📄 হুত বিপ্লব
সেনা অফিসার রেজা পাহলভি ও জিয়াউদ্দিন তাবাতাবায়ির নেতৃত্বে এই বিপ্লব সংঘটিত হয়। এটি ছিল ইংরেজ ও শাহের মধ্যকার সন্ধি বাতিল করানো এবং ইরানের নেতৃত্ব বদলের উদ্দেশ্যে এক রক্তপাতহীন বিপ্লব। ইংরেজরাও চাইছিল নিজেদের মনমতো কারও হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। রেজা পাহলভির মধ্যেই যেন তারা সেই স্বস্তির দেখা পায়। তারা যেমন চাইত, তিনি তেমনই ছিলেন। তিনি ছিলেন কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার পাগল। ইংরেজরা তাই গোপনে পাহলভিকে সাহায্য করতে লাগল।
আন্দোলনের মুখে শাহ আহমাদ শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন। তিনি জিয়াউদ্দিন তাবাতাবায়িকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব প্রদান করেন। ক্ষমতা লাভের পর তাবাতাবায়ি ইংরেজদের সাথে কৃত চুক্তি সমাপ্ত করতে চাইলেন। অন্যথায় নতুন শাসন সফল না হওয়ার সর্তকতা জানালেন ইংরেজদের। জেনে-বুঝেই ইংল্যান্ড তাতে সম্মত হয়ে যায়। কারণ, তারা ততদিনে গোপনে ক্ষমতা বিস্তারের পথে হাঁটতে শুরু করেছে।
তাদের ঘুঁটির চাল রেজা পাহলবি ছিলেন ভীষণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও ক্ষমতার সমঝদারও বটে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে সিংহাসনটাই মূল নয়; তাই তাবাতাবায়ির উত্থান তাকে বিচলিত করেনি। নীরবতার সাথে রেজা পাহলভি বাগিয়ে নেন সেনাবাহিনীর কাজাখ বিগ্রেডের দায়িত্ব। এরা ছিল ইরানি সেনাবাহিনীতে সংখ্যাগরিষ্ঠ। এখানেই ছিল ক্ষমতার চাবিকাঠি। এখানে ঠিকভাবে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হলে ক্ষমতার মসনদ উল্টে দেওয়া সময়ের ব্যাপারমাত্র। আর ঠিক সেভাবেই এগুতে থাকলেন রেজা পাহলভি।
তিনি শাসনের ওপর নিজের কর্তৃত্ব প্রকাশ করতে শুরু করেন। দেশের পুলিশ বাহিনীকে তিনি কৌশলে সামরিক দপ্তরের অধীনে নিয়ে এলেন এবং এই দপ্তরের প্রধান দায়িত্বশীল হলেন তিনি নিজে, পাশাপাশি সেনাবাহিনীর গরিষ্ঠ সংখ্যাটির প্রধানের দায়িত্ব তো আছেই। এরপর মনের গোপন অভিলাষ পূর্ণ করতে দেশীয় বিভিন্ন ব্লক ও সংগঠনের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। এদিকে নানা উপায়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে থাকেন, যেন নিজ থেকেই জনতা কোনো আন্দোলনের ডাক দেয়।
তিনি শাহ আহমাদকে চাপ দিতে থাকেন এক সময়ের সহযোদ্ধা জিয়াউদ্দিনকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে। এদিকে ইংরেজরাও শাহকে আহ্বান জানায় ক্ষমতায় যেন রেজা পাহলভিকে সমর্পণ করা হয়। শাহ আহমাদ সব বুঝতে পেরে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর একাধিক ব্যক্তি রাষ্ট্রশাসনের দায়িত্ব পালন করতে আসেন। কিন্তু সবাইকেই রেজা পাহলভির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ব্যর্থতা বরণ করতে হয়। ব্যর্থদের আর আগলে রাখা সম্ভব হলো না আহমাদ শাহের পক্ষে। বাধ্য হয়ে তিনি ক্ষমতায় নিয়ে আসেন রেজা পাহলভিকে। রেজার মনের আশা পূরণ হলো। নিজের অবস্থান পাকা করে তিনি এক অনুগত পার্লামেন্ট তৈরি করেন। সেই পার্লামেন্ট তাকে রাষ্ট্রের অভিভাবক নির্বাচন করে। এভাবে ১৩৪৪ হিজরিতে (১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে) ইরান থেকে কাজার শাসন বিলুপ্ত হয়ে সূচনা হলো পাহলভি শাসনের।