📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আমানুল্লাহ খান

📄 আমানুল্লাহ খান


হাবিবুল্লাহ খানের পুত্র আমানুল্লাহ খান। পিতার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আরোহণ করেন তিনি। ক্ষমতায় বসে বাদশা উপাধি ধারণ করেন। তার সময়ে অকুতোভয় সেনাপতি মুহাম্মাদ নাদির খানের (১৪) নেতৃত্বে আফগানিরা ইংরেজদের চরমভাবে পরাজিত করে। সমগ্র আফগান থেকে ইংরেজদের তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা। পরাজিত হয়ে ইংরেজরা আফগানদের কর্তৃত্ব ও স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়। কিন্তু শত্রুমুক্ত হয়ে আমানুল্লাহ ভোগবিলাসিতার প্রতি ঝুঁকে পড়েন। ইউরোপীয় সংস্কৃতির প্রতি তার মুগ্ধতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। পুরোদমে ইউরোপীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করতে থাকেন। ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক এমন জিনিসও বাদ যায় না তার থেকে। ইউরোপ ভ্রমণে গিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কাটাতে শুরু করেন। অন্যদিকে বিপদমুক্ত থাকতে মুহাম্মাদ নাদির খানকে প্যারিসে রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়ে দেশ থেকে দূরে সরিয়ে দেন।

পাশ্চাত্যের খোলামেলা জীবন তাকে আকৃষ্ট করে। নিজের পরিবারে তিনি বেপর্দাময় জীবনের প্রয়োগ ঘটান। কিন্তু তার পরিবারের মহিলারা পর্দা ছেড়ে খোলামেলা চলাচল শুরু করলে আফগানি জনগণ তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এতে আমানুল্লাহ আরও বেপরোয়া হয়ে যান। তিনি আফগানি পোশাক বর্জন করে ইউরোপীয় পোশাক পরিধানের আদেশ জারি করেন। তার এই পদক্ষেপে তেতে ওঠে আফগানি জনগণ। সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানী এক লোক দৃশ্যপটে হাজির হয়। বাজি সাকা নামের এই ব্যক্তি কিছু স্বার্থান্বেষী লোক ও কিছু ডাকাতকে সমবেত করে একটি বাহিনী দাঁড়ায়। এই বাহিনীর সাহায্যে সে কাবুল জয় করে নেয়। আমানুল্লাহকে ক্ষমতা ত্যাগ করে তার ভাই ইনায়াতুল্লাহর হাতে তুলে দিতে বাধ্য করে। আমানুল্লাহ তখন দেশ ছেড়ে ব্রিটেন চলে যান, ভোগবিলাসে বাকি জীবন কাটিয়ে দেওয়ার আশায়।


টিকা:
১৪. তিনি আফশারি শাসনের প্রধান পুরুষ নাদির খান নন। তার জীবনকাল ১৬৯৮-১৭৪৭ খ্রিষ্টাব্দ। পক্ষান্তরে বর্তমানে আলোচিত নাদির খানের জীবনকাল ১৮৮৩-১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দ। -সম্পাদক

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ইনায়া তুল্লাহ

📄 ইনায়া তুল্লাহ


তার সময়ে দেশে বাজি সাকা ও তার ডাকাত বাহিনীর উপদ্রব খুব বেড়ে যায়। বাজি নিজেকে আফগানদের বাদশাহ দাবি করতে শুরু করে এবং নাম ধারণ করে হাবিবুল্লাহ গাজি। সারাদেশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ইনায়াতুল্লাহ এসব নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। এ সময় আফগান পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেন মুহাম্মাদ নাদির খান। ইংরেজদের সাথে তার বীরত্বগাথা সবার জানা ছিল। বিশেষত তিনি শাসক পরিবারেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সব মিলিয়ে জনগণ তাকে পেয়ে খুশি মনে গ্রহণ করে। ১৩৪৮ হিজরিতে (১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি আফগানের ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মুহাম্মাদ নাদির খান

📄 মুহাম্মাদ নাদির খান


ক্ষমতায় বসেই তিনি প্রথমে বাজি সাকাকে বন্দি করে ফাঁসিতে ঝুলান। দেশজুড়ে সংস্কার অভিযান চালান। অত্যাচার, অন্যায়, ঘুষ-দুর্নীতি দমন করেন। অসাধু কর্মে জড়িত কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেন। অবশেষে বরখাস্ত এক কর্মকর্তার সন্তানের হাতে তাকে জীবন দিতে হয়। তিনি ইনতেকাল করেন ১৩৫২ হিজরিতে (১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে)। এরপর ক্ষমতা লাভ করেন তার পুত্র মুহাম্মাদ জহির শাহ।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মুহাম্মাদ জহির শাহ

📄 মুহাম্মাদ জহির শাহ


মাত্র ১৯ বছর বয়সে ক্ষমতা লাভ করেন। গোলযোগপূর্ণ সময়ে তার পক্ষে আফগান শাসন করা সম্ভব হতো না, যদি না মরহুম পিতার সহযোগীরা তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত। পিতার বন্ধুদের সহযোগিতায় ১৫ বছর নির্বিঘ্নে কেটে যায়। কিন্তু এরপর ঘটে বিপত্তি। জহির শাহ ততদিনে পোক্ত হন এবং ক্ষমতার মোহে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েন। তিনি তার উপদেষ্টা ও সহযোগীদের বিতাড়িত করেন। ধীরে ধীরে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হতে থাকেন। ১৩৭৯ হিজরিতে (১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে) এক রাজকীয় ফরমান জারি করেন, যেখানে নারীদের খোলামেলা চলাফেরার অনুমতি প্রদান করা হয়। পশ্চিমা চালচলনের অন্ধ ভক্ত অনেক পরিবার তার ডাকে সাড়া দেয়। সেসব ঘরের নারীরা হিজাবমুক্ত হয়ে চলাফেরা শুরু করে।

খ্রিষ্টান রাষ্ট্রসমূহের জন্য আফগানিস্তানের দুয়ার খুলে যায়। রাশিয়াকে আফগানে তৎপরতা বৃদ্ধি করার সুযোগ দেওয়া হয়। রুশরা আফগানে নিজেদের সহযোগী ও বন্ধুর খোঁজে নামে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ দাউদের মধ্যেই বন্ধুত্ব করার উপযুক্ত গুণাবলি খুঁজে পায়। সে সময় দাউদ জহির শাহের বোনকে বিয়ে করে। জহির শাহ অনুভব করে যে দাউদ তার ক্ষমতার জন্য হুমকি হতে যাচ্ছে। তাই তিনি দাউদকে অব্যাহতি দিয়ে দেন। তখন দাউদ গোপনে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। এদিকে কম্যুনিস্টরা দেশজুড়ে তাদের শৌর্য প্রদর্শন শুরু করে। মূলত বিশ্ব তখন দুটি ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। দুই পরাশক্তির খেলা চলছিল তখন। পশ্চিমা ব্লকের নেতৃত্বে মার্কিনিরা। আর প্রাচ্য ব্লকের নেতৃত্বে রুশরা। আফগানিস্তান পড়ে যায় রুশ ব্লকে। তাই রুশরা আফগানে পূর্ণ ক্ষমতা খাটাতে উঠে পড়ে লাগে। ঠিক সে সময় আফগানের মুসলিম সমাজ রাশিয়া থেকে আসন্ন বিপর্যয় সম্পর্কে সতর্ক হয়ে ওঠে। দেশে রুশ গোয়েন্দা তৎপরতা আফগানিদের ষষ্ঠেন্দ্রিয়তে অশুভ সংকেত পাঠাতে শুরু করে।

মুসলিম ও কম্যুনিস্টদের মাঝে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ বেধে যায়। কম্যুনিস্টরা রাশিয়া ও চীনের প্রকাশ্য সমর্থন এবং লড়াইয়ে অধিক সক্ষমতা নিয়েও অধিকাংশবার মুসলিমদের হাতে পরাজিত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00