📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তেমুরের রাজ্য সম্প্রসারণ

📄 তেমুরের রাজ্য সম্প্রসারণ


কিছুদিন পর তৈমুরকে সমরকন্দের আমির বানানো হয়। আর মাওয়ারাউন নাহারের শাসক হিসেবে আসেন তুঘলক খানের পুত্র ইলিয়াস। শাসক হিসেবে তৈমুর ছিলেন অত্যাচারী। এ কারণে ইলিয়াসের সাথে তার বেশ রেশারেশি শুরু হয়। ইলিয়াস পিতাকে পত্র লিখে সব খুলে বলেন। সব শুনে তুঘলক খান নির্দেশ দেন তৈমুরকে হত্যা করতে। এই সংবাদ জানতে পেরে তৈমুর সমরকন্দ থেকে পালিয়ে যান। জোট বাঁধেন আরেক পলাতক আমিরের সাথে। যে ছিল মূলত তৈমুরের ভগ্নিপতি। দুজন মিলে পর্যাপ্ত সৈন্য সমাবেশ করতে সক্ষম হয়। তারপর তারা মোঙ্গলদের সাথে লড়াই করে এবং জয়ী হয়। এরপর মৃত্যুবরণ করেন সাম্রাজ্যের সম্রাট তুঘলক খান। পুত্র ইলিয়াস তখন পিতার সিংহাসনে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে কাশগরে পাড়ি জমান। তৈমুরের সামনে তখন সমরকন্দসহ গোটা মাওয়ারাউন নাহার দখল করার সুবর্ণ সুযোগ। সুযোগ লুফে নেন তিনি। সূচনা হয় তৈমুরীয় সাম্রাজ্যের, যার রাজধানী হয় সমরকন্দ।

ইলিয়াস বিন তুঘলক সৈন্যসামন্ত নিয়ে তৈমুরের মোকাবিলা করতে বের হন। তার শক্তিশালী বাহিনীর সামনে তৈমুর লং পরাজয় বরণ করেন। কিন্তু জয়ী হয়েও সমরকন্দ দখল করতে ব্যর্থ হন ইলিয়াস। সংকটের মুহূর্তে তৈমুর খানের ভগ্নিপতি নিজেকে সমরকন্দের অধিপতি ঘোষণা করেন। মোঙ্গলদের প্রতিরোধ করতে ঐক্য টিকিয়ে রাখতে তৎপর তৈমুর লং তৎক্ষণাৎ এর প্রতিবাদ করেননি। তবে পরিস্থিতি অনুকূল হতেই ভগ্নিপতির সাথে যুদ্ধ করে শাসনক্ষমতা পুনর্দখল করেন তিনি। সমগ্র মাওয়ারাউন নাহার দখল করে নেন তৈমুর লং। এভাবে তিনি তাতার গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। এমতাবস্থায় চাগতাই পরিবারের পক্ষ হতে নিযুক্ত শাসক কমরুদ্দিন নির্বাসন বরণ করে নিতে বাধ্য হন। ৭৭1 হিজরিতে তৈমুর লং মাওয়ারাউন নাহারের খান হিসেবে ক্ষমতায় বসান ওগেদাই বংশের দানিশমান্দজার পুত্র সিওর্গতামশারকে। তাকে ক্ষমতায় আরোহণ করানো হয় মূলত পুতুল শাসক হিসেবে। তৈমুর নিজে গ্রহণ করেন উজিরের পদ। শাসন ও ক্ষমতার প্রকৃত চাবিকাঠি তার হাতেই থাকে। তৈমুর হেরাত ও খোয়ারিজম রাজ্যদ্বয় নিজের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হন। তবে সে সময় পূর্ব তুর্কিস্তান চাগতাইদের অধীনে ছিল। ফলে অঞ্চলটি বিচ্ছিন্নই রয়ে যায়। চীনের দখলে যাওয়া পর্যন্ত তা চাগতাইদের শাসনাধীনই থাকে।

এদিকে ক্রিমিয়ার সম্রাট মামাই উত্তর মোঙ্গল সাম্রাজ্যের রাজধানী সারাইয়ে প্রবেশ করেন। সারাইয়ের সুলতান তোকতামিশ তখন তৈমুর লংয়ের সাহায্য প্রার্থনা করেন। তৈমুর সারাইয়ে পৌঁছে মামাইকে বিতাড়িত করেন। এ সময় তিনি রুশদের আক্রমণ করে ৭৮৩ হিজরিতে (১৩৮১ খ্রিষ্টাব্দে) দখল করে নেন রাজধানী মস্কো। ৭৮২-৭৮৬ হিজরির (১৩৮০-১৩৮৪ খ্রিষ্টাব্দের) মধ্যকার সময়ে ইলখানিয়া সাম্রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চল তৈমুরীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

সারাইয়ের সুলতান তোকতামিশের সাথে মতবিরোধ দেখা দিলে তৈমুর তার রাজ্য আক্রমণ করেন এবং উত্তর মোঙ্গল সাম্রাজ্য দখল করে নেন। সারাইয়ে নিজের পক্ষ থেকে একজনকে গভর্নর নিয়োগ দিয়ে রাজধানীতে ফিরে আসেন তৈমুর।

৮০০ হিজরিতে (১৩৯৭ খ্রিষ্টাব্দে) তৈমুর লং অভিযান চালান ভারতে। কাশ্মীর, দিল্লিসহ ভারতবর্ষের বেশকিছু অঞ্চল তৈমুরের পদানত হয়। দিল্লির তৎকালীন সুলতান মাহমুদকে পরাস্ত করেন তিনি। দিল্লিতে নিজের গভর্নর নিয়োগ দিয়ে ফিরে আসেন।

তারপর তৈমুর উসমানি সুলতান প্রথম বায়েজিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে আনাতোলিয়া আক্রমণের মনস্থ করেন। এর কারণ ছিল, তৈমুর আলেপ্পো, দামেশক ও বাগদাদ দখল করার পথে তার আনুগত্য মেনে নেওয়া দুই আমির আহমাদ বিন ওয়াইস ও কারা ইউসুফ বাধা প্রদান করেন। এরপর তাদেরকে আশ্রয় দেন বায়েজিদ। অন্যদিকে মামলুক সুলতান তৈমুরের ভয়ে তার আনুগত্য ঘোষণা করেন এবং তার নামে খুতবা পাঠ ও তাকে কর দিতে রাজি হয়ে যান। কিন্তু বায়েজিদ কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে তৈমুর খানের শত্রুদের আশ্রয় দেন। অতএব তৈমুর উসমানি সাম্রাজ্যে আক্রমণের পথে হাঁটেন। ৮০৫ হিজরিতে (১৪০২ খ্রিষ্টাব্দে) আঙ্কারায় উভয় বাহিনী মুখোমুখি হয়। সে যুদ্ধে উসমানিদের পরাজয় ঘটে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তেমুরের মৃত্যুতে সাম্রাজ্যের ভাঙন

📄 তেমুরের মৃত্যুতে সাম্রাজ্যের ভাঙন


তৈমুর খান ৮০৮ হিজরিতে (১৪০৫ খ্রিষ্টাব্দে) চীন অভিমুখে রওনা হন। কিন্তু এটাই ছিল তার শেষ যাত্রা। চীনে পৌঁছার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ইতিহাসবিখ্যাত শাসক তৈমুর লং।

তৈমুরের নামের সাথে সংযুক্ত 'লং' শব্দটির অর্থ পঙ্গু। তার পঙ্গুত্বের দিকে ইঙ্গিতস্বরূপ তার সাথে এই বিশেষণটি যুক্ত হয়। জানা যায়, তৈমুর ছিলেন শিয়া মতাবলম্বী। তার উত্তরপুরুষদের মধ্যেও এই ধারা দেখতে পাওয়া যায়। তৈমুরের ভূমিকার কারণে অনেক অঞ্চলে শিয়াবাদ বিস্তার লাভ করে; বিশেষত ইরানে। বস্তুত, শিয়ারা যেখানেই ক্ষমতায় বসে সেখানেই জোরপূর্বক শিয়াবাদের বিস্তার ঘটিয়ে যায়।

দুঃখের বিষয় হলো, তৈমুর খানের দিগ্বিজয়ী অভিযান ও সুবিশাল সাম্রাজ্যের কোনো উপকার বিশ্ব লাভ করেনি; বরং বিজিত অঞ্চলসমূহে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙনের পরিমাণ কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে। উত্তর মোঙ্গল সাম্রাজ্যে তৈমুরের অভিযানের পর সেখানকার ঐক্য ভেঙে খানখান হয়ে যায়। আগের চেয়ে আরও বেশি ও বড় বড় খণ্ড খণ্ড রাজ্যের জন্ম হয়। বিশেষত উসমানি সাম্রাজ্যে তৈমুরের পরিচালিত অভিযানের ক্ষয়ক্ষতি ছিল সীমাহীন। উসমানিদের রক্তে গড়া আনাতোলিয়ার ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য ভেঙে তার জায়গায় ফিরে আসে পূর্বের খণ্ড খণ্ড রাজ্যব্যবস্থা। নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও গৃহযুদ্ধ ছাড়া যে ব্যবস্থার আর কোনো ভূমিকা নেই। সেই সাথে ইউরোপে উসমানিদের একের পর এক বিজয়াভিযান চলছিল সুলতান বায়েজিদের নেতৃত্বে। বায়েজিদ হয়ে উঠেছিলেন ইউরোপের দুঃস্বপ্ন। কিন্তু তৈমুর খানের হস্তক্ষেপে ইউরোপ জয়ের প্রচেষ্টা তো বাধাগ্রস্ত হলোই, সাথে প্রায় বিলুপ্তির কাছে গিয়ে পৌঁছেছিল উসমানিদের অস্তিত্ব। (আল্লাহর ইচ্ছায় বায়েজিদপুত্র সুলতান প্রথম মুহাম্মাদের নেতৃত্বে উসমানিরা আবার সংঘবদ্ধ হতে সক্ষম হয়।)

তৈমুরের ধারালো তরবারি সবসময় মুসলিমদের রক্ত ঝরাতেই ব্যবহৃত হয়েছে। তৈমুর খান মুসলিম বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মুসলিম উম্মাহ যুগ যুগ ধরে ইসলামের অনুসারীদের হাতেই অধিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তৈমুরের শখ অনুযায়ী কোনো যুদ্ধ জয় করার পর তার সামনে যুদ্ধবন্দিদের সমবেত করা হতো। এরপর তাদের মাথার খুলির স্তুপ দিয়ে পিরামিড তৈরি করা হতো। সেসব দেখে বিকৃত আনন্দ অনুভব করতেন তৈমুর। কখনো বা গর্ত খুঁড়ে পুঁতে ফেলা হতো জ্যান্ত মানুষ। পরাজিত শাসক ও আমির-উমারাকে অপদস্থ করে তৃপ্তি লাভ হতো তার। এতসব কারণে তৈমুর নামসর্বস্ব মুসলিম হিসেবেই পরিচিত। ইতিহাস তো কেবল তার কুকীর্তির কথাই আমাদের স্মরণ করায়। তার কুকীর্তির ফলে বহু মানুষের চোখে তাতার ও মোঙ্গলরা ধিকৃত। ইসলাম গ্রহণের পরও তাদের ব্যাপারে মানুষের মনে ভয়ানক চিত্র অঙ্কিত হয়ে আছে। ইসলামের শত্রুরা তৈমুর খানের কীর্তিকলাপ দেখিয়ে ইসলামকে বিদূষিত করার চেষ্টা করে থাকে। অথচ তার এসব কর্মকাণ্ডের সাথে ইসলামের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই; বরং বিপরীতে আছে প্রচণ্ড বিরোধ।

তৈমুরের মৃত্যুর পর ঠিক সেই পরিস্থিতিতেই পড়ে তার সাম্রাজ্য, অন্যান্য সাম্রাজ্যে তার কারণে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তৈমুরের পরিবারে ক্ষমতার কোন্দল শুরু হয়। প্রভাবশালী বিভিন্ন আমির যার যার অঞ্চল নিয়ে স্বাধীন রাজ্যের ঘোষণা দেয়। তবু কোনোরকমে ৯০০ হিজরি (১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত তৈমুর বংশীয় কেউ কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকে। সর্বশেষ সুলতান মাহমুদ ৯০০ হিজরিতে মারা গেলে অবশিষ্ট সাম্রাজ্য নিয়ে তার সন্তানদের গৃহযুদ্ধের সুযোগে উজবেক, সাফাভি ও অন্যান্য গোষ্ঠী মাওয়ারাউন নাহার দখল করে নেয়। তবে হিন্দুস্তানে তৈমুর বংশীয় একটি শাখা আরও কয়েক শতাব্দী রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল, ইতিহাসে যারা মোঘল নামে পরিচিত। সামনে সে সংক্রান্ত আলোচনা আসছে।

এখন আমরা তৈমুর বংশের পতনের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত পশ্চিম তুর্কিস্তানের উত্থান-পতনের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করব।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 শাইবানি শাসন

📄 শাইবানি শাসন


একটি মোঙ্গল গোত্র। চেঙ্গিস খানের বড় পুত্র জোচি খানের এক সন্তান শুভানের বংশধর। উত্তর মোঙ্গল সাম্রাজ্যের অধিপতি বাতু খান তার ভাই শুভানকে উরাল পর্বতমালার পূর্বাঞ্চল ও সাইবেরিয়ার বিস্তৃত অঞ্চল শাসনের দায়িত্ব দেন। তবে শুভান স্বাধীন শাসক ছিলেন না; বরং উত্তর মোঙ্গল সাম্রাজ্যের রাজধানী সারাইয়ের অনুগত ছিলেন। দশম হিজরি শতকে মাওয়ারাউন নাহারে তৈমুর বংশের শেষ সুলতান মাহমুদের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের আগুন জ্বলছিল। যে আগুন তৈমুরীয় সাম্রাজ্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছিল। সে সময় শুবানের বংশধর মুহাম্মাদ শাইবানি নামক ব্যক্তি তৈমুরীয় সাম্রাজ্যের গৃহযুদ্ধকে সুযোগ বিবেচনা করে সাইবেরিয়া থেকে বেরিয়ে পড়েন। তিনি যে বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তার অনেক সদস্য উজবেক জাতির হওয়ায় এটি উজবেক বাহিনী হিসেবে পরিচিতি পায়। তিনি এসে তৈমুরীয়দের ক্ষমতাদ্বন্দ্বের ইতি ঘটিয়ে সমরকন্দ দখল করেন। মুহাম্মাদের সাথে সে সময় সাইবেরিয়া থেকে অনেক গোষ্ঠী তুর্কিস্তান আগমন করে। যারা তখনও রাশিয়ায় রয়ে যায়, তারা তিওমেনের (একটি রাশিয়ান অঞ্চল) বাদশাহ হিসেবে পরিচিতি পায়। মুহাম্মাদ শাইবানি ৯০৬ হিজরিতে (১৫০০ খ্রিষ্টাব্দে) মাওয়ারাউন নাহারে তার শাসনকার্য সূচনা করেন। সমরকন্দ জয় করে সেটাকে নতুন সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে নির্ধারণ করেন। সে সময় সমরকন্দের • পরাজিত শাসক হিন্দুস্তানি শাসক জহিরুদ্দিন বাবরের সহায়তা কামনা করেন। বাবরও ছিলেন তৈমুরের উত্তরসূরি। বাবর সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন এবং মুহাম্মাদ শাইবানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। বাবরকে সহায়তা করে সাফাভিরা। ততদিনে ইলখানিয়া সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে সাফাভিরা পারস্যে সিংহাসন স্থাপন করেছে। কিন্তু এরপরও শাইবানিকে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। বাবরের প্রতিরোধ সত্ত্বেও মুহাম্মাদ শাইবানি সমগ্র মাওয়ারাউন নাহারে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। ৯১৬ হিজরির (১৫১০ খ্রিষ্টাব্দের) এক যুদ্ধে মুহাম্মাদ শাইবানি নিহত হন। তারপর ১০০৭ হিজরি (১৫৯৮ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত প্রায় এক শতাব্দী ধরে শাইবানি বংশের বিভিন্ন নেতা এই অঞ্চল শাসন করে। শেষদিকে এসে শাইবানি শাসকরা দুর্বল হয়ে পড়ে। ৯৯১ হিজরিতে (১৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে) দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ক্ষমতায় আরোহণ করার পর তার পুত্র আবদুল মুমিন সাফাভিদের সহায়তায় পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। আবদুল্লাহ তার পুত্রের কাছে পরাজয় বরণ করেন। রাজ্যের সিংহভাগ হাতছাড়া হয়। ১০০৬ হিজরিতে (১৫৯৭ খ্রিষ্টাব্দে) আবদুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন। এক বছর যেতে না যেতেই ১০০৭ হিজরিতে (১৫৯৮ খ্রিষ্টাব্দে) তার পুত্র আবদুল মুমিন নিহত হন। এরপর দেশ থেকে শাইবানি (তথা উজবেক) প্রতিপত্তি ধুলোয় মিশে যায়। ক্ষমতায় আসে তাদেরই স্বজাতি নতুন এক গোত্র, যারা জানিয়িন নামে প্রসিদ্ধ।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 জানিয়া বংশের শাসন

📄 জানিয়া বংশের শাসন


এই শাসকবর্গ শাইবানিদের সমগোত্রীয়। এদের আবাস ছিল আস্ট্রাক্যান রাজ্যে। রুশ দখলদারির পর সেখানকার অনেক আমির হিজরত করে বুখারায় আশ্রয় নেয়। উজবেক শাইবানিদের আমলে তারা পুষ্ট হয়। অবশেষে এই অঞ্চলের ক্ষমতা হস্তগত করতে সক্ষম হয়। ১২০০ হিজরি (১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত প্রায় দুইশ বছর তারা শাসনকার্য পরিচালনা করে।

তাদের দীর্ঘ শাসনকালে সমগ্র দেশ কয়েকটি রাজ্যে ভাগ হয়ে যায়। এর মধ্যে বুখারা, ফারগানা, সমরকন্দ, খোয়ারিজম ও তুর্কিস্তানের অন্যান্য রুশ দখলকৃত ভূমি উল্লেখযোগ্য। আমু দরিয়ার পূর্ব তীরে অবস্থিত বলখ, বাদাখশান প্রভৃতি অঞ্চল পরবর্তীকালে আফগানিস্তানের অংশ হিসেবে পরিগণিত হয়। প্রথমত আমরা রুশ অধিকৃত অঞ্চলগুলোর আলোচনা করব, তারপর আফগান সংক্রান্ত আলোচনায় প্রবেশ করব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00