। পশ্চিমা ব্লকের নেতৃত্বে মার্কিনিরা। আর প্রাচ্য ব্লকের নেতৃত্বে রুশরা। আফগানিস্তান পড়ে যায় রুশ ব্লকে। তাই রুশরা আফগানে পূর্ণ ক্ষমতা খাটাতে উঠে পড়ে লাগে। ঠিক সে সময় আফগানের মুসলিম সমাজ রাশিয়া থেকে আসন্ন বিপর্যয় সম্পর্কে সতর্ক হয়ে ওঠে। দেশে রুশ গোয়েন্দা তৎপরতা আফগানিদের ষষ্ঠেন্দ্রিয়তে অশুভ সংকেত পাঠাতে শুরু করে।

মুসলিম ও কম্যুনিস্টদের মাঝে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ বেধে যায়। কম্যুনিস্টরা রাশিয়া ও চীনের প্রকাশ্য সমর্থন এবং লড়াইয়ে অধিক সক্ষমতা নিয়েও অধিকাংশবার মুসলিমদের হাতে পরাজিত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00