📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আফগানিস্তানে সাফাভি শাসন

📄 আফগানিস্তানে সাফাভি শাসন


আফগানিস্তানের অধিকাংশ অঞ্চল সাফাভিরা দখল করতে সক্ষম হয়। তবে স্থির হয়ে আফগানদের শাসন করার সুযোগ তাদের তেমন একটা হয়নি। বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়। এর মধ্যে কান্দাহার ও হেরাতের বিদ্রোহ উল্লেখযোগ্য। ১১২০ হিজরিতে (১৭০৮ খ্রিষ্টাব্দে) কান্দাহারে মির ওয়াইস নামক বিদ্রোহী নেতা সাফাভি গভর্নরকে অপসারণ করে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তার মৃত্যুর পর ক্ষমতার উত্তরাধিকার লাভ করেন তার পুত্র মাহমুদ। কিন্তু মাহমুদের বয়স কম হওয়ায় তার চাচা তাকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তাকে সমর্থন করে সাফাভিরা। কিন্তু মাহমুদ কিছুটা বড় হয়েই চাচাকে পরাজিত করে কান্দাহারের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেন।

এদিকে হেরাতের ঘটনা আরও বড়। কান্দাহারের বিদ্রোহ হেরাতের জনগণের মনে সাহস সঞ্চার করে। তারা সাফাভিদের ওপর চড়াও হওয়ার আয়োজন করে। দুররানি (আবদালি) গোত্রের আসাদুল্লাহ সাফাভিদের হাত থেকে হেরাত দখল করে নেন। এরপর ক্ষমতায় আসেন মির মাহমুদ দুররানি। তিনি সাফাভি সাম্রাজ্যে প্রবেশ করেন এবং তাদের পরাজিত করতে সক্ষম হন। সাফাভিদের অধিকাংশ অঞ্চলই দুররানিদের করায়ত্ত হয়।

১১৩৫ হিজরিতে (১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে) সাফাভি রাজধানী ইস্পাহানে প্রবেশ করে আফগানিরা। উত্তরের কিছু অঞ্চল ছাড়া সমগ্র রাজ্য হাতছাড়া হয় সাফাভিদের। সাফাভিরা আফগানদের বিরুদ্ধে রুশ সাহায্য কামনা করে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ছাড়ে না রাশিয়া। সাহায্যের নাম করে সাফাভিদের উত্তর অঞ্চল দখল করে নিতে শুরু করে তারা। এবার দৃশ্যপটে হাজির হয় উসমানিরা। মুসলিম ভূখণ্ডে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা রোধ করে তারা। বাধ্য হয়ে উসমানিদের সাথে সন্ধি করে রাশিয়া। উত্তরাঞ্চল নিয়ে হয় ত্রিপক্ষীয় বোঝাপড়া।

এ সময় আফগান নেতা মির মাহমুদের মস্তিষ্কে দুর্বলতা দেখা দেয়। তাকে অব্যাহতি দিয়ে ক্ষমতায় বসানো হয় তার চাচাতো ভাই আশরাফ বিন আবদুল আজিজকে। আশরাফ উসমানিদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার মনস্থ করেন। কারণ, সাফাভি উত্তরাঞ্চল নিয়ে উসমানি সালিস তার মনঃপূত ছিল না। কিন্তু এ সময় ময়দানে অবতীর্ণ হন সাফাভি সমর্থক ডাকাত সর্দার থেকে পারস্যের অধিপতিতে পরিণত হওয়া নাদির খান। তিনি আফগানদের সাফাভি সীমানা থেকে তাড়িয়ে দেন। পর্যায়ক্রমে আফগানিদের সমগ্র রাজ্য হস্তগত হয় তার।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আফগানিস্তান রাষ্ট্রের উৎপত্তি

📄 আফগানিস্তান রাষ্ট্রের উৎপত্তি


১১৬০ হিজরিতে নাদির খানের মৃত্যুর পর আফগানিরা কান্দাহার দখল করে নেয়। দুররানি গোত্রভুক্ত আহমাদ শাহ আবদালি তখন তেজস্বী আফগান নেতা। তিনি আফগানিদের একত্র করে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার রাজত্বই আফগান রাজ্য নামে পরিচিতি লাভ করে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দুররানি শাসন

📄 দুররানি শাসন


দুররানিরা দুই শতাব্দীর বেশি সময় আফগান শাসন করে। দুররানি শাসক তালিকার মধ্যে নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গ ছিলেন :

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ইসলামি প্রতিরোধ যুদ্ধ

📄 ইসলামি প্রতিরোধ যুদ্ধ


সোভিয়েত রাশিয়া ও আফগান কম্যুনিস্টদের বিরুদ্ধে আফগান মুজাহিদদের প্রতিরোধ যুদ্ধ কঠিন আকার ধারণ করে। আফগান জনগণ বহু যুগ ধরেই ইসলামি চেতনা ও তেজস্বী ঈমানি জোরের অধিকারী। হিসেবে পরিচিত। ইসলামের প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার জন্য মরণপণ লড়াই শুরু করেন আফগান মুজাহিদ বাহিনী। রুশদের উন্নত অস্ত্রশস্ত্রের মোকাবিলার অতি সাধারণ গোলা বারুদ দিয়েই তাদের পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করাতে থাকে মুজাহিদরা। কিন্তু মুজাহিদদের দুর্বলতার জায়গা ছিল নিজেদের মধ্যকার বিভেদ। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করছিল না। ফলে নানা কারণে নিজেদের মধ্যে রক্তপাতের ঘটনা এড়ানো যাচ্ছিল না।

সবচেয়ে বড় যে দুটি দলের মাঝে সংঘর্ষ হতো, সেগুলো হলো বুরহানুদ্দিন রাব্বানির নেতৃত্বাধীন জমিয়তে ইসলাম ও হেকমতিয়ারের নেতৃত্বাধীন হিজবে ইসলামি। কিন্তু এরপরও আফগান মুজাহিদরা রুশ ও কম্যুনিস্টদের যুদ্ধের ময়দানে এমন শিক্ষা দিয়েছে যে, জীবনেও তারা এই স্মৃতি ভুলতে পারবে না। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে রাশিয়া আবিষ্কার করল, যেন সে ভয়ংকর এক জলায় আটকা পড়ে গেছে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। প্রতিদিন রাশিয়ার হৃদয় ভেঙে খান খান করে দিচ্ছে মুজাহিদ বাহিনী। নষ্ট হচ্ছে বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ। রাশিয়ার স্বপ্ন ছিল কয়েকদিনেই আফগানের আনাড়ি মুজাহিদদের ধ্বংস করে ফেলা যাবে। কিন্তু এই অল্পকিছু অকুতোভয় মুজাহিদ তৎকালীন পরাশক্তি রাশিয়ার জানমাল উভয়টা ধ্বংস করে কোমর ভেঙে দেয়। বিশেষত মুজাহিদরা ছিলেন আফগানিস্তানের দীর্ঘকালের অধিবাসী। যুদ্ধের ক্ষেত্রে এর আঞ্চলিক নাড়িনক্ষত্র ছিল তাদের নখদর্পণে।

প্রচণ্ড মার খেয়ে অবশিষ্ট সম্পদ ও সৈন্য রক্ষা করতে কোনোমতে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজতে শুরু করে রাশিয়া। ১৪০৮ হিজরিতে (১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে) আফগান ত্যাগ করে রুশবাহিনী। কিন্তু এই দীর্ঘ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে আফগান জনগণের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বর্ণনার ভাষা পৃথিবীতে নেই। লাশের পর লাশ, উদ্বাস্তু ও শরণার্থী ছাড়া আর কিছু যেন অবশিষ্ট ছিল না। পাকিস্তান ও অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রে আফগান শরণার্থীর সংখ্যা ছিল অগণিত। রাশিয়া তার কম্যুনিস্ট সহযোগীদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে আফগানিস্তান ত্যাগ করে। শেষ কম্যুনিস্ট এই শাসকের নাম নজিবুল্লাহ মুহাম্মাদ। বিধায়, রাশিয়া দেশ ত্যাগ করলেও মুজাহিদদের প্রত্যাশা তখনও পূরণ হয়নি। কম্যুনিস্ট শাসক বিতাড়িত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা নতুন উদ্যমে লড়াই শুরু করে। রাশিয়া তখনও কম্যুনিস্ট আফগান সরকারকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছিল। মুজহিদরাও তাদের জিহাদ অব্যাহত রাখে। তারা দুইবার অস্থায়ী সরকার গড়ে তুলেছিল, কিন্তু নিজেদের মধ্যকার বিভেদে সেসব ভণ্ডুল হয়ে যায়।

কম্যুনিস্ট সরকার বুঝতে পারে, এই বিপ্লবী আফগান যোদ্ধাদের সামাল দেওয়া তার কাজ নয়। তাই ১৪১২ হিজরিতে (১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে) নজিবুল্লাহ মুহাম্মাদ পদত্যাগ করেন। এবার মুজাহিদদের ক্ষমতায় আরোহণ করা ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কয়দিন আগেও যারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইসলামের শত্রুদের প্রতিহত করছিল, তারা এবার নিজেদের রক্ত ঝরাতে লাগল। আফগানিস্তান বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের হাতে বিভক্ত হয়ে গেল। এদিকে প্রকৃত শত্রুরা সুযোগ পেয়ে এসব দলের জন্য অস্ত্র সরবরাহ বাড়িয়ে দিলো, যেন নিজেরা মারামারি করে ধ্বংস হওয়া আরও ত্বরান্বিত হয়।

সোভিয়েত রাশিয়া ও আফগান কম্যুনিস্টদের বিরুদ্ধে আফগান মুজাহিদদের প্রতিরোধ যুদ্ধ কঠিন আকার ধারণ করে। আফগান জনগণ বহু যুগ ধরেই ইসলামি চেতনা ও তেজস্বী ঈমানি জোরের অধিকারী। হিসেবে পরিচিত। ইসলামের প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার জন্য মরণপণ লড়াই শুরু করেন আফগান মুজাহিদ বাহিনী। রুশদের উন্নত অস্ত্রশস্ত্রের মোকাবিলার অতি সাধারণ গোলা বারুদ দিয়েই তাদের পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করাতে থাকে মুজাহিদরা। কিন্তু মুজাহিদদের দুর্বলতার জায়গা ছিল নিজেদের মধ্যকার বিভেদ। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করছিল না। ফলে নানা কারণে নিজেদের মধ্যে রক্তপাতের ঘটনা এড়ানো যাচ্ছিল না।

সবচেয়ে বড় যে দুটি দলের মাঝে সংঘর্ষ হতো, সেগুলো হলো বুরহানুদ্দিন রাব্বানির নেতৃত্বাধীন জমিয়তে ইসলাম ও হেকমতিয়ারের নেতৃত্বাধীন হিজবে ইসলামি। কিন্তু এরপরও আফগান মুজাহিদরা রুশ ও কম্যুনিস্টদের যুদ্ধের ময়দানে এমন শিক্ষা দিয়েছে যে, জীবনেও তারা এই স্মৃতি ভুলতে পারবে না। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে রাশিয়া আবিষ্কার করল, যেন সে ভয়ংকর এক জলায় আটকা পড়ে গেছে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। প্রতিদিন রাশিয়ার হৃদয় ভেঙে খান খান করে দিচ্ছে মুজাহিদ বাহিনী। নষ্ট হচ্ছে বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ। রাশিয়ার স্বপ্ন ছিল কয়েকদিনেই আফগানের আনাড়ি মুজাহিদদের ধ্বংস করে ফেলা যাবে। কিন্তু এই অল্পকিছু অকুতোভয় মুজাহিদ তৎকালীন পরাশক্তি রাশিয়ার জানমাল উভয়টা ধ্বংস করে কোমর ভেঙে দেয়। বিশেষত মুজাহিদরা ছিলেন আফগানিস্তানের দীর্ঘকালের অধিবাসী। যুদ্ধের ক্ষেত্রে এর আঞ্চলিক নাড়িনক্ষত্র ছিল তাদের নখদর্পণে।

প্রচণ্ড মার খেয়ে অবশিষ্ট সম্পদ ও সৈন্য রক্ষা করতে কোনোমতে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজতে শুরু করে রাশিয়া। ১৪০৮ হিজরিতে (১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে) আফগান ত্যাগ করে রুশবাহিনী। কিন্তু এই দীর্ঘ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে আফগান জনগণের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বর্ণনার ভাষা পৃথিবীতে নেই। লাশের পর লাশ, উদ্বাস্তু ও শরণার্থী ছাড়া আর কিছু যেন অবশিষ্ট ছিল না। পাকিস্তান ও অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রে আফগান শরণার্থীর সংখ্যা ছিল অগণিত। রাশিয়া তার কম্যুনিস্ট সহযোগীদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে আফগানিস্তান ত্যাগ করে। শেষ কম্যুনিস্ট এই শাসকের নাম নজিবুল্লাহ মুহাম্মাদ। বিধায়, রাশিয়া দেশ ত্যাগ করলেও মুজাহিদদের প্রত্যাশা তখনও পূরণ হয়নি। কম্যুনিস্ট শাসক বিতাড়িত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা নতুন উদ্যমে লড়াই শুরু করে। রাশিয়া তখনও কম্যুনিস্ট আফগান সরকারকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছিল। মুজহিদরাও তাদের জিহাদ অব্যাহত রাখে। তারা দুইবার অস্থায়ী সরকার গড়ে তুলেছিল, কিন্তু নিজেদের মধ্যকার বিভেদে সেসব ভণ্ডুল হয়ে যায়।

কম্যুনিস্ট সরকার বুঝতে পারে, এই বিপ্লবী আফগান যোদ্ধাদের সামাল দেওয়া তার কাজ নয়। তাই ১৪১২ হিজরিতে (১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে) নজিবুল্লাহ মুহাম্মাদ পদত্যাগ করেন। এবার মুজাহিদদের ক্ষমতায় আরোহণ করা ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কয়দিন আগেও যারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইসলামের শত্রুদের প্রতিহত করছিল, তারা এবার নিজেদের রক্ত ঝরাতে লাগল। আফগানিস্তান বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের হাতে বিভক্ত হয়ে গেল। এদিকে প্রকৃত শত্রুরা সুযোগ পেয়ে এসব দলের জন্য অস্ত্র সরবরাহ বাড়িয়ে দিলো, যেন নিজেরা মারামারি করে ধ্বংস হওয়া আরও ত্বরান্বিত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00