📄 আবদুর রহমান
ইংরেজদের দেশত্যাগের পর তিনি ক্ষমতায় বসেন। আবদুর রহমান হলেন দোস্ত মুহাম্মাদের এক পুত্র আফজালের সন্তান। তার শাসনকালে তথা ১৩০২ হিজরিতে (১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে) রাশিয়া হেরাত দখল করার চেষ্টা করে। তখন ইংরেজরা দ্রুত তাদের গতিরোধ করে। ইংরেজ-রুশ সন্ধি হয়, যেটা পিটার্সবার্গ চুক্তি নামে ইতিহাসে প্রসিদ্ধ। চুক্তি অনুযায়ী ঠিক হয়, রাশিয়া খোরাসানের সীমানায় দখলি অঞ্চল তুর্কমেনিস্তান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে এবং তা অতিক্রম করে আফগানের দিকে অগ্রসর হবে না। কিন্তু তারা কিছুদিন পরই চুক্তি ভঙ্গ করে ১৩১৩ হিজরিতে (১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে) বাদাখশানে অভিযান চালায়। আবার ইংরেজদের সাথে সন্ধি হয়। তখন বাদাখশানকে আফগানের অংশ হিসেবে মেনে নেয় রাশিয়া। সে সময় আফগান ও রাশিয়ার সীমান্ত চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।
শের আলির চাচাতো ভাই আইয়ুব, যিনি ইরানে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি সৈন্যসামন্ত জোগাড় করে আফগান আক্রমণের আয়োজন করেন। প্রাথমিক সফলতা হিসেবে তিনি কান্দাহারে প্রবেশ করেন। কিন্তু আবদুর রহমান তাকে পরাজিত করে পুনরায় ইরান থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হন। একইভাবে আবদুর রহমানের চাচাতো ভাই ইসহাক খান, যিনি আফগানের উত্তরাঞ্চলীয় অধিপতি ছিলেন, তিনিও কাবুল দখল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আবদুর রহমান তাকেও পরাস্ত করেন। ইসহাক রুশ সহায়তায় পালিয়ে সমরকন্দ গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। আবদুর রহমান ১৩১৯ হিজরিতে (১৯০১ খ্রিষ্টাব্দে) ইনতেকাল করেন।
📄 হাবিবুল্লাহ খান
আবদুর রহমানের মৃত্যুর পর তার পুত্র হাবিবুল্লাহ খান ক্ষমতা লাভ করেন। তার সময়ে ইংরেজদের তৎপরতা অনেক বৃদ্ধি পায়। তবে রাশিয়া ও ইংরেজ যৌথভাবে আফগানের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। কিছুদিন পর বেজে ওঠে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ডঙ্কা। উসমানিরা যুদ্ধে আফগানিদের পাশে পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু হাবিবুল্লাহ খান উসমানিদের পাশে না দাঁড়িয়ে ইংরেজদের সহায়তা করেন। আফগান জনগণ এর প্রতিশোধ নিতে ১৩৩৮ হিজরিতে (১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে) হাবিবুল্লাহ খানকে হত্যা করে।
📄 আমানুল্লাহ খান
হাবিবুল্লাহ খানের পুত্র আমানুল্লাহ খান। পিতার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আরোহণ করেন তিনি। ক্ষমতায় বসে বাদশা উপাধি ধারণ করেন। তার সময়ে অকুতোভয় সেনাপতি মুহাম্মাদ নাদির খানের (১৪) নেতৃত্বে আফগানিরা ইংরেজদের চরমভাবে পরাজিত করে। সমগ্র আফগান থেকে ইংরেজদের তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা। পরাজিত হয়ে ইংরেজরা আফগানদের কর্তৃত্ব ও স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়। কিন্তু শত্রুমুক্ত হয়ে আমানুল্লাহ ভোগবিলাসিতার প্রতি ঝুঁকে পড়েন। ইউরোপীয় সংস্কৃতির প্রতি তার মুগ্ধতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। পুরোদমে ইউরোপীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করতে থাকেন। ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক এমন জিনিসও বাদ যায় না তার থেকে। ইউরোপ ভ্রমণে গিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কাটাতে শুরু করেন। অন্যদিকে বিপদমুক্ত থাকতে মুহাম্মাদ নাদির খানকে প্যারিসে রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়ে দেশ থেকে দূরে সরিয়ে দেন।
পাশ্চাত্যের খোলামেলা জীবন তাকে আকৃষ্ট করে। নিজের পরিবারে তিনি বেপর্দাময় জীবনের প্রয়োগ ঘটান। কিন্তু তার পরিবারের মহিলারা পর্দা ছেড়ে খোলামেলা চলাচল শুরু করলে আফগানি জনগণ তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এতে আমানুল্লাহ আরও বেপরোয়া হয়ে যান। তিনি আফগানি পোশাক বর্জন করে ইউরোপীয় পোশাক পরিধানের আদেশ জারি করেন। তার এই পদক্ষেপে তেতে ওঠে আফগানি জনগণ। সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানী এক লোক দৃশ্যপটে হাজির হয়। বাজি সাকা নামের এই ব্যক্তি কিছু স্বার্থান্বেষী লোক ও কিছু ডাকাতকে সমবেত করে একটি বাহিনী দাঁড়ায়। এই বাহিনীর সাহায্যে সে কাবুল জয় করে নেয়। আমানুল্লাহকে ক্ষমতা ত্যাগ করে তার ভাই ইনায়াতুল্লাহর হাতে তুলে দিতে বাধ্য করে। আমানুল্লাহ তখন দেশ ছেড়ে ব্রিটেন চলে যান, ভোগবিলাসে বাকি জীবন কাটিয়ে দেওয়ার আশায়।
টিকা:
১৪. তিনি আফশারি শাসনের প্রধান পুরুষ নাদির খান নন। তার জীবনকাল ১৬৯৮-১৭৪৭ খ্রিষ্টাব্দ। পক্ষান্তরে বর্তমানে আলোচিত নাদির খানের জীবনকাল ১৮৮৩-১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দ। -সম্পাদক
📄 ইনায়া তুল্লাহ
তার সময়ে দেশে বাজি সাকা ও তার ডাকাত বাহিনীর উপদ্রব খুব বেড়ে যায়। বাজি নিজেকে আফগানদের বাদশাহ দাবি করতে শুরু করে এবং নাম ধারণ করে হাবিবুল্লাহ গাজি। সারাদেশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ইনায়াতুল্লাহ এসব নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। এ সময় আফগান পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেন মুহাম্মাদ নাদির খান। ইংরেজদের সাথে তার বীরত্বগাথা সবার জানা ছিল। বিশেষত তিনি শাসক পরিবারেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সব মিলিয়ে জনগণ তাকে পেয়ে খুশি মনে গ্রহণ করে। ১৩৪৮ হিজরিতে (১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি আফগানের ক্ষমতা গ্রহণ করেন।