📄 জাকি খান
কারিম খানের বৈপিত্রেয় ভাই জাকি খান। কারিম খানের মৃত্যুর পর তিনি ক্ষমতায় আরোহণ করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ান কারিম খানের পুত্র আবুল ফাতাহ। জাকি খান কৌশলের আশ্রয় নিয়ে দাবি করেন যে, তিনি হচ্ছেন কেবল কারিম খানের অনুগত সেনাপতি। এরপর ধীরে ধীরে যখন তার ক্ষমতা পোক্ত হয়ে ওঠে, তখন প্রতিপক্ষকে কঠোর উপায়ে দমনের নীতি গ্রহণ করেন জাকি খান। দেখে দেখে সব বিরোধীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। কিন্তু জাকি খানের সৈনিকের একাংশ কারিম খানের অপর ভাই সাদেক খানের দলে ভিড়ে। এমতাবস্থায় সাদেক খানের সহযোগিতায় হাত বাড়ানো প্রতিটি লোকের ওপর জাকি খান কঠিন হুঁশিয়ারবাণী উচ্চারণ করেন। এতে লোকেরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে।
জাকি খান তার সেনাপতি মুরাদ খানের নেতৃত্বে কাজারদের বিরুদ্ধে একটি সেনাদল পাঠান। কাজার সেনাপতি ছিলেন আগা মুহাম্মাদ। কিন্তু মুরাদ খান বিশ্বাসঘাতকতা করেন জাকি খানের সাথে। ১১৯৫ হিজরিতে (১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি জাকি খানকে অতর্কিত আক্রমণ করে হত্যা করে ফেলেন।
📄 জানদি সাম্রাজ্যের পতন
জাকি খানের মৃত্যুতে কারিম খানের পুত্র আবুল ফাতাহের ক্ষমতায় বসার সুযোগ উন্মুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু বাধ সাধলেন তার চাচা সাদেক খান।
সাদেক খান আবুল ফাতাহকে সরিয়ে নিজে ক্ষমতায় বসেন। কিন্তু লাভ হলো না, তার ক্ষমতার বাগডোর টেনে ধরলেন সেনাপতি আলি মুরাদ খান। সাদেক খানসহ জানদি পরিবারের সবাইকে হত্যা করলেন মুরাদ খান। শুধু জাফর খান নামে একজন জীবিত ছিল। মুরাদ খান ও কাজারদের মাঝে লড়াই শুরু হলে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা জাফর খান বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে পথের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করলেন মুরাদ খান।
এরপর যুদ্ধ চলল জাফর খান আর কাজার নেতা আগা মুহাম্মাদের মাঝে। যুদ্ধ চলাকালে জাফর খানকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়। তার পুত্র লুতফ খান ক্ষণিকের জন্য সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। কিন্তু কাজারদের সাথে তার পরাজয় ঘটে। আত্মসমর্পণ করেন লুতফ খান। তাকে হত্যা করা হয়। কাজাররা জানদিদের অবশিষ্ট প্রত্যেককেই হত্যা করে। ১২০৯ হিজরিতে (১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে) জানদিদের কোনো চিহ্নও আর বাকি থাকল না।