📄 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন আন্দোলন-সংগ্রাম
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান চীন আক্রমণ করে উত্তরাংশ কবজা করে নেয়। তুমুল আক্রমণ চালিয়ে ১৩৫২-১৩৫৭ হিজরির (১৯৩৩-১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের) মধ্যবর্তী সময়ে চীনের রাজধানী বেইজিং দখল করে রাখে। রাশিয়া জাপানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীনকে পূর্ণমাত্রায় সহযোগিতা করছিল। লড়াইয়ে নিজের পাল্লা ভারী করতে জাপান চীনের মুসলিমদের সাথে হাত মেলাতে আগ্রহী হয়। এজন্য দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পত্রপত্রিকা প্রকাশ ইত্যাদিতে তারা কোনোপ্রকার বাধা দেয়নি। এই সুযোগে মুসলিমরা নিজেদেরকে সুসংগঠিত করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রকাশনা, একাডেমি ও পত্রিকা গড়ে ওঠে। চীনাদেরকে ইসলাম গ্রহণের স্বাধীনতা দেয় জাপান সরকার। মুসলিমদের তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত হজ পালনে আগ্রহীদের জন্য যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা করে তারা।
এই অবস্থায় মুসলিমরা বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক ভাগ জাপানের পক্ষাবলম্বন করে। আরেক ভাগ চলে যায় রাশিয়াপন্থি কম্যুনিস্টদের পক্ষে। কম্যুনিস্টরা মুসলমানদের বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের পক্ষে ভিড়িয়ে নেয়। বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হয়। লাল বাহিনী জাপানিদের তাড়িয়ে চীনের প্রায় সর্বত্র নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। তাইওয়ান প্রদেশ তখনও এসব থেকে মুক্ত ছিল। সে অঞ্চলে শাসন প্রতিষ্ঠা করে চীনের পূর্ব শাসকগোষ্ঠী। এদিকে কম্যুনিস্টপন্থি রাশিয়া চীনে তার সম্প্রসারণবাদি নীতি ফলাতে শুরু করে। মুসলিমরা কাংসু প্রদেশে স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু লানচৌ যুদ্ধে কম্যুনিস্টদের কাছে তাদের পরাজয় ঘটে। সে যুদ্ধে মুসলিমদের সেনাপতি ছিলেন হুসাইন মাপুফাং। এরপর কম্যুনিস্ট বাহিনী পূর্ব তুর্কিস্তানে তাদের দখলদারি প্রতিষ্ঠা অব্যাহত রাখে। আলি খানের নেতৃত্বে ও রাশিয়ার সহযোগিতায় স্থানীয় মুসলিমরা প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে স্বাধীন এলাকা প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু চীনা কম্যুনিস্ট বাহিনী সমগ্র প্রদেশে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। বিপ্লবের নেতারা আত্মগোপন করতে বাধ্য হয়।
📄 দ্রষ্টব্য
’তুর্কিস্তানের স্বাধীনচেতা জনগণ এখনো স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু চীনের কঠিন দমননীতির ফলে স্বাধীনতার স্বপ্ন যেন ডানাভাঙা কোনো পাখি। যেকোনো আন্দোলন সেখানে কঠোর উপায়ে দমন করা হয়। সেখানকার মুসলমানদের জীবন কীভাবে কাটে, সে সম্পর্কেও বিশ্বমিডিয়া প্রায় অন্ধকারে থাকে。
বর্তমানে পূর্ব তুর্কিস্তানসহ সমস্ত চীনা অঞ্চল চলমান শাসনের আওতাভুক্ত। কেবল পশ্চিমা সহায়তায় স্বাধীনতা ধরে রাখতে পেরেছে তাইওয়ান। অবশ্য রুশ সহায়তায় মঙ্গোলিয়াও বিশাল ভূখণ্ড নিয়ে চীন থেকে পৃথক রাষ্ট্র গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। তার রাজধানী উলানবাটোর, যার পূর্ব নাম ছিল কারাকোরাম। চীনের উত্তর পশ্চিম দিকে মুসলমানের সংখ্যা বেশি। পূর্ব দিকে ধীরে ধীরে মুসলমানের সংখ্যা কমে এসেছে। চীনে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১০%। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ না করে মুসলিমদের কম সংখ্যক বুঝিয়ে হীনম্মন্যতা তৈরি করা সাম্রাজ্যবাদীদের পুরোনো কৌশল। তাই চীনও কখনো মুসলিমদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করে না। শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে সাম্রাজ্যবাদের আরেকটি কৌশল হলো ঐতিহাসিক নামগুলো মুছে ফেলা। এই প্রক্রিয়ায় বদলে ফেলা হয়েছে বহু প্রাচীন নাম। যেমন: উরমুজি, তিহো ইয়ারকন্দ, সুজি, কাশগর, শুফু প্রভৃতি।’