📄 নাসিরুদ্দিন শাহ
১২৬৪ হিজরিতে (১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে) ক্ষমতায় আসেন নাসিরুদ্দিন শাহ। সে বছরই বাবিয়া বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। বিদ্রোহী নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। হাসান বিন আলি মায়ানদারানিকে এবং ইংরেজ পৃষ্ঠপোষকতায় পালিত ভ্রান্ত বাহাইয়া মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা বাহাউল্লাহকে নির্বাসিত করা হয়। আফগান শাসক ও মুহাম্মদকে মোকাবিলা করতে ইংরেজদের সাথে হাত মেলান নাসিরুদ্দিন। কিন্তু ১২৭৪ হিজরিতে (১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে) ইংরেজ ও আফগানদের মাঝে প্যারিস চুক্তি সম্পাদিত হলে পশ্চিম আফগানিস্তানের ভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। এ সময় ইংরেজরা বুশহের বন্দর ও মুহাম্মারা বন্দর দখল করে নেয়। উত্তর দিকে রুশ অভিযান বাড়তে থাকে। এদিকে দক্ষিণ দিকে বৃদ্ধি পায় ইংরেজ তৎপরতা।
শাহের বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংঘটিত হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এক শিয়া আলেম। ইংরেজদের ক্রমসরাসরি ব্যাপারের সচেতনতা ও শাহের স্বেচ্ছাচার প্রতিরোধের ছিল আন্দোলনের লক্ষ্য।
নাসিরুদ্দিন শাহ আন্দোলনকারীদের মন জয় করতে ইংরেজ বণিকদের সাথে আসন্ন এক তামাক চুক্তি বর্জন করেন।
📄 মুজাফফর উদ্দিন শাহ
১৩১৩ হিজরিতে (১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে) ক্ষমতা লাভ করেন। তিনি আইনপ্রণয়নমূলক একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাকে একাধিক বিদ্রোহ ও আন্দোলনের মোকাবিলা করতে হয়। মৃত্যুবরণ করেন ১৩২৪ হিজরিতে (১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে)।
📄 মুহাম্মাদ আলি শাহ
তার শাসনকালে রাশিয়া ও ইংরেজরা মিলে ইরানে কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। মুহাম্মাদ আলি শাহ দেশে সেনাশাসন জারি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রুশরা তাতে বাধা দেয়। তারা পার্লামেন্ট ভবনে আক্রমণ চালায়। এদিকে দেশজুড়ে সরকারের স্বেচ্ছাচার ও রাশিয়ান কতৃত্ব বিরোধী আন্দোলন চাঙা হয়। মুহাম্মাদ আলি শাহ সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য হন। কিন্তু তাতেও আন্দোলন স্তিমিত হলো না। অগত্যা তিনি দেশ ত্যাগ করে রাশিয়া চলে যেতে বাধ্য হন। তার পুত্র নিতান্ত বালক আহমাদ শাহকে ক্ষমতায় বসিয়ে তিনি নির্বাসনে যান। তার অভিভাবক নির্ধারণ করা হয় আদদুল মালিককে (عَضْدُ الْمَلِكُ)। তার মৃত্যুর পর অভিভাবক নির্বাচিত হন আবুল কাসেম খান নাসিরুল মুলক।
📄 আহমাদ শাহ
আহমাদ শাহ ক্ষমতালাভ করেন অভিভাবকত্বের নির্বিঘ্ন ছায়ায়। তাই তিনি বিলাসী ও খেয়ালি জীবনযাত্রায় গা ভাসানোর সুযোগ পেয়ে যান। কিন্তু তার যখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার মতো বয়স হলো তখনও তার খামখেয়ালি ভাব দূর হলো না। এই সুযোগে রুশ ও ইংরেজরা কতৃত্ব প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে একাট্টা হয়ে ইরানকে তিন ভাগ করে ফেলে। প্রথম ভাগ উত্তর অংশ, এখানে চলবে রাশিয়ান কর্তৃত্ব। দ্বিতীয় ভাগ দক্ষিণ অংশ, এখানে প্রতিষ্ঠিত হবে ইংরেজ কর্তৃত্ব। তৃতীয় ভাগ মধ্যাঞ্চল, এটি থাকবে নিরপেক্ষ। এখানে চলবে তেহরানের শাসন। এই ভাগ বাটোয়ারায় উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট হয়। চুক্তি হলো কেউ কারও সাথে রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক উপায়ে টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করবে না।