📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ওগেদাই

📄 ওগেদাই


চেঙ্গিস খানের পূর্বেই জোচি খানের মৃত্যু হলে অপর পুত্র ওগেদাইকে প্রধান খান নির্বাচিত করা হয়। ৬২৬ হিজরিতে (১২২৯ খ্রিষ্টাব্দে) চেঙ্গিসের মৃত্যুর পর ওগেদাই এ পদে অভিষিক্ত হন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 শ্লুক খান

📄 শ্লুক খান


ওগেদাইয়ের মৃত্যুর পর তার পুত্র গুযুক প্রধান খানের সিংহাসন লাভ করেন। সে সময় তিনি চাচাতো ভাই বাতু বিন জোচির অধীনে ইউরোপে যুদ্ধ করছিলেন। ৬৪৪ হিজরিতে খানে-আজম পদ লাভ করেই তার এক খ্রিষ্টান অভিভাবকের ইশারায় তিনি খ্রিষ্টান হওয়ার ঘোষণা দেন। তার সময়ে মোঙ্গল সাম্রাজ্যে পাদরি ও ধর্মীয় যাজকদের ব্যাপক বিস্তার দেখা যায়। পাদরিরা তাকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিশেষত তার চাচাতো ভাই বাতুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করতে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। কারণ, বাতু মুসলিমদের প্রতি কিছুটা সদয় ছিল। ৬৪৭ হিজরিতে (১২৪৯ খ্রিষ্টাব্দে) গুযুক খান বাতু খানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। কিন্তু সেন্যবাহিনী বাতু পৌঁছার আগেই তার মৃত্যু হয়। তাই কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ওগেদাই পরিবার থেকে খানে-আজম পদের ইতি

📄 ওগেদাই পরিবার থেকে খানে-আজম পদের ইতি


গুয়ুক খানের মৃত্যুকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন বাতু খান। তিনি সাম্রাজ্যের রাজধানী কারাকোরামে একটি শক্তিশালী বাহিনী পাঠিয়ে তুলুইপুত্র মাংকো খানকে প্রধান খান নির্বাচিত করেন। এর মাধ্যমে খানে আজমের পদ ওগেদাই বংশ থেকে অপসারিত হয়ে তুলুই বংশে জায়গা করে নেয়। ওগেদাইয়ের উত্তরসূরিরা বিষয়টি মোটেও সহজভাবে নেয়নি। তখন ওগেদাইদের কর্ণধার ছিল গুযুকের ভাই কাশিন।

মাংকো খান খানে-আজম হওয়ার পর পূর্ব তুর্কিস্তানের বিদ্রোহ দমন করতে তার ভাই কুবলাই খানকে নিয়ে রওনা হন। তার অনুপস্থিতিতে রাজধানীর দায়িত্ব অর্পণ করে যান আরেক ভাই আরতাক বুকার কাছে। কিন্তু রাজধানী কারাকোরামে ফিরে আসার আগেই মাংকো খানের মৃত্যু হয়। এ সময় জোচির পুত্র বারকে খান ও ওগেদাইয়ের পৌত্র কেদু উভয়ে আরতাক বুকাকে খানে-আজম হতে উদ্বুদ্ধ করে। এদিকে কুবলাই খানও ছিলেন সমান প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে আরতাক ও কুবলাইয়ের মাঝে লড়াই বেধে যায়। অবস্থাদৃষ্টে তাদের আরেক ভাই হালাকু খান পশ্চিম সীমান্তের রণাঙ্গন ছেড়ে গৃহবিবাদ মেটাতে চলে আসেন। হালাকু খান কুবলাই খানকে সমর্থন করেন এবং তাকে খানে-আজম বানাতে সক্ষম হন। এতে বিবাদ শেষ হয়। অতঃপর কাশিনপুত্র কেদুকেও পরাস্ত করেন হালাকু।

কুবলাই খান তার শাসনকেন্দ্র কারাকোরাম থেকে বেইজিংয়ে স্থানান্তর করেন। বেইজিং হয় মোঙ্গল সাম্রাজ্যের নতুন রাজধানী। এর ফলে ওগেদাই বংশের অধীনস্থ এলাকা দুই ভাগ হয়ে যায়।

এক.
মঙ্গোলিয়া ও পূর্ব তুর্কিস্তান। এই অঞ্চলের রাজধানী কারাকোরাম। এখানে ওগেদাইদের শাসন বহাল থাকে। পরবর্তীকালে এ অঞ্চলের শাসনে চাগতাই পরিবার প্রবেশ করে।

দুই.
বিশাল চীনা অঞ্চল। এই অঞ্চলের রাজধানী বেইজিং। এখানকার শাসক তুলুইপুত্র কুবলাই খান।

পৃথকভাবে উভয় অঞ্চলের অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত পুরো বিবরণ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 কুবলাই পরিবারের শাসন (৬৭৫-৭৬৯ হি./১২৭৬-১৩৬৮ খ্রি.)

📄 কুবলাই পরিবারের শাসন (৬৭৫-৭৬৯ হি./১২৭৬-১৩৬৮ খ্রি.)


কুবলাই খান খানে-আজম পদ লাভ করে রাজধানী স্থানান্তর করেন বেইজিংয়ে। তখন পর্যন্ত কেবল চীনের উত্তরাঞ্চলই ছিল মোঙ্গলদের শাসনাধীন। কুবলাই এসে ৬৭৯ হিজরির (১২৮০ খ্রিষ্টাব্দের) দিকে দক্ষিণ চীনকেও সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। কুবলাইয়ের হাতে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপিত হয়। ৭৭1 হিজরি পর্যন্ত চীনা সাম্রাজ্য কুবলাইদের দখলে ছিল। সাম্রাজ্যের শেষ পুরুষ হলেন তোগান তৈমুর। এই বংশের শাসকরা ছিল বেশ ফুর্তিবাজ ও বিলাসী।

চীনে ইসলাম আগমন করে মহান সাহাবি ও তৃতীয় খলিফা উসমান রা.-এর শাসনকালে। মুসলিম ব্যবসায়ী ও দাঈদের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইসলামের প্রবেশ ঘটে। উমাইয়া শাসনামলে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে চীনে দাঈদের আগমন বৃদ্ধি পায়। সে সময় আনুমানিক ১৬টি দাওয়াতি কাফেলা চীনে এসেছিল ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে। আব্বাসি আমলে আসে আনুমানিক ১২টি দল। তবে চীনে ইসলাম প্রচার-প্রসারের মূল সময়টা ছিল কুবলাই বংশের মোঙ্গলীয় শাসনামল। এ পরিবারের শাসকগণ ইসলাম গ্রহণকারী মোঙ্গলদের ওপর বেশ ভরসা করত। তাই অনেক সময় মুসলিম অঞ্চল থেকে সৈনিক ও বড় কর্মকর্তা চীনে আগমন করেছিল কুবলাইদের প্রয়োজনে। তুর্কিস্তান ও মাওয়ারাউন নাহারের বিপুল মুসলিম সৈন্য চীনে আগমন করে। কোনো সময়ে ১২টি প্রদেশে সৃষ্ট চীনা সাম্রাজ্যের ৪টি প্রদেশেরই প্রশাসক ছিল মুসলিমরা। মোঙ্গল সাম্রাজ্যে মুসলিম প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাঝে প্রসিদ্ধ একজন হলেন শামসুদ্দিন উমর। তিনি সাধারণ একজন সেনা অফিসার হিসেবে যোগদান করে পর্যায়ক্রমে থাইউয়েন শহরের সামরিক শাসক, বিনয়াং শহরের প্রশাসক, বেইজিংয়ের বিচারপতি ও পরবর্তীকালে তার শাসক, সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, একপর্যায়ে সিচুয়ান, ইউনান প্রদেশের শাসকে পরিণত হন। তিনি বিপুল পরিমাণ মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সম্ভবত চীনে টিকে থাকা অধিকাংশ প্রাচীন মসজিদ মোগল আমলেরই তৈরি। চীনে সে সময় মুসলমানদের বেশ কদর ছিল। জাগতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সভ্যতা-সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রেই তাদের ছিল অনন্য ভূমিকা। ব্যক্তিত্ব ও বৈশিষ্ট্যগুলোর ফলে সর্বাবস্থায়ই তারা উচ্চ সব পদে অধিষ্ঠিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00